bangla story

সাদিয়া আফরিন লাবনীর লেখা “বিচার “

.”ভরা মজলিশে পরে থাকা “রামদা” টা তুলে মোড়লের ছেলের দিকে ছুড়ে মারে নূরি। বুকে বেঁধে গেছে “দা”টা। নিঃশব্দ হয়ে গেছে চারপাশ।সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে নূরির দিকে।কত বড় সাহস মেয়ের শেষে কিনা মোড়লের ছেলের দিকেই “দা” মারলো”।

.কিছুক্ষণ আগের ঘটনা। নূরিকে নিয়ে গ্রামে কথা কানাকানি চলছে। নূরি অন্তঃসত্ত্বা। কে এই বাচ্চার বাপ এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সবাই।সালিশ বসেছে মেড়লের মজলিশে।

.রহিম চাচা,মিথীলার দাদি,তিন্নির মা, যাদেরকে নূরি সব থেকে বেশি ভালোবাসতো।তারা সবাই বলে উঠলো-
মেয়ের চরিত্র খারাপ তা আমরা আগেই বুঝেছিলুম। না হলে কেউ বিয়ের আগে ছিঃ ছিঃ..

দাঁতে দাঁত লাগিয়ে সবকিছু চুপচাপ শুনছে নূরি।আকুতি নিয়ে তাকিয়ে আছে মোড়লের ছেলে অনিকের দিকে। কেন অনিক কিছু বলছে না। তারা যে দুজন দুজনকে ভালোবাসে। অনিক যে স্বপ্ন দেখিয়ে ছিল তাকে বিয়ে করবে।বাচ্চার দায়িত্ব নিবে এখন তাহলে চুপ করে আছে কেন?

.একটা শব্দ উচ্চারণ করতে পারছে না নূরি।কি করিনি এই লোকগুলোর জন্য।আজ তারাই সুযোগ পেয়ে আঙ্গুল তুলেছে। মা ঠিকই বলতো “দুনিয়াতে কেউ কারোর না”।

.মোড়ল বলে উঠলো-
মা নূরি যা শুনছি সব কি সত্যি।

নূরি মোড়লের ছেলের দিকে সাহস করে তাকিয়ে বললো, “আপনার ছেলেকে শুধান মোড়ল সাহেব”।

মোড়ল এবার হুংকার দিয়ে উঠলো -কি? সুযোগ পেয়ে তুই আমার নির্দোষ ছেলের দিকে আঙ্গুল তুলছিস।নিজে চরিত্র খারাপ করে এখন আমার ছেলের দিকে আঙ্গুল তুলছিস। এই চরিত্রহীনা মেয়েকে গ্রাম থেকে বিতাড়িত করো। দ্বিতীয় বার যেন এই ঘটনা আর না ঘটে।

নূরি মনে মনে বললো, এই নিয়ে আগেও পাঁচটা মেয়ে গ্রাম ছাড়ছে। চারজন গলায় দড়ি দিয়ে মরছে।আর একজন পাগল হয়ে বেঁচে আছে।তবে আমি আজ এর শেষ করে ছাড়ব।আর কোন মেয়েকে এত কঠিন অপবাদে গ্রাম ছাড়তে দিমু না।

.ভাবনা ছেদ করেই “দা”টা তুলে নিয়ে মোড়লের ছেলের দিকে ছুড়ে মারে নূরি। শব্দ করে হাসতে থাকে। চিৎকার দিয়ে বলে, “আমি আজ সঠিক বিচার করলাম মোড়ল সাহেব”।পাপের বিনাশ করলাম। “গ্রামে আর কোন মেয়েকে চরিত্রহীনা হতে হবে না”।

#গল্প:বিচার

Sadia Afrin Laboni

🔥17 view

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *