Blood King Or Lover |Part-12+13

In the past,

-অই আফনু, না গেলে হয় না তোর?(মায়া)
-প্লিজ কলিজা, আই নিড টু গো (আফনান)
-যা, যা, আমি একাই থাকতে পারব।

আফনান স্কলারশিপ পেয়েছে, তাই সে ফরেন যাবে। কিন্তু মায়া তাকে যেতে দিতে নারাজ, ছোট থেকে একসাথে ছিল তারা, এখন একটা বন্ধু দুরে চলে যাবে, তাই মন খারাপ করে বসে থাকে। দিয়া, সিতারা আর আশাও সেখানে আছে। এই ৫জন ছোটবেলার বন্ধু।
আফনান মায়ার কাছে গিয়ে বসে,

-মায়ু, তুই কি চাস না? আমি বড় হই? হুম?(আফনান)
-হুম,চাই (মন খারাপ করে)
-তাহলে যেতে দিচ্ছিস না কেন?(আফনান)
-ইয়ার, আফনু, মায়ার মতোই আমাদের অবস্থা, (সিতারা)
-ওকে, গার্লস, আই প্রমিস, প্রতি বছর তোদের জন্য চকলেটস আর গিফট পাঠাবো, & ছুটি পেলেই চলে আসব। না গেলে হয় না, স্কলারশিপটা মিস করতে চাচ্ছি না(আফনান)
-ওকে, বাট একটা কথা রাখতে হবে (মায়া)
-এনিথিং প্রিন্সেস, (আফনান)
-আমরা তোকে এয়ারপোর্টে ড্রপ করতে যাব, (মায়া)
-ওকে, এখন চল (আফনান)

আফনানের ফ্লাইট রাতে, তাই বিকেলের দিকে বের হয়। ৫ জনই যায়, আর বাকিরা যায় না আফনানকে বিদায় দিতে। আফনান ড্রাইভ করছে, তার পাশের সিটে মায়া, আর বাকি তিনজন ব্যাকসিটে।
কিছুক্ষণ পর সবাই এয়ারপোর্টে চলে আসে। অন্যদের তুলনায় মায়ার মন বেশি খারাপ।

-প্লিজ, মায়ু, এখন তো একটু হাসিমুখে বিদায় দে। তোর এই পেত্নি মাখা মুখ দেখে আমি কিভাবে যাব?(মায়ার গাল ধরে টেনে)
-ওকে, সাবধানে থাকবি। আর হ্যা, যোগাযোগ যদি না করিস না, তোকে যমের কাছে পাঠাবো।

মায়ার কথায় সবাই হেসে উঠে। আফনানকে বিদায় দিয়ে ৪ জন মেয়েই বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
ড্রাইভ করে মায়া, আর বাকিরা ব্যাকসিটে।
মায়া ইচ্ছে করেই তাদের ব্যাকসিটে দিয়েছে, এতে ড্রাইভ করতে সুবিধা হবে, কারণ রাতের বেলা ড্রাইভ করছে, তাও জংগলের পাশের রাস্তা দিয়ে।
হঠাৎ কিছু একটা মায়ার গাড়ির সামনে এসে পরে, হঠাৎ করে এমন হওয়াতে গাড়ি কন্ট্রোলের বাহিরে চলে যায়। মায়া বুঝতে পারে প্রাণীটা পাখি জাতীয় কিছু। কিন্তু আসলে সেটা ছিল ড্রাকুলা। কিছুক্ষণ পর মায়া ব্রেক করে গাড়ি, আর জিনিসটা সামনে পরে যায়। মায়ার গাড়ি রাস্তার মাঝে আড়াআড়ি ভাবে ছিল। ব্রেক করতেই,,
,
-কি এটা?(দিয়া)

দিয়া, সিতারা আর আশা গাড়ি থেকে নেমে যায়। মায়া একা গাড়িতে থাকে।
হঠাৎ ড্রাকুলাটা মায়া সাইটের ডোর ওপেন করে, আর মায়ার উপর হামলা করে। ঠিক তখনই একটা ট্রাক হর্ন দিতে দিতে এগিয়ে আসে। ট্রাক দেখে ড্রাকুলাটি সরে যায়, আর ট্রাকটি মায়ার গাড়িতে হিট করে চলে যায়। মায়া সহ মায়ার গাড়ি সাইটের জংগলে পরে যায়। দিয়া সারা আর আশা ভয় পেয়ে যায়, কিছুই বলতে পারে না,করতেও পারে না,যেন ফ্রিজ হয়ে গেছে তিনজন।

In present,

-আর তখন দুজন এসে আমাকে আহত অবস্থায় ভাঙা গাড়ি থেকে বের করে। আমার যতটুকু মনে আছে লোক দুজন বলছিল যে হাসপাতালে নিলে আমাকে বাচানো যাবে না,,, আর কিছু মনে নেই আমার। (মায়া)

মায়ার চোখ থেকে পানি ঝড়ছে। রিয়ন এতোক্ষণ মনোযোগ সহকারে সবটা শুনছিল।মায়ার বলা শেষ হলে মায়াকে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নেয়,

-রিলেক্স, ইটস ওকে নাও, কিছু হয় নি। তুমি ঠিক আছ।

রিয়ন কথাগুলো বলে আর মায়ার মাথায় হাত বুলাতে থাকে। মায়া কোনপ্রকার দ্বিধা ছাড়াই রিয়নের বুকে মাথা দিয়ে চুপটি করে থাকে। যেন এটাই তার জন্য সবথেকে সেফ জায়গা, মায়ার এমন মনে হয় যেন রিয়ন তার খুব আপনজন।
কিছুক্ষণ পর মায়া রিয়নের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকায়।

-কিন্তু আমি একটা কথা বুঝতে পারছি না (মায়া)
-এটাই তো? কিভাবে বেচে গেলে?(রিয়ন)
-এই এই, তুমি আমার মাইন্ড কিভাবে পড়ে ফেল?(মায়া)
-ইটস এ সিক্রেট। আর হ্যা, এই এক সিক্রেটেই তোমার সকল প্রশ্নের সকল উত্তর লুকায়িত। (রিয়ন)
-দ্যান টেল মি ‘বাউট ইট (মায়া)
-এতো তাড়াতাড়ি না, সিক্রেট এতো তাড়াতাড়ি বললে কি আর সিক্রেট থাকে? (রিয়ন)

মায়া আরো কিছু বলতে যাবে, তার আগেই মায়ার ফোনে মেসেজ আসে, মায়া ফোনে হাতে নিয়ে দেখে সিতারার মেসেজ।

“‘মায়া, নিড টু ইনফর্ম ইউ দ্যাট, জনি আর তার বন্ধুদের রক্তশূণ্য লাশ পাওয়া গেছে, পার্টি করা সেই জংগলে”‘”

মেসেজটা পড়েই মায়া অবাক হয়ে যায়। মায়াকে অবাক হতে দেখে রিয়ন মায়ার ফোন টান দিয়ে নিয়ে নেয় আর মেসেজ চেক করে।

-এতে এতো ভয় পাওয়ার কি আছে? মায়া? ওরা ওদের যোগ্য শাস্তি পেয়েছে৷ (রিয়ন)
-যোগ্য শাস্তি মানে? কি করেছে ওরা? যার জন্য মৃত্যু তাদের শাস্তি? আর তুমিই বা এতো নরমাললি নিচ্ছ কিভাবে? উই আর ক্লাসমেটস। (মায়া)
-নরমালি নেওয়ার মতো ঘটনা তাই নিয়েছি, আর ক্লাসমেট হলেই কি সবার জন্য চিন্তা করতে হবে নাকি?নাকি সে তোমার কাছের কেউ ছিল?(রিয়ন অন্যদিকে ঘুরে বলে)
-কি বলছ কি এসব, রিয়ন? (মায়া বসা থেকে দাঁড়িয়ে যায়) , আমার কাছের কেউ মানে? কাছের কেউ না হলেই কি চিন্তা করা যাবে না? তার জন্য খারাপ লাগা যাবে না? তোমার কথায় মনে হচ্ছে তুমিই তাদের খুন করেছ, যেন তোমার মূল্যবান কোন কিছু কেড়ে নিয়েছে,যেন তোমার ভালোবাসার মানুষের সাথে খারাপ কিছু করেছে। এতো নির্দয় তুমি?(মায়া)

মায়ার কথায় রিয়ন রেগে যায়। রিয়ন বসা থেকে উঠে দাড়ায় আর মায়ার চুলগুলো মুঠ করে ধরে রিয়নের ফেসের সামনে নিয়ে আসে, মায়া স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে রিয়নের চোখ লাল হয়ে আছে, রিয়নের মুখের নীলবর্ণের শিরা-উপশিরা গুলো স্পষ্ট ভেসে উঠছে,মুখের রং ফ্যাকাসে হয়ে গেছে৷ কপালের রগ ভেসে উঠছে।
মায়া রিয়নের এই রূপ দেখে ভয় পেয়ে যায়।

-ইউ আর লিটল বিট রাইট & লিটল বিট রং। আমার ভালোবাসা কেড়ে নেয় নি, নেওয়ার চেষ্টা করেছিল, শুধু কেড়ে নেওয়া নয় এমন কিছু করতে চেয়েছিল যে শি ওন্ট এবল টু সি হার ফেস টু আদারস৷ তাই আমি নিজেই ওদের শাস্তি দিয়েছি। হ্যা আমি নির্দয়, আর তার কারণও তুমি নিজেই, গট ইট?

রিয়ন দাঁতে দাঁত চেপে বলে কথা গুলো। কথাগুলো বলা শেষ হলেই মায়াকে ছেড়ে দেয় রিয়ন, আর উল্টো দিকে।

-আমি? আমার জন্য?কেন? কি করেছি আমি? হ্যা? টেল মি (মায়া)
-কি করেছ? শুনবে? শুনতে চাও?(রিয়ন)
-হ্যা হ্যা, আমি শুনতে চাই (মায়া)
-তাহলে শোন,,,,,,

রিয়ন সেদিন রাতের সকল ঘটনাগুলো খুলে বলে। মায়া অবাক হয়ে যায়,

-এতো কিছু হয়ে গিয়েছে অথচ আমার কিছুই মনে নেই, এটা কিভাবে সম্ভব? আমি ততোটাও ড্রাংক ছিলাম না। (মায়া)

রিয়ন উল্টো দিকে ঘুরে মাটিতে জুড়ে একটা ঘুষি মারে নিজের রাগ কন্ট্রোল করার জন্য। মাটিতে ফাটল ধরে যায় আর রিয়নের হাত অনেকটা নিচে ডেবে যায়।
মায়া রিয়নের এমন কাজে আরো ভয় পেয়ে যায়।
মায়া পিছিয়ে যেতে থাকে ভয়ে,,, আর বলে,,,

-হু আর ইউ? হু আর ইউ, রিয়ন? ইউ আর নট এ হিউম্যান। ডোন্ট হার্ট মি প্লিজ।

মায়ার কথা বেজে যাচ্ছে ভয়ে, অনেকটা কান্নামিশ্রিত কন্ঠেও বলে।
রিয়ন বাতাসের গতিতে এসে মায়ার কোমর জড়িয়ে ধরে আর নিজের দিকে টেনে নেয়,,তখনও রিয়নের চেহারায় স্পষ্ট রাগ ভেসে উঠছে,যার জন্য রিয়নকে অনেক ভয়ংকর দেখাচ্ছে, আর মায়াও প্রচন্ড ভয় পাচ্ছে।

-ইউ রিয়েলি থিংক দ্যাট আই উইল হার্ট ইউ? হাহ! রিয়েলি? কেন তাহলে নিজের রক্ত দিয়ে বাচিয়েছি?কেন ট্রাকের নিচে চাপা পড়া থেকে বাচালাম তোমায়? কেন ড্রাকুলার হাত থেকে রক্ষা করলাম? হ্যা? টেল মি?(রিয়ন)
-রি,,, রি,,,রিয়ন,,,,

মায়া ভয়ের কারণে কথাই বলতে পারছে না। রিয়ন তা বুঝতে পারে, তাই মায়াকে ছেড়ে দিয়ে কিছুক্ষণ উল্টো দিকে ঘুরে তাকায় আর নিজেকে কন্ট্রোল করে।
রাগ কন্ট্রোল করা হলে পেছনে ঘুরে, কিন্তু মায়াকে পায় না। নিচের দিকে তাকাতেই দেখে মায়া জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পরে আছে।

-হায়রে, এই মেয়েকে এমনি দেখা যায় সাহসি, আসলে অনেক ভীতু, আর হবেই না কেন? এতো অজ্ঞান হয়, (মায়াকে কুলে তোলে নেয়) কবে যেন আমাকে ফিট করিয়ে ছাড়ে। হোয়াটএবার,,,

রিয়ন মায়াকে নিয়ে বাতাসের গতিতে সেই স্থান ত্যাগ করে আর মায়ার রুমে এসে পৌছায়।
মায়াকে তার বেডে শুইয়ে দেয় আর তার পাশে বসে।
মায়ার কপালে আলতো করে ঠোঁট ছুইয়ে দেয়, আর মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।

“”ইউ আর মাইন, মায়া, অনলি মাইন। আমার সাথেই যে তোমার জীবন বাধা, বিকজ আমিই তোমার #Blood_King, কিন্তু আমি এখন কনফিউজড, মায়া।তুমিই উদ্ধার করো আমায় এই কনফিউশান থেকে। আই কান্ট আন্ডারস্ট্যান্ড দ্যাট আ’ম ইউর #Blood_King_Or_Lover? “‘

রিয়ন এসব মনে মনে বলে, আর মায়ার দিকে অপলক ভাবে তাকিয়ে থাকে। সারারাত রিয়ন মায়ার পাশেই থাকে। ভোরের আলো ফোটার আগে চলে যায়।

In the morning,

সূর্যের মিষ্টি আলো মুখে পড়তেই চোকগ বন্ধ থাকা অবস্থায়ই মায়ার ভ্রু কুচকে যায়। ধীরে ধীরে তাকায়। জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে দেখে সূর্যের আলো এসে তার রুম আলোকিত করছে।
হঠাৎ কিছু মনে হতেই এক লাফে উঠে বসে।

“‘” আমি তো মাঠে ছিলাম, রুমে কখন আসলাম? “‘ (মায়া)

মায়া বেড সাইটে তাকিয়ে দেখে তার মোবাইলও রাখা।

“‘” এই রিয়ন নরমাল হিউম্যান না, এটা আমি শিউর, কিন্তু কি সে? তা আমাকে বের করতে হবে। কিন্তু তার বলা শেষ কথাগুলো, হার্ট না করার ব্যাপার সত্যি, কিন্ত জনি? না ভাবতে পারছি না”‘”

ভাবতে ভাবতে মায়ার রুমের দরজায় কেউ নক করে। মায়া বিছানা ছেড়ে উঠে গিয়ে দরজা খুলে। আফনান ছিল, যে এতোক্ষণ নক করছিল।

-কিরে পেত্নি, কতো ঘুমাবি? ক্লাসে যাবি না?(আফনান)
-না রে (মায়া রুমের ভেতরে ঢুকে আবার বিছানায় বসে পরে)। যাব না আজকে, ভালো লাগছে না।
-সিরিয়াসলি? তুই সেই মায়া? যে ক্লাস মিস করে না কখনো?(আফনান)
-আফনু, প্লিজ। (মায়া)
-ওকে, ওকে, বাট কি হয়েছে তা তো বল?(আফনান)
-না, কিছু না। ঘুমাব।

বলেই মায়া চাদর টেনে আবার শুয়ে পড়ে।

-আন্টি ঠিকই বলেছে, তুই আগের মতোই রয়ে গেছিস। (আফনান)
-অই, আন্টিকি চামচা, আমাকে ঘুমাতে দে, (মায়া বালিশ দিয়ে মাথা চেপে ধরে বলে)
-ওকে, যাচ্ছি,

অভিমান করে বলে আফনান, আর দরজা পর্যন্ত যেতেই মায়ার ডাকে দাঁড়িয়ে যায়।

-আফনু, শুন,,,, বিকালে আইস্ক্রিম খেতে যাব, রেডি থাকিস, আর ড্রপ করতে আসিস। (মায়া)

আফনান মায়ার কথায় মুচকি হাসি দেয়।

-টাকা নেই আমার কাছে, পারব না। (আফনান)
-সেটা আমার দেখার বিষয় না, দিয়া, সিতু আর আশাকেও মনে করে নিয়ে আসিস। নয়তো,,,, (মায়া)
-নেকড়ের খাবার বানাবি?(আফনান)
-রাইট, (মায়া)

আফনান কিছু না বলে ডেভিল স্মাইল দিয়ে দরজা লাগিয়ে দিয়ে চলে যায়।

নীচে যেতেই,,

-মায় কোথায়? (মি. হাসান)
-ঘুমাচ্ছে (আফনান)
-ওহ, আচ্ছা, তাহলে আজকে ম্যাডামের খাওয়া হয়েছে। (মি.হাসান)
-আংকেল, মায়া একটুও বদলায় নি (আফনান)

আফনানের কথায় মি.হাসান চুপ করে থাকে।

-চলো ব্রেকফাস্ট করবে (মি.হাসান)
-সরি আংকেল, আমাকে যেতে হবে এখন, বিকালে আসব আবার, মহারানীকে নিতে (আফনান)
-ডোন্ট টেল মি, মায়া আবার আইসক্রিমের বায়না ধরেছে? (মি. হাসান)
-আংকেল, ইউ নো হার বেটার, নাও বাই।সি ইউ লেটার (আফনান)
-বাই, মাই চাইল্ড৷ (মি.হাসান)

আফনান চলে যায়।

In varsity,

রিয়ন, স্টিভ আর রেয়হান পার্কিং -এ দাড়িয়ে আছে।
-কিরে, ক্লাস টাইম তো হয়ে গেল, চল যাই। (রেয়হান)
-হুম, তোরা যা, আমি আজকে ক্লাস করব না। (রিয়ন)
-কি হয়েছে তোর রিয়ন?(স্টিভ)
-তোকে কি কৈফিয়ত দিতে হবে আমার?(রিয়ন রেগে বলে)
-সরি, আমরা যাচ্ছি।

বলেই স্টিভ আর রেয়হান চলে যায়।
রিয়ন ক্লাসে না গিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে যায় বাসায়।
বাসার সামনে গাড়ি পার্ক করে ঠিকই, কিন্তু ভিতরে যায় না।
রিয়নের বাড়ির পাশের জংগলের মাঝে হারিয়ে যায় রিয়ন।

In Hasan Mansion,

বেঘোরে ঘুমাচ্ছে মায়া। মায়ার রুমের ব্যালকনি টপকিয়ে কেউ ভেতরে প্রবেশ করে। ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় মায়ার দিকে। মায়ার বেডের একপাশে গিয়ে বসে পরে।
অন্য কেউ না, এই ব্যক্তিই রিয়ন।

-আমার ঘুম হারাম করে এ নিজেই ঘুমাচ্ছে, সেলফিস একটা (রিয়ন)
-কোন মেয়ের ঘরে ব্যালকনি টপকিয়ে চুপি চুপি প্রবেশ করে নিজেকে ক্যাংগারু প্রমাণ তো ভালোই করলে।

মায়া চোখ বন্ধ করেই কথাটা বলে। মায়ার কথায় রিয়ন অবাক হয়ে যায়।
মায়া চোখ খুলে উঠে বসে। রিয়ন তো পুরোই বোকা হয়ে যায়।

-কবে থেকে চলছে? আমার রুমে এভাবে চুরেএ মতো প্রবেশ করা?

মায়া রুমের দরজা ভালো মতো লাগিয়ে দিয়ে বলে।

-সেটা জেনে তোমার লাভ?(রিয়ন)
-বাহ, আমার রুমে এসে আমাকেই প্রশ্ন করা হচ্ছে?(মায়া)
-ক্লাসে যাও নি কেন?(রিয়ন)
-ইচ্ছা হয় নি তাই যাই নি। বাই দ্যা সমুদ্র,,,, (মায়া)
-সমুদ্র?(রিয়ন)
-কথা কম্পলিট তো করতে দেও মি.বাদুড় (মায়া)
-ওকে (রিয়ন)
-বাই দ্যা সমুদ্র, এতো উচুতে উঠলে কিভাবে? না রুমের সাথে কোন কিছু এডজাস্ট আছে, যে তা দিয়ে বেয়ে বেয়ে উঠবে?(মায়া)
-এমনি উঠেছি (রিয়ন)
-এমনি?(মায়া)
-হুম, (রিয়ন)
-সত্যিটা বলো, কিছু বলব না। নয়তো এখন একটা চিল্লান দিয়ে বাবাকে নিয়ে আসব রুমে (মায়া)
-ওকে, দাও, (রিয়ন মায়ার বিছানায় শুয়ে পড়ে)
-এই ব্যাটা বাদুড়,,,, (মায়া)
-এটাই আমি (রিয়ন)
-এটাই মানে? বাদুড়?(মায়া)
-হুম,বাট আ’ম এ ভ্যাম্পায়ার, প্রিন্স অফ ভ্যাম্পায়ার কিংডম (রিয়ন)

রিয়ন ভেবেছিল মায়া তার কথায় ভয় পাবে। কিন্তু মায়া শব্দ করে হেসে দেয়। রিয়ন অবাক হয়ে মায়ার দিকে তাকায়।

-হাসছ কেন?(রিয়ন)
-ভ্যাম্পায়ার? সিরিয়াসলি? ইউ থিংক আ’ম আ ফুল? হাহাহা, সো ফানি। ভ্যাম্পায়ার বলতে কিছু নেই, ওকে। (মায়া হাসতে হাসতে বলে)
-তাহলে ড্রাকুলা বলতেও কিছু নেই, যা তোমার উপর হামলা করেছে বার বার (রিয়ন)

রিয়নের এই কথায় মায়া হাসি থামায়। এবার তার মুখে সিরিয়াসনেস দেখা যাচ্ছে।

-ইউ আর জোকিং, লুক,,, (মায়া)
-নো, আ’ম নট (রিয়ন)
-রি,,,রিয়ন (মায়া)
-হোয়াট?ভয় পাচ্ছ কেন? কালকে রাতে তো দেখেছই আমার আসল চেহারা।(রিয়ন)
-লিভ ফ্রম হেয়ার (মায়া)
-কেন? (রিয়ন বিছানা ছেড়ে উঠে মায়ার দিকে এগোয়) ভয় হচ্ছে? নাকি ঘৃণা?

রিয়ন যতো এগোচ্ছে মায়া ততো পিছনে যাচ্ছে।

-কেন? মায়া? আমি কি তোমার কোন ক্ষতি করেছি? (রিয়ন)
-রি,,রিয়ন,,,ডোন্ট কাম এনি ক্লোজার (মায়া)

মায়া কথাটা বলতে বলতে দেয়ালের সাথে লেগে যায়। কিন্তু রিয়ন তাও এগোচ্ছে।

-কেন আসব না? আমি তো কোন ক্ষতি করি নি তোমার,

মায়া এক পাশে সরে যেতে চাইলে রিয়ন মায়ার দুপাশে হাত দিয়ে আটকিয়ে দেয় মায়াকে। মায়া ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে। রিয়ন মায়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে,,,

-বরং সবসময় তোমাকে প্রোটেক্ট করার চেষ্টা করেছি। আমি জানি মেয়েরা নাকি ছেলেদের মনের কথা বুঝে ফেকে, কিন্তু তুমি কেন বুঝ না?(রিয়ন)

রিয়নের কথায় মায়া চোখ খুলে রিয়নের চোখের দিকে তাকায়।

-টেল মি মায়া, কেন আমার আসল পরিচয় জেনে ভয় পাচ্ছ? (রিয়ন)

রিয়ন মায়ার এক হাত দিয়ে ফিংগার লক করে মায়ার হাত ধরে।

-চলো, (রিয়ন)
-কোথায়?(মায়া)
-ডু ইউ ট্রাস্ট মি, মায়া?(রিয়ন)
-,,,,,,
-টেল মি, (রিয়ন)
-ইয়েস, আই ডু। (মায়া)
-দ্যান লেটস গো (রিয়ন)

মায়া আর কিছু না বলে রিয়নের সাথে যায়৷ রিয়ন মায়াকে কুলে তোলে নেয়।

-ক্লোজ ইউর আইস, যতোক্ষণ না বলব খুলবে না।(রিয়ন)

মায়া নিজের চোখ বন্ধ করে আর রিয়ন বাতাসের গতিতে কোন এক অজানায় নিয়ে যায়৷
মায়া বুঝতে পারে রিয়ন তাকে নিয়ে অনেক গাছপালা অতিক্রম করে যাচ্ছে।
কিছুক্ষণ পর চারপাশ শান্ত অনুভব করে মায়া।
রিয়ন মায়াকে নামিয়ে দেয়, আর ধীর কন্ঠে বলে,

-স্লোলি ওপেন ইউর আইস, মায়া (রিয়ন)

রিয়নের কথায় মায়া চোখ খুলে সামনে তাকায়।

-ওয়াও, ,,,,

মায়া সামনে তাকাতেই অস্ফুটস্বরে কথাটা বলে উঠে, মায়ার চোখে মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠে।

জায়গাটার বর্ণনা দেই,

মায়া যেখানে দাঁড়িয়ে আছে তার নীচে একটা ঝর্ণা। বুঝতেই পারছেন, মায়া পাথরের উপর দাড়িয়ে আছে। ঝর্ণার পাশের অল্প ভেজা অনেক ছোট ছোট ঘাস, যার উপর সাদা, হলুদ, গোলাপি আর নীল রঙের অনেক ফুল। পাশের জংগল থেকে ভেসে আসছে পাখিদের গান। হালকা বাতাস, সাথে পানির শব্দ৷ এমন একটা জায়গা যেখানে গেলে যে কারোই ভালো লাগবে।

মায়া চোখ বন্ধ করে সেই মিষ্টি বাতাসে শ্বাস নেয়। আর রিয়ন, সে তো তার মায়াকে দেখতে ব্যস্ত।
রিয়ন পেছন দিক দিয়ে মায়াকে জড়িয়ে ধরতে হাত বাড়ায়। কিছু একটা ভেবে অন্যদিকে তাকিয়ে হাত সরিয়ে ফেলতেই মায়া রিয়নের হাত ধরে ফেলে।
রিয়ন কিছুটা অবাক হয়ে মায়ার দিকে তাকায়।
মায়া এক অদ্ভুত দৃষ্টিতে রিয়নের দিকে তাকিয়ে আছে, যার অর্থ রিয়ন ঠিকই বুঝতে পেরেছে।
মায়া রিয়নের হাত ধরেই রিয়নের কাছে এগিয়ে আসে। রিয়ন মায়ার থেকে অনেকটা লম্বা হওয়ায় মায়া তার পায়ের আঙুলের উপর ভর দেয় আর রিয়নের কানের কাছে মুখ নেয়। খুব ধীরে ধীরে বলতে থাকে,,,,,

-আই নো দ্যাট, ইউ লাভ মি। বাট ইউ ডোন্ট নো মাইন, যতই মাইন্ড রিডার হও, একটা মেয়ের ফিলিংস বুঝতে পারবে না। তাই প্রকাশ করছি,,
আই,, লাভ,,,ইউ,,,

কথাগুলো বলে মায়া রিয়নের দিকে তাকায় উত্তরের আশায়।

-কে বলল? আমি তোমায় ভালোবাসি?(রিয়ন)
-ডোন্ট নো,কেন আমি কিছু মিথ্যা বলেছি? (মায়া)
-হুম, মিথ্যাই বলেছ। আমি তোমায় ভালোবাসি না (রিয়ন)
-সত্যি?(মায়ার মন মুহুর্তে খারাপ হয়ে যায়)
-হুম, সত্যি। (রিয়ন)
-ওকে,,,

কিছুক্ষণ নিরবতা বিরাজ করে। হঠাৎ পানিতে ঝাপ দেওয়ার শব্দে রিয়ন ঘুরে তাকায়। মায়া কোথাও নেই, রিয়নের খুব ভয় হতে থাকে। কিছু না ভেবেই রিয়নও পানিতে ঝাপ দেয়।
এদিকওদিক খুজতে থাকে মায়াকে,

-ওহ, হ্যালো, মি.রাত জাগা বাদুড়, আমি এখানে

মায়ার কথায় রিয়ন উৎসের দিকে তাকায়।
মায়া পুরো ভিজে আছে, আর একটা পাথরের উপর বসে পা দুটো পানিতে দিয়ে রেখেছে।
রিয়নের প্রচুর রাগ উঠে যায়, কোনরকমে মায়ার কাছে এসে, মায়ার হাত ধরে দাড় করায়।

-কি করছিলে কি তুমি? হ্যা? ভয় পাইয়ে দিয়েছিলে, যদি কিছু হয়ে যেত? কি হতো?(রিয়ন)
-কি হতো?মরে যেতাম, তাই তো?(মায়া)
-মায়া, এসব ফালতু কথা যেন আর না শুনি (রিয়ন রেগে বলে)
-কেন? কষ্ট হয়? ইউ সেইড ইউ ডোন্ট লা,,,,,

মায়া বাকিটুকু বলার আগেই রিয়ন মায়াকে একটানে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নেয়।

-আই লাভ ইউ, মায়া,মোর দ্যান মাই লাইফ। (রিয়ন)

মায়াও রিয়নকে জড়িয়ে ধরে।

-এবার ব্যাটা বাদুড় তাহলে লাইনে এলেন, (মায়া)

রিয়ন হেসে মায়াকে ছেড়ে দিয়ে কপালে কিস করে।

কিছুক্ষণ পর,
রিয়ন মায়াকে তার রুমে নিয়ে আসে।

-বাই, সুইটহার্ট। (রিয়ন)
-রাতে ওয়েট করব,, (মায়া)
-কিসের জন্য?(রিয়ন)
-জানি না “‘” ব্যাটা এ দুইদিন তো রাতে কতো সুন্দর জায়গায় নিয়ে যেতে, আজকেও যে তারই অপেক্ষা করব তা বুঝ না “‘” (মায়া)
-ওকে, রাত ১০ টা,,

রিয়ন টেডি স্মাইল দিয়ে চলে যায়। মায়া ফ্রেশ হয়ে ডাইনিং-এ যায়।

-ওহ আম্মিইইইই, খিদে পেয়েছে, খেতে দাও। (মায়া)
-ঘুমিয়ে পেট ভরে নি?(মা)
-তুমি খেতে দিবে কি না?(মায়া)
-দিচ্ছি (মা)

মায়ার মা মায়াকে খাবার দেয়। তখনই মি.হাসান এসে সোফায় বসে।

-প্রিন্সেস,? (মি.হাসান)
-জ্বী আব্বু(মায়া)
-বিকালে আফনানের সাথে কোথাও যাবে?(মি.হাসান)
-বানরটা তাহলে বলেছে তোমাকে?(মায়া)
-হুম, কিন্তু,, আফনান যেতে পারবে না (মি.হাসান)
-যেতে পারবে না মানে?(মায়া)
-তুমি তো ঘুমিয়েছিলে, আমাকে ফোন দিয়ে বলল তার কাজ আছে, খুবই জরুরি, তাই যাবে না।(মি.হাসান)
-ওহ, আচ্ছা। (মায়া)
-মায়া?(মি.হাসান)

মি.হাসানের এমন ডাকে মায়ার ভয় হয়, কারণ কোন অপরাধের কথা বলা ছাড়া মি.হাসান তার নাম ধরে ডাকে না।

-কিছু বলবে আব্বু?(মায়া)
-হুম, রিয়নকে তোর কেমন লাগে?(মি.হাসান)
-“‘”আরেহ বাস, এতো মেঘ না চাইতেই জল, এতো আগে তো আমি এগুচ্ছি না আব্বাজান”‘” কেন বাবা?(মায়া)
-যা জিজ্ঞাসা করছি তার উত্তর দেও(মি.হাসান)
-হুম, ভালই, (মায়া)
-বন্ধুত্ব কেমন তোমাদের?(মি.হাসান)
– মুটামুটি,, (মায়া)
– মোটামুটি?? (মি.হাসান)
– হুম। কেন?(মায়া)
– না, এমনি।

চলবে,,,,,,,,,,,,,,

🔥2 view

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *