Blood King Or Lover |Part-06

রিয়ন মাঠ থেকে বেরিয়ে জংগলের দিকে যায়। আশেপাশে তাকিয়েও যখন না পায়, তখন রিয়ন ঝড়ের বেগে পুরো জংগল ঘুরে। হঠাৎ একটা জায়গায় এসে রিয়ন থেমে যায়। সেখানে জনি সহ কয়েকটি ছেলে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল আর হাসছিল। যাদের মাঝখানে মায়া বেহুশ হয়ে পড়েছিল। রিয়ন রেগে যায়, তার চোখ রক্তবর্ণ ধারণ করে। মুখের শিরা উপশিরাগুলো স্পষ্ট ভেসে ওঠে।

-খুব তেজ এই মেয়ের,আজকে তেজ কমিয়ে দেব। তার আগে বলে রাখি, তোর ড্রিংকে আমিই,,,,,,,

বলেই জনি সহ বাকি ছেলেরাও জো হো করে হেসে উঠে।
রিয়নের রাগ আরো বেড়ে যায়, অন্ধকারে রিয়নের চোখদুটো ঝলঝল করছে।

-একটা মেয়েকে বেহুশ করে বদলা নিচ্ছিস? (রিয়ন)
-আরেহ, নিউ স্টুডেন্ট, যে,শুনলাম তোর সাথেও নাকি এর ঝামেলা। তা, আমাদের সাথে,,,,,,

বাকিটুকু বলার আগেই রিয়ন জনির বুকে লাথি মারে। জনি পেছনের গাছের সাথে জোরে বারি খায়, আর বুকে চাপ লাগে, ফলে জনির মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে যায়। রক্তের গন্ধে রিয়ন আরো পাগল হয়ে যায়।
জনির সাথে থাকা একটা ছেলে রিয়নের মাথায় ড্রিংকের বোতল দিয়ে বাড়ি দেয়৷ ড্রিংকের বোতল কাচের থাকায় তা ভেঙে যায়৷ রিয়ন ঘুরে ছেলেটির দিকে তাকায়। রিয়নের ক্ষত অংশ টুকু ধীরে ধীরে মিশে যায়। এটা দেখে ছেলেটা ভয় পেয়ে যায় আর পেছনে ঘুরে দৌড় দিতে যাবে ঠিক তখনই রিয়ন তার সামনে গিয়ে দাড়ায় আর গলা চেপে ধরে৷
রিয়নকে এতো তাড়াতাড়ি জায়গা বদল করতে দেখে বাকিরা ভয় পেয়ে যায়। রিয়ন ছেলেটির গলা আরো শক্ত করে ধরে, যার ফলে কয়েক সেকেন্ডে মাথা আর দেহ আলাদা হয়ে যায়।
এই দৃশ্য দেখে বাকিরা পালাতে শুরু করে। কিন্তু পারে না। রিয়ন এক এক করে সকলের রক্ত পান করে তাদের রক্তশূণ্য দেহ ফেকে রেখে মায়া আর জনির কাছে ফিরে যায়।
জনির শার্ট রক্তে ভিজে গেছে, অনেক কষ্টে উঠে দাড়ায়। কিন্তু সামনে রিয়নকে দেখতে পেয়ে কাপতে থাকে। কিছু বলতে যাবে তার আগেই রিয়ন জনির গলা চেপে ধরে বলে,,,,,,,

-মায়ার ক্ষতি করা তো দুরের কথা, এটা যে ভাববে তাকেই আমি শেষ করে দেব। আর তুই তো আমার মায়াকে টাচ ও করেছিস। আয়ায়ায়ায়ায়ায়ায়াহহহহ

রিয়ন আকাশের দিকে তাকিয়ে একটা গর্জন করে জনির ঘাড়ে কামড় দিয়ে রক্ত শুষে নেয়। জনি হাজার চেষ্টা করছে বাচার জন্য, কিন্তু পারে নি। অবশেষে রিয়ন তার মৃত, ফ্যাকাসে ও রক্তশূন্য দেহ ফেলে দেয়।
রিয়নকে এখন এতোটাই হিংস্র দেখাচ্ছে যেন জংগলটাও তাকে ভয় পাচ্ছে।
রিয়ন ঘুরে দেখে মায় অজ্ঞান অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। মায়াকে দেখেই রিয়ন শান্ত হয়ে যায়।
নিজের অবস্থা দেখে রিয়ন নিজেই অবাক।

-এটা কিভাবে সম্ভব? মায়াকে দেখে আমি স্বাভাবিক কিভাবে হলাম?(রিয়ন নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে)

ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় মায়ার দিকে, মায়ার পাশে হাটু ভেঙে বসে, কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে মায়ার চেহারার দিকে। চাঁদের হালকা আলো গাছের পাতা ভেদ করে এসে মায়ার মুখে পরছে।
রিয়ন কিছু একটা ভেবে মায়াকে কোলে তুলে নেয়।
রাস্তায় এসে মায়াকে মায়ার গাড়িতে বসিয়ে সিট বেল্ট বেধে দেয় আর নিজেও গিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসে।
গাড়ি স্টার্ট দিয়ে ফোন বের করে স্টিভকে ফোন দেয়।

-হেই, কোথায় তুই?(স্টিভ)
-আছি, আমি মায়াকে বাসায় পৌছে দিচ্ছি, আর নিজেও চলে যাব। (রিয়ন)
-মায়া তোর সাথে? লাইক সিরিয়াসলি? ভাই, জীবিত আছিস,নাকি অই মেয়ের কথায় মরেছিস?(স্টিভ)
-ফাজলামি বন্ধ করলে কাজের কথা বলি?(রিয়ন)
-হুম,বল(স্টিভ)
-তোরা তিনজন মায়ার তিন বান্ধুবীকে বাসায় পৌছে দিতে যাবি।একা ছাড়বি না (রিয়ন)
-ভাই, এই কুটনীদের আমরা দিতে যাব?(স্টিভ)
-স্টিভ, যা বলছি তাই কর(রিয়ন ধমক দিয়ে বলে)
-ওকে, করছি (স্টিভ)
-গুড

বলেই রিয়ন ফোন কেটে দিয়ে মায়ার দিকে তাকায়।

অন্যদিকে,

-কি বললো? (স্মিথ)
-বিপদকে বাসায় পৌছে দিতে(স্টিভ)
-বিপদ মানে?(স্মিথ)
-অই যে, (দিয়াদের দেখিয়ে দিয়ে)

তিনজনেরই মুখের হাসি ফুরুত।
-এদের রাজী করব কিভাবে?(রেয়হান)
-কাঠ খড় পুরাতে হবে,আর কি, চল (স্মিথ)

মুখগুলোকে বাংলার পাঁচ করে এগিয়ে যায়।

-হাই, গার্লস (স্টিভ)
-কি মতলব?(দিয়া)
-না,আসলে,,, তোমাদের আরেক ফ্রেন্ডকে যে দেখছি না?(স্মিথ)
-সত্যিই তো, মায়া কোথায়?(আশা চিন্তিত হয়ে)
-আসলে,মায়া চলে গেছে, গাড়ি নিয়ে (রেয়হান)
-হোয়াট ননসেন্স? (সিতারা)
-সত্যি বলছি, তোমরা চাইলে আমরা লিফট দিতে পারি তোমাদের। আব,,,প্রমিস, বাড়তি কোন কথা বলব না (স্মিথ)

সিতারা,দিয়া আর আশা একে অপরের দিকে তাকায়।

-ওকে,চলো (সিতারা)

সিতারার কথা শুনে ছেলে তিনজন অবাক।
“‘” এতো সহজে মানল কিভাবে?”‘ (স্টিভ)
“‘কোন ঝামেলা আছে”‘ (স্মিথ)
“‘” রিয়নের কথা না মানলে কপালে মৃত্যু আছে”‘(রেয়হান)

তিনজনই ভ্যাম্পায়ার হওয়ায় একে অপরের মনে কথা শুনতে পারে।

ছয়জনই পার্কিং এ যায়।

-আব,,,,সিতারা, তুমি আমার গাড়িতে উঠো (রেয়হান)
-কেন?(সিতারা)
-না,গাড়ি তো দুইটা, তাই আর কি। (রেয়হান)
-কিন্তু আমার আর সিতারার বাসা তো এক রাস্তায়ই (আশা)
-ওয়েট, আমি গাড়ি এনেছিলাম। তো দুজন করে একেক গাড়িতে যাওয়া যাক। (স্মিথ)
-ওকে,, (স্টিভ)

সিতারা আর রেয়হান এক গাড়িতে,স্মিথ আর আশা এক গাড়িতে, স্টিভ আর দিয়া এক গাড়িতে উঠে বসে।

-তোমার নাম কি?(স্টিভ)
-দিয়া,,,
-আমি স্টিভ, বাই দ্যা ওয়ে বাসার এড্রেস দাও (স্টিভ)

দিয়া স্টিভকে তার এড্রেস দেয়।

অন্য গাড়িতে,

-আব,,সিতারা,, কেন আই আস্ক ইউ সামথিং? (রেয়হান)
-হুম,গো এহেড (সিতারা ফোন টিপতে টিপতে)
-কেন উই বি ফ্রেন্ডস?(রেয়হান)

রেয়হানের এই কথায় সিতারা চোখ ছোট ছোট করে তাকায়। রেয়হান নড়েচড়ে বসে।

-না, থাক, কিছু না (রেয়হান)
-কালকে ক্লাস শেষে ফুসকা আর আইসক্রিম খাওয়ালে এক্সেপ্ট করার কথা ভেবে দেখব (সিতারা)
-ওকে, ডান (রেয়হান মুচকি হেসে বলে)

কিছুক্ষণ পর,
স্মিথ একটা বাড়ির সামনে এসে গাড়ি থামায়।

-এখানে থামালেন কেন?(আশা স্মিথের দিকে তাকিয়ে বলে)
-বাড়িটা মনে হয় আপনারই (স্মিথ সামনের দিকে বলে)

স্মিথের কথায় আশা বাড়িটার দিকে তাকায়।

– কিন্তু আমি তো আপনাকে,,,, (আশা কথা শেষ করার আগেই,,)
-আপনার নাম আশা আহমেদ, রাইট?(স্মিথ)
-হ্যা, কিন্তু,,, (স্মিথ)
-আহমেদ ম্যানশন এই একটাই আছে,তাই এখানেই থামিয়েছি। আ’ম স্মিথ ডোসান।
-নাইস টু মিট ইউ, & থ্যাংক্স (আশা)
-হুম, বাই (স্মিথ)

স্মিথ আশাকে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। আর আশা ভাবতে ভাবতে বাড়িতে ঢুকে,,,,

“‘” হি ইজ সো হ্যান্ডসাম “‘”‘ (আশা)

অন্যদিকে,

রেয়হানও সিতারাকে তার বাড়ির সামনে নামিয়ে দেয়।

– থ্যাংকস, রেয়হান (সিতারা)
-ওয়েলকাম,,, (রেয়হান)

সিতারা গাড়ি থেকে নেমে সামনে এগোতে গেলে রেয়হান থামায়,,,

-আব,,সিতারা (রেয়হান)

সিতারা পেছন ঘুরে তাকায়,,,

-ওহ, আসলে বলতে চাচ্ছিলাম কি,,, কেন,,কেন আই,,, কেন আই গে,,,(রেয়হান)

রেয়হানকে অবাক করে দিয়ে সিতারা রেয়হানের ফোন নেয় আর নিজের নাম্বার সেভ করে দেয়।

-ডান, (সিতারা)
-থ্যাংকস(রেয়হান)
-বাই,গুড নাইট (সিতারা)
-বাই,,,

রেয়হান কিছুক্ষণ সিতারার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে পরে নিজেও চলে যায়।

-হেয়ার ইজ ইউর হাউস, চাশমিস (স্টিভ)
-হেই,চশমা পড়ি তাই চাশমিস বলতে হবে?(দিয়া)
-চাশমিস কে তাহলে কি বলব?(স্টিভ)
-ইউ,,,,(দিয়া)
-আর সো প্রিটি (স্টিভ দিয়ার গাল টেনে বলে)
-দেখুন,,, (দিয়া)

স্টিভ দিয়ার চোখ থেকে চশমা সরিয়ে নিয়ে,,,

-হুম,দেখছি। কতো সুন্দর চোখ, ওয়াও।

কিন্তু স্টিভ দুষ্টুমি করতে গিয়ে সত্যি দিয়ার চোখের সমুদ্রে ডুবে যেতে থাকে। স্টিভের ধ্যান ভাঙে দিয়ার কথায়,,,

-আমার চশমা ব্যাক করুন,,, (দিয়া চশমা কেড়ে নিয়ে)
-চশমার পাওয়ার কতো?ছোট থেকেই পড়ো? (স্টিভ)
-এটা হ্যাডেকের জন্য (দিয়া চশমা পড়তে পড়তে বলে) বাই,গুড নাইট।

বলেই দিয়া চলে যায়।আর স্টিভ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। কিছুক্ষণ পর সেও চলে যায়।

In Hasan Mansion,

রিয়ন মায়াকে নিয়ে মায়ার রুমের ব্যালকনি দিয়ে তার রুমে এনে শুইয়ে দেয় আর নিজেও মায়ার পাশে বসে। মায়া আবুল তাবুল বলছে,,,

-টিয়নের বাচ্চা কিয়ন,,, কতো বড় সাহস আমার সাথে পাংগা নেয়,,,, আম,,আম,,,,

নেশার ঘুরে বলতে বলতে ঘুমিয়ে যায় আবার। রিয়ন মায়ার মাথায় হাত রেখে চোখ বন্ধ করে কিছু একটা পড়ে।
তারপর মায়ার মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে, হঠাৎ কি মনে করে রিয়ন মায়ার কপালে কিস করে চলে যায়।

চলবে,,,,,,,,

🔥3 view

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *