সংসার সুখের হয় রমণীর গুনে। উম্মে জামিলা

আমাকে তুমি আজই বাবার বাড়ি রেখে আসো। এ বাড়িতে তোমার মা’র সাথে থাকতে পারবোনা। বিয়ের আগেতো খুব বলতে আমার জন্য তুমি সব পারো, এখন মাকে ছাড়তে পারছোনা?

মুহিন মায়ের একমাত্র সন্তান। বাবা মারা যাওয়ার পর একে অন্যকে আঁকড়ে বেঁচে আছে।
বছরখানেক আগে মুহিন আর সিথী পালিয়ে বিয়ে করে।
বড়লোকের খামখেয়ালি মেয়ে যখন যেমন চায় তেমনই পেতে চায়। তেমনই একটা ঘটনা ঘটলো আজ ।
সিথীর ইচ্ছে হয়েছে আজ সে ছেলে বন্ধুদের সাথে লং-ড্রাইভে যাবে। মুহিনের মা যাবার অনুমতি দেননি।
সে জন্যই মুহিন অফিস থেকে ফেরার সাথে সাথেই তার কাছে নালিশ করলো।

রোজকার এই অশান্তি আর ভালোগছেনা মুহিনের। সিথীর আচরণ আর মেনে নিতে পারছেনা।
অথচ কিছুদিন আগে কি সুন্দর সংসার ছিল তাদের।
পরক্ষণেই আবার সিথীর চেচামেচি তার কানে এসে বাঁধলো।
মুহিন সিথীকে তার কাছে ডেকে এনে বসালো।
মুহিন- একটা প্রশ্ন করি তোমাকে?
সিথী- হুম!
মুহিন- আচ্ছা সিথী আমদের বিয়ের প্রথম দিকে মার সাথেতো খুব অল্পতেই মানিয়ে নিয়েছিলে, তখনতো এমন অশান্তি ছিলনা পরিবারে।
তবে কেন আজ এমন অশান্তি?

সিথী- তখন মানিয়ে নেয়ার প্রয়োজন ছিল তাই মানিয়ে নিয়েছি। এখন আর কোনো ভাবনা নেই, বাবা বিয়ে মেনে নিয়েছে। বাবাতো বললোই আমার নামে একটা ফ্ল্যাট লিখে দিবে।
মুহিন- ওহ আচ্ছা! এই ব্যাপার তাহলে?
তবে শোনো তুমি আমার সাথে পালিয়ে বিয়ে করার পর আমার মা ই তোমাকে বুকে জড়িয়ে নিয়েছেন।

আর একটা জিনিস খেয়াল করেছো যখন তুমি মানিয়ে নেয়া ছেড়ে দিলে তখনই শুরু হলো সংসারে অশান্তি। কিন্তু তুমি ইচ্ছে করলেই সংসারে শান্তি বজায় রাখতে পারো।
আর তোমার বাবার ফ্ল্যাটের কথা বলছো?
তুমিকি জানো?
আমার মা এই ঘরে কেনো পড়ে আছে?

আমার মৃত বাবার শেষ চিহ্ন এই বাড়ি। আমার নানা অনেক চাওয়া সত্বেও সেই বাড়িতে যাননি। আর তুমি আমি জীবিত থাকতেই আমার বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়ি থাকতে চাচ্ছো?
একটু ভেবে দেখোতো মানিয়ে নেয়াতে কোনো অশান্তি আছে কি-না।

সিথী বুঝতে পারলো সে ভুল পথে হাঁটছে। তাই নিজের কাছে নিজে ওয়াদা করলো আর কখনো অশান্তি করবেনা। কারণ, সংসার সুখের হয় রমণীর গুনে।

সমাপ্ত!

🔥16 view

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *