Blood King Or Lover |Part-04

কিছুদূর যেতেই স্টিভ আর রেয়হান হো হো করে হেসে উঠে। রিয়ন কপাল কুচকে তাদের দিকে তাকায়,

-হাসছিস কেন?(রিয়ন)
-ইয়ার, আমি হাসছি এটা ভেবে যে SRK এর মুভির সিন শুরু হওয়ার কথা, তুই তো মায়াকে ছেড়ে দিয়ে ব্যান্ড বাজিয়ে দিলি (রেয়হান)
-আর আমি হাসছি এটা ভেবে, যে এই মেয়ের কথার ধরণ এমন কেন?(স্টিভ) {(স্টিভের বাচ্চা 😒)}
-হাসা হলে এখন চুপ করে থাক (রিয়ন)

বলেই রিয়ন চলে যায়, রিয়নের পেছন পেছন স্টিভ আর রেয়হানও যায়।

In Hasan mansion,,

-কতো বড় সাহস,লাল চুলওয়ালা হনুমান, দুম্বা, রাত জাগা বাদুড়, কুকুরের পা, বিড়ালের লেজ, আফ্রিকান জংলী, উগান্ডার ছ্যাচড়া, ময়লার স্তুপের তেলাপোকা, হাতির হালুয়া, আর কি আর কি? আরে ধুর মনে পড়ছে না,,,,

মায়া এসব বিরবির করে বলতে বলতে বাসায় ঢুকে সিড়ি দিয়ে উপরে উঠতেছিল।পেছন থেকে মায়ার মা ডেকে উঠে।

-কিরে মায়া? আজ এতো তাড়াতাড়ি চলে আসলি কেন?(মা)
-ঘুম পাচ্ছে তাই, (রাগী কন্ঠে বলে মায়া)
-রেগে আছিস কেন? বলতো? আর কাকে বকতে বকতে এলি?(মা)
-এক লেজকাটা শেয়ালকে, শালা খবিস, শয়তানের খালাতো ভাইয়ের ছেলে, হারামি, বকের ঠ্যাং,,,, (মায়া হাফ কথা বলে)
-আরেহ,থাম থাম, আগে বল কি হয়েছে? (মা)
-সব দোষ অই সিতারার। (মায়া)
-এরই মধ্যে সিতারা কি করল? ও না সিলেট আছে? (মা)
-হ্যা,হ্যা ওরই দোষ, কে বলেছিল? কে বলেছিল ওকে আমাকে একা ফেলে সিলেট যেতে? আর,,, (মায়া)
-এই মেয়ে নিজেও পাগল আমাকেও পাগল করে দেবে (মা)
-মা, বকা দিলে ভালোমতো দিবে। আমাকে কি দেখে ছেলে মনে হয়? যে পাগল হবো? আমি মেয়ে তাই পাগলি বলো। এখনো জেন্ডারই বুঝ না, ধ্যাত (মায়া)

মায়া সিড়ি দিয়ে উপরে চলে যায়।
-হায় আল্লাহ, একে যে কি বানিয়ে আমার কোলে পাঠিয়েছ, তা তুমিই জানো (মা)

মায়া তার রুমে এসে ব্যাগ ঢিল দিয়ে বিছানায় ফেলে দেয় আর নিজের জামা বের করে শাওয়ার নিতে যায়। শাওয়ার অন করে তার নিচে দাঁড়িয়ে থাকে মায়া,,,,

-আহ, শান্তি শান্তি, একমাত্র তুই-আর বৃষ্টিই পারিস, ডিয়ার ঠান্ডা পানিরা, আমার মাথাকে ঠান্ডা করতে। কিন্তু কালকেও ভার্সিটিতে গেলে অই অই রিয়ন না টিয়ন তার সাথে দেখা হবে আর ধুপ করে মাথায় আগুন ধরে যাবে। ওহ আল্লাহ, প্লিজ, মাথা গরম হলে বৃষ্টি বর্ষন করো।

মায়া এসব বিরবির করে বলে। প্রায় ৫০ মিনিট পর মায়ার মা তার রুমে আসে, এসে দেখে মেয়ে রুমে নেই। তাই ওয়াশরুমের দরজায় নক করে।

-মায়া,,এই মায়া,,,আর কতো? ঠান্ডা লাগালে কিন্তু তোর খবর আছে। বের হো বলছি (মা)

তখনই মায়া চুল মুছতে মুছতে বেরিয়ে আসে। মায়া ব্লাক কালারের প্লাজু আর ব্লু কালারের ডিসাইন করা কামিজ পরে।

-কি মা? শান্তি মতো শাওয়ার নিতে দিবে না? নাকি?(মায়া)
-চুপ, এতো ভিজলে অসুখ হলে কে তোকে টানবে? (মা)
-বাহরে,টানতে হবে কেন? আমি তো বিছানায়ই শুয়ে থাকব(মায়া)
-তোর সাথে কথায় পারা যাবে না। খাবার দিচ্ছি, খেতে আয়

বলেই মায়ার মা চলে যায়। মায়া ও কিছুক্ষণ পর নীচে যায়।

অন্যদিকে,

শাহরিয়ারের স্কুলের সামনে এসে গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রিয়ন আর স্টিভ। কিছুক্ষণ পরই ছুটি হয় আর ছেলেমেয়েরা দৌড়ে বের হয়। শাহরিয়ার ও রিয়নের কাছে আসে।
-হেই, হিরো, হাউ ওয়াজ ইউর ডে?(রিয়ন)
-ফ্যান্টাস্টিক। (শাহরিয়ার)
-ওকে, গাড়িতে উঠো(রিয়ন)

দুজনেই গাড়িতে উঠে বসলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় রিয়ন।

-রিয়ন ভাইয়া, জানো আজকে সবাই আমার সাথে পরিচিত হয়েছে, আর বন্ধুত্বও করেছে। (শাহরিয়ার)
-সত্যি? কেউ জ্বালাতন করে নি তো?(রিয়ন)
-না(শাহরিয়ার)
-সমস্যা হলে, বা সিনিয়ররা কিছু বললে তোমাদের যে স্মিথ স্যার আছে না?(রিয়ন)
-হুম(শাহরিয়ার)
-ঊনাকে বলবে (রিয়ন)
-স্মিথ এই স্কুলের টিচার?(স্টিভ)
-হুম,আর তাই আমি শাহরিয়ারকে এই স্কুলে এডমিট করিয়েছি (রিয়ন)

কিছুক্ষণ পর রিয়নরাও বাড়ি পৌছে যায়। বাড়ি এসে কলিংবেল চাপতেই একজন লোক এসে দরজা খুলে দেয়।
রিয়ন, স্টিভ আর শাহারিয়ার ভেতরে প্রবেশ করে।

-রহিত (লোকটার দিকে তাকিয়ে) শাহরিয়ারের জন্য খাবার দাও টেবিলে (রিয়ন)
-কিন্তু ভাইয়া? তুমি খাবে না?(শাহরিয়ার)

এমন প্রশ্নে রিয়ন একটুও অবাক হয় না। কারণ সে এই প্রশ্নেরই আশা করছিল।
-না, ভাইয়া, কিন্তু এখন কারণ জিজ্ঞাসা করো না। প্লিজ(রিয়ন)
-ওকে ভাইয়া, তুমি যা বলবে (শাহরিয়ার)
-গুড, যাও, ফ্রেশ হয়ে এসো (রিয়ন)

শাহরিয়ার নিজের রুমে চলে যায়।

-ইয়ার, রিয়ন,দেখেছিস, ছেলেটা কতো সুইট? (স্টিভ)
-হুম,আমি কালই বুঝেছিলাম,এটা কারো অনেক আদরের সম্পদ। (রিয়ন)
-তোর মাঝে এমন বৈশিষ্ট আছে, জানতাম না(স্টিভ)
-সব দিক সবার জন্য নয়, স্টিভ। আমি শুধু শাহারিয়ারের সাথেই এমন, আর বাকিদের সাথে সেই হিংস্র ভ্যাম্পায়ার।

বলেই রিয়ন নিজের রুমে চলে যায়।
বিকালে কলিংবেলের শব্দে সার্ভেন্ট এসে দরজা খুলে দেয়, আর একজন লোককে দেখতে পায়।
রিয়ন শাহরিয়ার আর স্টিভ একসাথেই বসেছিল। শাহরিয়ার বসে বসে ড্রইং করছিল। রিয়ন দরজার দিকে তাকায়।

-হেই স্মিথ, ওয়েল্কাম।ভেতরে আয়(রিয়ন)

সবুজ রঙের টিশার্ট পড়া লোকটি ভেতরে প্রবেশ করে। কালো ঘন চুল, লালচে বাদামি চোখ, শ্যামলা গায়ের রং। চেহারায় টিচার টিচার ভাব।লোকটি ভেতরে প্রবেশ করে গিয়ে রিয়নের সাথে বসে।

-গুড আফটারনুন, স্যার(শাহরিয়ার)
-আরে,স্মিথ, তুই তো বাঙালিদের সাথে থাকতে থাকতে বাঙালি হয়ে গেলি। (স্টিভ)
-হুম, হতে হয়। কি খবর তোদের?(স্মিথ)
-ভালো, শাহরিয়ার, স্মিথই তোমাকে নিয়মিত পড়িয়ে যাবে,ওকে?(রিয়ন)
-ওকে, ভাইয়া(শাহরিয়ার)
-যাও, তোমার বুকস নিয়ে আসো, (স্মিথ)

শাহরিয়ার চলে যায়।

-রিয়ন,শাহরিয়ার কিন্তু খুবই ভালো আর মিষ্টি একটা ছেলে, আমি যা বুঝেছি আর কি। আর ট্যালেন্টেডও। (স্মিথ)
-আই নো, এই ট্যালেন্ট ধরে রাখতে তুই সাহায্য করবি অকে, নয়তো ,, (রিয়ন)
-জানি জানি, প্রিন্স, আমি আমার সবটা দিয়ে চেষ্টা করব(স্মিথ)

স্মিথ শাহরিয়ারকে পড়াতে শুরু করে, রিয়ন আর স্টিভ বসে কথা বলছিল।

In Hasan mansion,

মায়া তার রুমের ব্যালকনিতে গালে হাত দিয়ে মনমরা হয়ে বসে আছে।
কেউ খুব সাবধানে পা ফেলে মায়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মায়ার পেছনে যেতেই হাত বাড়িয়ে মায়ার গলা চেপে ধরতে যায়৷ আরেকটু কাছে যেতেই, মায়া জোড়া ধরে এক টানে তাকে মায়ার সামনে ফেলে দেয়।

-আম্মি গো, আমাকে মেরে ফেলল,,,,(কান্নার ভাব করে)
-এরকম কাজ তুই ছাড়া আর কেউ করতে পারে না তা আমি জানি, সিতারা। আর হ্যা, তোর পারফিউমের স্মেলেই আমি বুঝতে পারি যে তুই আমার আশেপাশে উপস্থিত। (মায়া)
-তাই বলে, এভাবে বেচারীকে ফেলে দিবি?(দিয়া পেছন থেকে বলে)

আশা আর দিয়া এসে সিতারাকে তুলে। মায়া কপাল কুচকে তাদের দিকে তাকায়,,,

-মতলবটা কি রে? এখানে কেন এসেছিস? তাও তিনজনই?(মায়া)
-তোকে খুন করার (আশা)
-অই,ড্রামা কুইন, ড্রামা বাদ দিয়ে আসল কথা বল(মায়া)
-আমার থেকে বড় ড্রামা কুইন তো তুই,(আশা)
-উফ, থাম তো তোরা। আমি বলছি। মায়া, আমাদের ভার্সিটির পথে যে একটা জংগল আছে? অইখানে একটা পার্টি হবে, আমাদের ভার্সিটির স্টুডেন্টসরাই করবে। তাই বলছি কি,,,,(সিতারা)
-নো নো নো,,, আমি রাতে অই জংগলে যাবো না, আমার মংগল করার এতো শখ নেই (মায়া উঠে রুমে চলে যায়)
-মায়ো, প্লিজ,, আমাদের জন্য, আমি আংকেল আর আন্টিকেও রাজী করিয়ে এসেছি। প্লিজ(দিয়া)

মায়া সিতারার পিঠে জোরে একটা থাপ্পড় মারে,,,

-আম্মু গো,,,, (সিতারা)
-ব্যথা পেয়েছিস?(মায়া)
-তোকে দিয়ে দেখাই ব্যথা পেয়েছি নাকি না(সিতারা)
-তাহলে আমি স্বস্বপ্ন দেখছি না,, (মায়া)
-মানে?(আশা)
-মানে এ আমাদের দিয়া, যে কি না সত্যি পার্টিতে যাওয়ার কথা বলছে। (মায়া)
-তুই কি যাবি নাকি না? ধর অই নতুন স্টুডেন্ট রিয়নও সেখানে, তাহলে তো তুই চাঞ্জ পেয়ে যাবি শোধ তোলার। (আশা)
-হুম, এইবার একটা কাজের কথা বলেছিস (মায়া)

মায়া ভালোমতো তাকিয়ে দেখে দিয়া,সিতারা আর আশা সেম ডিসাইনের ড্রেস পরেছে। শর্ট রাউন্ড ড্রেস, জিন্স প্যান্ট, তার উপর জিন্সের জ্যাকেট।

-বাহ বাহ, তোরা তো আমাকে রেখে প্ল্যান করে শপিং করে সেম ড্রেসও পরেছিস। বলিকি তাহলে আমাকে নিয়ে যাওয়ার কথা কেন ভাবলি? নাকি আমাকে টিম থেকে বাদ দেওয়ার চিন্তাভাবনা (মায়া)
-আরেহ, এই মেয়ে,তুই এতো বেশি বুঝিস কেন? এই ড্রেসগুলো আমিই এনেছি, আর এই যে তোরটা (হাতে একটা প্যাকেট ধরিয়ে দিয়ে) এবার রেডি হয়ে আমাদের উদ্ধার কর, মেরি মা (সিতারা)
-আমি তোকে কবে পয়দা করলাম? যে মা বলছিস?(মায়া)
-মায়ায়ায়ায়ায়া(তিনজন একসাথে)
-যাচ্ছি তো,,,

বলেই মায়া ওয়াশরুম থেকে রেডি হয়ে বের হয়। সবার ড্রেস একই হওয়ায় সাজটাও সেম। মায়ার ড্রেসের কালার ফুল ব্লাক, চুলগুলো কার্ল করে এক পাশে ছেড়ে দিয়েছে, হাতে মোটা ব্লাক হ্যান্ড ব্র‍্যাচ, ঠোঁটে ডার্ক রেড লিপস্টিক।
সিতারা পড়েছে রেড, দিয়া পড়েছে গ্রীন আর আশা পরেছে পিংক কালার।

চারজনই বাসা থেকে বের হয়ে গাড়িতে উঠে। মায়া ড্রাইভিং সিটে।

-আজকে নিজেকে ফরেন কান্ট্রির নাইট বার্ড মনে হচ্ছে (আশা)
-হ্যা,তোকে দেখতেও রাত জাগা বাদুড় দেখাচ্ছে (মায়া)

মায়ার কথায় দিয়া আর সিতারা হো হো করে হেসে দেয়।

In Adrin mansion,

-রিয়ন,প্লিজ চল, প্লিজ (স্টিভ আর স্মিথ)
-আমি শাহরিয়ারকে একা রেখে যাব না। (রিয়ন)
-রিয়ন, শিকারের জন্য যেটুকু সময় লাগে তার থেকে ২০ মিনিট বেশি। প্লিজ, শিকারেরও সুযোগ পাব। না করিস না, প্লিজ। (স্টিভ)
-ওকে, চল।আমিও দেখি এদের পার্টি কেমন হয়।(রিয়ন)

রিয়ন ও ফুল ব্লাক কালারের ড্রেসাপ করে, ব্লাক ফুল হাতা শার্ট, ব্লাক ব্র‍্যান্ডেড ঘড়ি, ব্লাক সুজ, ব্লাক পেন্ট। স্টিভও সেম ড্রেসাপ বাট গ্রীন কালারের, আর স্মিথ ডিপ ব্লু কালারের। তিনজনই বেরিয়ে যায়।

-আমার ভালো না লাগলে চলে আসব, খুজোখুজি করবি না কিন্তু। (রিয়ন)
-ওকে ডিউড (স্টিভ)

সবাই যার যার গন্তব্যে চলে যায়।

চলবে,,,,,,,,,,,,,

🔥13 view

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *