গল্পঃ মাত্রাতিরিক্ত লোভের পরিণতি

লিখাঃ মোস্তাফিজুর রহমান (জিহাদ)

রাতে টিউশনির পর ফিরছিলাম মেসে,

হঠাৎই কোনো আগন্তুক পথ আঁটকে দাঁড়ালো। অশ্রুসিক্ত লোচনে তাকিয়ে আছে আমার দিকে।

– কিছুটা ইতস্ততভাবে- জ্বি ভাইয়া, কিছু
বলবেন? এভাবে পথ আঁটকে দাঁড়ালেন
যে?

– তুমি কি লোভী? অতিরিক্ত বেশী? আর কখনো লোভ করবে? তুমিই সবকিছুর জন্য দায়ী তবে। আমার ভাই, বাচ্চা, বউ ! হায়..আমার বাহু দিয়েই সবকিছু হলো! কান্নাজড়িত কণ্ঠে একনাগাড়ে অকণ্টকে বলে গেল আগন্তুক। পরক্ষণেই ভো দৌড়।

– আমি থ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। ভাবছিলাম-
নিশ্চয়ই উনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। কথা-বার্তা’র ধরণ,
জরাজীর্ণ পোশাক-পরিচ্ছদ, জটলা চুল ও অপরিষ্কার
দেহ হয়তো এটাই ইঙ্গিত করে!
.
.
.
খুব কাছে পিছন থেকে কেউ ডাক দিল। পিছনে তাকাতেই দেখি ঊনত্রিশ-ত্রিশ বছরের কেউ। বেখেয়ালে ছিলাম বলে হয়তো দেখিনি। অপরিচিত হলেও সম্মানার্থে বললাম,

– জ্বি, বলেন।

– একটু হেসে- ও চেনা-অচেনা সবাইকে বলে এসব।

– সবার সাথে! কিন্তু কেন বলেন উনি ?

– অকপটচিত্তে- সে ছোটখাটো ব্যবসায়ী ছিলেন। স্ত্রী- সন্তান নিয়ে ভালোই ছিল। তূলনামূলক বেশি অর্থের মালিক বড় ভাই ছিল বিদেশে। দু’বছর এর বড় হলেও এখনো বিয়েটা করা হয়নি। এই উপলক্ষেই বাড়ি এসেছিলেন এবার। কিন্তু স্বপ্নটা যে পূরণের নয়! কুচক্রী বউয়ের কথায় নির্দয়ভাবে হত্যা করে বড় ভাইকে স্বাভাবিক মৃত্যুর অবিকল। মৃত্যুর পর অংশানো সম্পদ কার নামে হবে এটা নিয়ে ঝগড়া। যা খুনে রূপ নিল। খুন হওয়া থেকে বাদ যায়নি তাদের ছোট্ট ছেলেটি ও। দিনশেষে ধন-সম্পদ মৃত্তিকার উপরেই শুধু আমরা মৃত্তিকার নিচে। আমার লোভীদের প্রতি কোনো অভিযোগ অনুযোগ নেই৷আমি তার মৃত ভাই।

– তা..তা..তার মানে আপনি উনার বড় ভাই। আ..আ.. আপনারা ভূ..ভূ..ভূত!

তক্ষুনি জ্ঞান হারালাম আমি।
.
.
.
সকালে বন্ধু জিহাদ এর ডাকে ঘুম ভাঙলো। জেগে- এটা স্বপ্ন ছিল! হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম… উফ!

– আচ্ছা জাইন! রাতে তুই অজ্ঞান হলি কিভাবে? তোকে বাসায় এটা কে নিয়ে এল? আগে কখনো দেখেনি। তোর কোনো রিলেটিভ বুঝি?

এই চিরকুটটা দিলেন। বলে পড়তে লাগলো-


“লোভ একটা মনের নেশা কেবল। যেথায় আসক্ত হলে
পতন অবধারিত।”

– শোনার পর শরীরটা ঘামতে লাগলো।

– আমায় বলবি তোর কি হয়েছে?

– জিহাদ রাতে আসা ব্যক্তিটি আত্মা ছিল। ◻

বিঃদ্রঃ ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

🔥30 view

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *