Blood King Or Lover |Part-01

In Vampire Kingdom,

-কিং, আমাদের প্রিন্স এখন আপনার এই সিংহাসনের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য উপযুক্ত। তাই বলি কি, উনাকে কিং হিসেবে ঘোষণা করলে ভালো হয়।(ইথেন, ভ্যাম্পায়ার কিং এর সবথেকে ঘনিষ্ঠ একজন সংগী)
-আমিও তাই ভাবছিলাম, ইথেন।কিন্তু প্রিন্স যেই বদমেজাজি,হিংস্র আর রাগী, একে কিং বানালে রাজ্যের সকলকে খুব সাবধান থাকতে হবে।(এরেন এডরিন, ভ্যাম্পায়ার রাজ্যের কিং)
-তাও ঠিক বলেছেন। সুই পরিমাণ ভুলেরো কোন ক্ষমা নেই প্রিন্সের নিকট, সব ভুলের একটাই শাস্তি, আর তা মৃত্যু।তবে আমার মনে হয়, ভ্যাম্পায়ার রাজ্যের জন্য প্রিন্সই উত্তম।(ইথেন)
-কি কথা হচ্ছে??

হঠাৎ গম্ভীর কণ্ঠে বাক্যটি শুনে কিং এবং ইথেন দুজনই ঘুরে পেছন দিকে তাকায়।

-তেমন কিছু নয়ব,তোমার কথাই হচ্ছিল। অনেক তো হলো, এবার তো সিংহাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করো,রিয়ন। আমি আর কতো?(কিং এরেন)

রিয়ন এডরিন, ভ্যাম্পায়ার রাজ্যের একমাত্র উত্তরাধিকারী, একমাত্র প্রিন্স। ফর্সা গায়ের রং, রক্তবর্ণ চোখ।ব্রাউন কালারের ঘন চুল স্পাইক করা, যার কয়েকটা সামনে এসে ডার্ক কালারের ভ্রুর সাথে খেলা করছে। সিক্সপ্যাক বডি, মুখে গাম্ভীর্যতা।পরনে ব্লাক শার্ট ও ব্লাক প্যান্ট,হাতে ব্র‍্যেন্ডেড ঘড়ি। ভ্যাম্পায়ার রাজ্যের সবথেকে হিংস্র ও শক্তিশালী ভ্যাম্পায়ার। যেমন তার রাগ তেমন তার এটিটিউড। রিয়নের কাছে ভুলের একমাত্র শাস্তি হলো মৃত্যু। কিং এরেন নিজেও তার ছেলেকে ভয় পায়।

-বাবা, আমি সিংহাসনে বসার আগে মানুষের দুনিয়া দেখতে চাই, তাদের সম্পর্কে ভালোমতো জানতে চাই। (রিয়ন)
-কিন্তু প্রিন্স, মা,,,,,,,,ইথেন বাকিটুকু বলতে পারে না, কারণ রিয়ন ইথেনের দিকে চোখ ছোট ছোট করে তাকায়। আর ইথেন ভয়ে চুপ হয়ে যায়।

-কিন্তু, রিয়ন। মানুষের দুনিয়া কতোটা বিপদজনক হতে পারে, তা ভেবেছ? মানুষ আমাদের ভ্যাম্পায়ারদের মেরেও ফেলতে পারে। (কিং এরেন)
-আমাকে তুমি বিপদের ভয় দেখাচ্ছ, বাবা?(রিয়ন ভিলেনমার্কা হাসি দিয়ে বলে)
-ওকে, তুমি যা বল। কিন্তু একা যেতে পারবে না, স্টিভকে সাথে নিয়ে যাবে।(কিং এরেন)
-ওকে। বাট বাবা, আমি তোমার বিজনেস সামলাতে যাব না, আমি যেকোন একটা কান্ট্রির যেকোন ফেমাস একটা ভার্সিটিতে পড়তে চাই। তাই কালকের ভেতরই যা করার করো। আমি দেরি আর ভুল সহ্য করি না ভালো মতোই জানো।

বলেই রিয়ন হন হন করে চলে যায়।

-ইথেন, জ্যাক কি এখনো ভার্সিটিতে আছে?(কিং এরেন)
-ইয়েস, কিং৷ আমি কি কথা বলব মি.জ্যাকের সাথে?(ইথেন)
-হুম (কিং এরেন)

ইথেন মাথা ঝুকে কিং এরেনকে সম্মান জানিয়ে চলে যায়।কিং এরেন বসে বসে কিছুক্ষণ ভাবতে থাকে। তারপর উঠে চলে যায় রিয়নের রুমে। রিয়ন কোথাও যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল।

-কোথাও যাবে? রিয়ন?(কিং এরেন)

কিং এরেনের কন্ঠ শুনে রিয়ন একনজর তার বাবার দিকে তাকায় আর পুনরায় নিজের কাজ করতে থাকে।

-হুম, শিকারে। রক্ত পিপাসা জেগেছে আমার। কিছু বলবে?(রিয়ন)
-হ্যা, কিছু কথা বলার ছিল। তোমার যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। কালই ইচ্ছে করলে যেতে পার (কিং এরেন)
-আরেহ বাহ, মনে হচ্ছে আমাকে যতো তাড়াতাড়ি পাঠাবে তোমরা ততো শান্তিতে থাকবে। (রিয়ন তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলে)
-সেরকম কিছু হলে তোমাকে কিং বানানোর কথা কেউ চিন্তা করতো না, রিয়ন। শুন, তুমি মানুষের দুনিয়ায় যাবে ঠিকই, কিন্তু কেউ যেন না বুঝে যে তুমি ভ্যাম্পায়ার৷ আর হ্যা, অবশ্যই রাতের বেলা শিকার করবে। আর মা,,,(কিং এরেনকে কথার মাঝেই থামিয়ে দিয়ে রিয়ন বলে)

-আমি ছোট বাচ্চা নই। আমি জানি কি কি করতে হবে আর কি কি না। (রিয়ন)
-ওকে, এই লকেটটা নেও, সবসময় সাথে রাখবে। (কিং এরেন একটা ব্লাক ব্যাট শেপের লকেট দিয়ে বলে)
-এটা কিসের?(রিয়ন লকেটের দিকে তাকিয়ে বলে)
-এটা তোমাকে রোদের আলো থেকে রক্ষা করবে। (কিং এরেন)
-ওকে, (রিয়ন গলায় পড়ে নেয়) বাই দ্যা ওয়ে, কোন দেশে যাচ্ছি?(রিয়ন)
-বাংলাদেশ (কিং এরেন)
-হোয়াট? আর ইয় ক্রেজি বাবা? আর কোন দেশ পাও নি?(রিয়ন রেগে যায়)
-রিয়ন, কাম ডাউন। বাংলাদেশে তুমি সেফ থাকবে, কারণ সেখানে মানুষ ভ্যাম্পায়ার,ওয়্যারওল্ফ এসবে বিশ্বাস করে না।আর তুমি তোমার জ্যাক আংকেলের ভার্সিটিতে পড়বে। (কিং এরেন)
-বাট,,, (রিয়ন)
-রাজী থাকলে যাবে না হলে সব ক্যান্সেল (কিং এরেন)
-হোয়াটএভার

রিয়ন হনহন করে বেরিয়ে যায়।

In the Dark Forest,

রিয়ন দৌড়ে এসে একটা গাছে লাথি মেরে এক হাটু আর হাত মাটিতে ঠেকিয়ে মাথা নীচু করে বসে পড়ে। রিয়নের সামনে একজন ছেলে দাড়িয়ে আছে। রিয়িন তার দিকে তাকিয়ে উঠতে উঠতেই পেছন থেকে গাছটি কড়মড় করে ভেঙে মাটিতে পড়ে যায়।

-হেই, ডিউড, এতো ফায়ার হয়ে আছিস কেন?
-বাবা মানুষের দুনিয়াতে যাওয়ার জন্য সব ব্যবস্থা করেছে, স্টিভ (রিয়ন)

স্টিভ, ইথেনের ছেলে আর রিয়নের সব থেকে ভালো বন্ধু।ছোট থেকে একসাথে বড় হয়েছে। ব্লাক ঘন চুল, ব্লাক ভ্রু, রক্তবর্ণ চোখ। ফর্সা গায়ের রং, কফি কালারের শার্ট আর জিন্সের প্যান্ট। হাতে বয়েস ব্র‍্যাচ আর ব্র‍্যান্ডেড ঘড়ি।

-এতে রাগের কি হলো? (স্টিভ)
-রাগের বিষয় তা নয়, রাগ হচ্ছে কারণ, কারণ বাবা বাংলাদেশ বেছে নিয়েছে (রিয়ন)
-ওহ, আমাকে একা রেখে চলে যাবি?(স্টিভ)
-তোকে নিতে যাব কোন দুঃখেরে? সব রেডি করে রাখিস, কালই রওনা দেব (রিয়ন কোমরে হাত রেখে বলে)
-ইয়েস, (স্টিভ খুশি হয়ে বলে)
-বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য এতো এক্সাইটেড হওয়ার কি আছে?(রিয়ন ভ্রু কুচকে তাকায়)
-আরে, তুই তো জানিস না। বাঙালী মেয়েরা শাড়ি পড়লে বা বাঙালী সাজে সাজলে নাকী পরীর থেকেও সুন্দর লাগে। ওদের চেহারায় নাকি অনেক মায়া। আর বাংলার কালচা,,,,,,,(স্টিভ)
-এনাফ, আর বলতে হবে না, গিয়েই,,,,,, (রিয়ন বাকিটুকু বলে না)
-কি হ,,,,,(স্টিভকে থামিয়ে দেয় রিয়ন)
-হুশশশস,,,,,(রিয়ন তার ঠোঁটে হাত দিয়ে বলে)

হঠাৎ একটা নেকড়ে গাছের আড়াল থেকে বেড়িয়ে আসে, যা রিয়নের দিকেই তাকিয়ে এগিয়ে আসছে। রিয়ন নেকড়েটার চোখে চোখ রেখে ভিলেন মার্কা এক হাসি দেয়। নেকড়ে তেড়ে আসে রিয়নের দিকে। রিয়ন বিদ্যুতের মতো এক ঝটকায় নেকড়ে কে মাটিতে ফেলে চেপে ধরে। নেকড়েটা ঘাড়ে কামড় বসিয়ে রক্ত পান করতে থাকে। স্টিভ বোবার মতো দেখছে সব।
রক্ত পান শেষ হলে রিয়ন উঠে আসে। রিয়নের চোখ দেখে মনে হচ্ছ,,,,,,,,,,,,

চলবে,,,,,,,,

Writer:_Maya

🔥19 view

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *