story

ভাড়াটে খুনি।

জামগাছের নিচে একটা আস্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে বড্ড অবাক হলাম।

মাঝরাত।
জ্যোৎস্নাময় রাত। ভ্যানগাড়ি’টা নিয়ে চলছি কোনো এক গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। চাঁদটার দিকে লক্ষ্য করলাম, এ যেন এক চকচকে সাদা থালা। বোধহয় সূয্যিমামা আজ তার ভাইকে বেশি খেতে দিয়েছে, তাইতো চাঁদ মামার দেহটা আজ তাগড়া লাগছে।

তিন চাকার ভ্যানগাড়ির প্যাডেল চাপতে আমার কোনো সমস্যা হচ্ছে না। চাঁদ মামা’টা খুব ভালো, আলো ধরে রেখেছে আমার দিকে। ভ্যান’টা এনে থামালাম একটা জামগাছের নিচে।

” এ কী! এখানে একটা লাশ! “
মৃদু আওয়াজে নিজে-নিজে বললাম। দেহের গঠন দেখেই বুঝতে পারলাম এটা আদিবের দেহ। কাছে গেলাম, মুখটা থ্যাতলানো। ছিহ! এভাবে কেউ খুন করে!

সে যাইহোক, দেহটা গন্তব্যস্থানে পৌঁছে দেয়া আমার কর্তব্য। লাশটা ভ্যানে উঠিয়ে প্যাডেল চাপতে শুরু করলাম আদিবের আসল বাসভূমির দিকে।

নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাতেই দেখলাম সোহান দু-দুটি কবর খুঁড়ে পড়নের লুঙ্গিটা দিয়ে মুখের ঘাম মুছতেছে মাত্র। ভ্যানের কাছে এসে সোহান বলল, ” কীরে! আরেকটা লাশ কোথায়? “
আমি মুচকি হেসে বললাম, ” চারিপাশে খুঁজেও পাইনি, হয়তো বন্য জানোয়ারেরা টেনে নিয়ে গেছে দেহটা। “

সোহান আফসোস করে বলল, ” আহারে, বেচারা সজীব! শেষ মাটিও মিললো না তার কপালে।”
কিছু না বলে ভ্যান থেকে আদিবের দেহটা নামিয়ে ছুঁড়ে ফেললাম গর্তটার দিকে।

চাঁদ মামা’কে সূয্যিমামা আজ বেশি খেতে দিয়েছিল বিধায় চাঁদ মামা আজ যেমন বড্ড খুশি, নিজ ভাইপো আদিব এবং সজীবকে খুন করে সব সম্পত্তি পাওয়াতে জাফর মিয়াও তেমনি খুশি বোধহয়।

বিনিময়ে টাকা পেলাম অনেক। পাশে দাঁড়িয়ে টাকাগুলো গুনতে-গুনতে সোহান আমাকে উদ্দেশ্য করে বলল, ” সজীবের গলাটা কিন্তু তুই চেপে ধরেছিলি। ভুল করে হলেও পুলিশের কাছে লাশটা গেলে বুঝবি তখন! “

গল্প : ভাড়াটে খুনি।
লেখা > Sajeeb AS

🔥8 view

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *