Blood King Or Lover |Part-14+15

-মায়া, শুন, (মি.হাসান)
-হ্যা, আব্বু?(মায়া)
-তোর মাকে ডাক দে তো (মি.হাসান)
-আচ্ছা, দিচ্ছি। ওহ আম্মম্মম্মম্মম্মম্মম্মম্মায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া, কায়ায়াজেয়েয়ের বেএএটিইইইইইইই,পায়ায়ায়ায়ায়ায়াগলিইইইইইইইই(জোরে চিল্লিয়ে) কোথায় আপনি, আপনার পাগল—-

বলতে বলতে নিজের বাবার দিকে তাকায় আর এক ডোক গিলে। মায়ার বাবা তার দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

-না, মানে, আমার প্রিয় আব্বাজান আপনাকে ডাকছেন। (মায়া দাঁত বের করে হেসে বলে)

মায়ার মা কিচেন থেকে হাত মুছতে মুছতে বেরিয়ে আসে।

-কি হয়েছে কি? ষাড়ের মতো চিল্লাচিল্লি করছিস কেন?(মা)
-আম্মিই, আমি কোন দিক দিয়ে দেখতে ছেলে?(মায়া কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে বলে)
-ছেলে হবি কেন?(মা টাস্কি খেয়ে বলে)
-তুমি আমাকে ষাড় কেন বললে? ষাড় তো ছেলেরা হয়। (মায়া)
-হায় মোর কপাল (কপালে হাত দিয়ে) তোকে যে কি দিয়ে (বলতে বলতে মায়ার বাবার দিকে তাকায়), কি গো? এভাবে তাকিয়ে কি দেখছ?(মা)
-দেখছি, আমার মেয়েটা এখনো বাচ্চাই আছে। (মি.হাসান)
-আমি বাচ্চা? আব্বু আব্বু (মি.হাসানের দিকে এগিয়ে গিয়ে), আমাল চককেট দাও (ছোটদের মতো করে বলে)
-এহ?(মি.হাসান চোখ বড় বড় করে বলে)
-এহ, না হ্যা, আমাল চককেট দাও, ছোটদের চককেট দিতে হয়, তানো(জানো) না?(মায়া)
-এই, মায়া, কি শুরু করেছিস? ফ্রিজে চকলেট আছে যা, আর তুমি কি বলবে বলো (মা)
-না, না, আমি যাব না,আমিও শুনব। (মায়া বাবার পাশে বসে বলে)
-আচ্ছা, দুজনকেই বলব। শোন, কালকে একটা বিজনেস পার্টি আছে। তোমরা বিকেলে রেডি থেকো। (মি.হাসান)
-এই কথা, আচ্ছা, থাকব।

বলেই মায়ার মা চলে যায়।

-কিন্তু বাবাই, (মায়া আহ্লাদ করে বলে)
-হুম?(মি.হাসান)
-তোমার অই বোরিং পার্টিতে গিয়ে আমি কি করব?(মায়া)
-তোর বয়সী অনেকেই যাবে, আর হ্যা তোরা ৫ স্টার থাকবি পার্টিতে(মি.হাসান)
-৫ স্টার? সত্যি?(মায়া খুশি হয়ে বলে)
-হুম, সত্যি। (মি.হাসান)
-টাকা দাও (মায়া হাত পেতে বলে)
-কিসের টাকা?(মি.হাসান)
-বাহ রে, পার্টিতে যাব, শপিং করব না?(মায়া)

মায়ার বাবা কিছু বলতে যাবে তার আগেই কেউ কলিংবেল বাজায়। মি.হাসান উঠে গিয়ে দরজা খুলে দেয়। একজন লোক বিশাল বড় এক পার্সেল নিয়ে আসে, আর মায়ার সামনে রাখে আর চলে যায়।
মি.হাসান মায়ার দিকে এগিয়ে আসে।

-এটা কি আব্বু?(মায়া)
-এটা সকল বিজনেস পার্টনারদের ফুল ফ্যামিলির জন্য পাঠানো হয়েছে। তোদের পার্টির ড্রেস। (মি.হাসান)
-“‘”এটা কোন কাজ হলো? আমার কি ড্রেসের অভাব নাকি? কই ভাবলাম টাকাগুলো দিয়ে ইচ্ছে মতো ঘুরব, সব প্ল্যান ভেস্তে দিল। পার্সেল সিন্ডারকে তো আমি,,,,”‘” -মায়া মনে মনে বলে।
-কিরে, কোথায় হারালি?(মি.হাসান)
-কিছু না (মায়া)
-এই নে (তিনটাটা ব্যাগ হাতে দিয়ে) এটা তোর। (মি.হাসান)

মায়া হাতে নিয়ে দেখে ব্যাগ তিনটি একসাথে লাগানো, আর উপরে “মায়া হাসান” লেখা।

-যা, নিজের রুমে গিয়ে দেখ। (মি.হাসান)
-হুম (মায়া)

মায়া মন খারাপ করে চলে যেতে থাকে।

-মায়া,,(মি.হাসান)
-জ্বি আব্বু?(মায়া)
-ঘুরাঘুরির টাকা দুদিন পরে নিয়ে নিস (মি.হাসান)
-ওকে আব্বু, (খুশি হয়ে বলে)

মায়া তার রুমে চলে যায়।

In Adrin Mansion,

রিয়ন বাসায় ঢুকতেই কাউকে সোফায় বসে থাকতে দেখে, আর মুখে হাসি ফোটে উঠে।

-ড্যাড, হোয়াট এ সারপ্রাইজ,,,

বলেই রিয়ন তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে।

-রিয়ন, মাই সান। (এরেন)
-হঠাত বিডিতে এলে যে?(রিয়ন বসতে বসতে বলে)
-বিজনেসের ব্যাপারে এসেছি, আর কালকে একটা পার্টি থ্রো করেছি, তাই আসতে হলো।(এরেন)
-ওহ, ইথেন আসে নি?(রিয়ন)

একজন সার্ভেন্ট এসে ব্লাড ভর্তিগ্লাস দিয়ে যায়, সেও একজন ভ্যাম্পায়ার, কিন্তু সাধারণ।

-হুম,এসেছে, স্টিভের কাছে আছে। বাই দ্যা ওয়ে, মায়ার সাথে কেমন সম্পর্ক? (এরেন)
-এহ,এই কথা কেন ড্যাড?(অবাক হয়ে)
-জিজ্ঞাসা করছি, বলো। (এরেন)
-কেমন আর, ভালোই। (রিয়ন ব্লাডের গ্লাস হাতে নিয়ে বলে)
-হুম, আই নো ইউ লাভ হার। (এরেন)

রিয়ন ব্লাড পান করছিল, এরেনের কথায় মুখে থাকা ব্লাডটুকু সামনে ফেলে দেয়।

-ড্যাড?(রিয়ন)
-আম ইউর ফাদার রিয়ন, & এটা হওয়ারই ছিল, মানে আমি আশা করেছিলাম। (এরেন মুচকি হেসে বলে)
-তোমার এতে আপত্তি নেই?(রিয়ন)
-নো (এরেন)
-হোয়াই?(রিয়ন)
-শি ইজ হাফ হিউম্যান & হাফ ভ্যাম্পায়ার (এরেন)
-কিন্তু ড্যাড,,, (রিয়ন)
-আই নো আমি কিছু স্কিপ করেছি। মায়া ফুল মুনে জন্মগ্রহণ করেছিল, আর তাই তাকে তোর ব্লাড দিয়ে বাচানো সম্ভব হয়েছে। (এরেন)
-ওহ, আচ্ছা (রিয়ন)
-হুম, বি রেডি ফর টমোরো (এরেন)

In the jungle,
আফনান একা একা বসে আছে। ফোন বের করে একটা ছবি বের করে, সেটা আর কারো নয় মায়ার ছবি।
দুপাশে ঝুটি করে কিছুচুল সামনে এসে আছে, ফেসটা বাচ্চাদের মতো করা। পিচ্চিপিচ্চি লাগছে ছবিতে।

-হেই, মায়ু, তোর জীবনে কি অন্য কেউ এসেছে? আমি কি দেরি করে ফেলেছি? তুই জানিসও না আমি তোকে কতটা ভালোবাসি। কেন জানি মনে হয় তোকে পাওয়ার আগেই হারাতে বসেছি। আমি তোকে হারাতে দিব না।

আফনান নিজে নিজে কথাগুলো বলে মায়ার ছবি সহ ফোনটা বুকের উপর রেখে ঘাসের উপর চিত হয়ে শুয়ে পড়ে।

In a cafe,

সিতারা, দিয়া আর আশা বসে আছে।

-ইয়ার, আজকে মায়ুটা আসল না ক্লাসে,(আশা)
-আর এর জন্য আমাদেরও ক্লাস মিস(দিয়া)
-হুম, আন্টিকে ফোন দিয়েছিলাম। ফকিন্নি নাকি এক্সিডেন্ট করেছে। (সিতারা)
-হোয়াট?(দিয়া আর আশা একসাথে বলে উঠে)
-হুম,,,,,, সত্যিটা শুন,,,,

সিতারা বাকি দুজনকে সত্যিটা বলে।

-কিন্তু তুই জানলি কিভাবে?(আশা)
-আমার থেকে,

একটা ছেলে এসে বসে তাদের সাথে।

-হেই, ইভান, তুমি এখানে?(সিতারা)
-এই ক্যাফে আমি প্রায়ই আসি, তোমাদের দেখলাম তাই জয়েন করতে এলাম,তোমাদের কোন সমস্যা নেই তো?(ইভান)
-নো, কোন সমস্যা নেই। (আশা)

তখনই সেখানে রেয়হান,স্টিভ আর স্মিথের আগমন ঘটে।

-হেই, গার্লস, ক্লাস ফাকি দিলে যে আজ—

রেয়হান কথাগুলো বলতে বলতে ইভানের দিকে তাকায়, আর মুহুর্তে তার চেহারা পাল্টে যায়, মানে রেগে যায়।

-ওহ, হাই, আসলে মায়া নেই তাই ক্লাস মিস দিয়েছি। (দিয়া) (আহারে কত্ত ভালোবাসে আমারে 😒)
-ওহ, আচ্ছা, একে তো চিনলাম না, (স্টিভ ইভানের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলে)
-ওহ, উনি আমার বাবার বিজনেস পার্টনার ইভান, কালকে মিট হয়েছে আমাদের। ইউ নো হোয়াট, হি ইজ ভেরি ফ্রেন্ডলি।

সিতারা মুখে হাসি ফুটিয়ে কথাগুলো বলতে বলতে রেয়হানের দিকে তাকায়,আর হাসি গায়েব হয়ে যায়।
রেয়হান এংগ্রি লুক দিয়ে তাকিয়ে আছে সিতারার দিকে।

-আয়া,,বা,,বাই দ্যা ওয়ে,(অন্যদিকে তাকিয়ে) ইভান, মিট মাই ফ্রেন্ড দিয়া, আশা, স্মিথ। (সিতারা)
-আর এই হিরো?(ইভান রেয়হানকে দেখিয়ে বলে)
-ইনি রেয়হান, (সিতারা)
-তোমার কি হয়?(ইভান)
-ওহ, আম,,আমার?(রেয়হানের দিকে তাকিয়ে) আমার বয়ফ্রেন্ড (চোখ বন্ধ করে বলে)
-কি?(স্মিথ, দিয়া & আশা)

সিতারার কথা শুনে রেয়হানের রাগ গায়েব, আর রাগের জায়গা দখল করেছে এক রাশ বিষ্ময়।
অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে রেয়হান।

“‘এটা কি বলল সিতারা?”‘ রেয়হান মনে মনে বলে,

-ওকে, নাইস টু মিট ইউ গাইস, নাউ আই হেভ টু গো। (ইভান)

ইভান চলে যায়। বাকি তিনজন একবার সিতারার দিকে তাকায় একবার রেয়হানের দিকে। সিতারা তখনও চোখ বন্ধ করে আছে।
কোন রেসপন্স না পেয়ে সিতারা এক চোখ খুলে সামনে তাকায়। দিয়া, স্মিথ আর আশা নেই সেখানে।
আরেক চোখ খুলে তাকাতেই দেখে রেয়হান তার সামনে মাথা নীচু করে বসে আছে। আর বাকিরা উধাও।

-আরেহ, সবাই গেল কোথায়?(সিতারা আশে পাশে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলে)

Outside of the cafe,

স্মিথ, দিয়া আর আশা হাসতে হাসতে ক্যাফ থেকে বের হয়ে পার্কিং -এসে দাঁড়ায়।

-সিরিয়াসলি? আমি এরকমই কিছু আশা করছিলাম সিতারার থেকে, দেখতি আগে কথা ঘুরাতো যখন আমরা ধরে ফেলতাম সে রেয়হানের দিকে তাকাতো। (দিয়া)
-ঠিক বলেছিস, জানো, স্মিথ (স্মিথের কাধে হাত রেখে) আব, সরি, ভুলে,,,

আশা মাথা নীচু করে ফেলে। দিয়া অবাক হয়ে মুচকি হাসে, আর নিজের গাড়ি নিয়ে চলে যায়।

-”” বাহ! আরেকটা লাভ বার্ড হবে দেখছি, আমি কেটে পরি, কাবাবের হাড্ডি হওয়ার ইচ্ছা নেই”” (দিয়া)

-আশা, গেট অন দ্যা কার (স্মিথ)
-হ্যা?(আশা)

স্মিথ কিছু না বলে আশার হাত ধরে টেনে গাড়িতে বসিয়ে দেয় আর নিজেও গাড়িতে উঠে বসে।

In Adrin Mansion,

শাহরিয়ার বাহির থেকে খেলনা গাড়ি হাতে নিয়ে খেলতে খেলতে ভেতরে প্রবেশ করে। আর এরেনকে সোফায় দেখতে পায়।
খেলনা গাড়ি একসাইটে রেখে রিয়ন আর এরেনের দিকে এগিয়ে যায়।

-ভাইয়া,,, (শাহরিয়ার)
-ইয়েস, ভাইয়া, এদিকে এসো, (শাহরিয়ারকে টেনে নিজের পাশে বসায় রিয়ন)
-ভাইয়া?! রিয়ন, কে এই ছেলে যে তোকে ভাই বলছে। (এরেন)
-বলছি, তার আগে পরিচয় হও। শাহরিয়ার, এটা আমার বাবা, মানে তোমারও বাবা। আর ড্যাড, এটা তোমার ছোট ছেলে। (রিয়ন)
-আমি তো কিছুই বুঝছি না(এরেন)

রিয়ন এরেনকে শাহরিয়ারের ব্যাপারে সব খুলে বলে। সব শুনে এরেন শাহরিয়ারকে তার কাছে আসতে ইশারা করে। শাহরিয়ারও বাধ্য ছেলের মতো এরেনের কাছে যায়।

-সত্যি রিয়ন, তোমার এই রূপের কথা কেউ বিশ্বাস করবে না। বাই দ্যা ওয়ে, মাই লিটল প্রিন্স, তোমার ভাই কোন কিছু নিয়ে বকাবকি করে না তো?(এরেন)
-না, আংক,,,(শাহরিয়ারকে থামিয়ে দিয়ে বলে)
-নো আংকেল, কল মি পাপা অর ড্যাড। (এরেন)
-আব্বু,,,(শাহরিয়ারের চোখে পানি টলমল করছে)

এরেন মুচকি হেসে শাহরিয়ারকে জড়িয়ে ধরে।

-ডোন্ট ক্রায়, লিটল প্রিন্স। তোমার সব গিফটস এসে পড়বে বিকালে, ওকে। (এরেন)
-ওকে আব্বু, কিন্তু আমার সবথেকে বড় গিফট আমি পেয়ে গেছি।(শাহরিয়ার)
-কি সেটা?(রিয়ন)
-আল্লাহ তায়ালা আমাকে গিফট হিসেবে রিয়ন ভাইয়া আর আব্বুকে দিয়েছে। আমি এতেই শুকরিয়া আদায় করছি। (শাহরিয়ার)
-বাহ, আপনি তো খুব বুদ্ধিমান। (এরেন)
-কার ভাই, বুঝতে হবে তো (রিয়ন)

তিনজনই একসাথে হেসে উঠে।

অন্যদিকে,
স্মিথ ড্রাইভ করছে, আশাকে সে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তা জানে না।
-আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?(আশা)
-তোমার বাড়িতে (স্মিথ)
-ওহ, (আশা)
-তোমার লাইফে কেউ আছে?(স্মিথ)
-মানে?(আশা)
-মানে বয়ফ্রেন্ড /লাভার(স্মিথ)
-না, কিন্তু উড বি হাজবেন্ড আছে।

আশার এই কথায় স্মিথ গাড়ি ব্রেক করে ফেলে। আশা ব্যালেন্স না রাখতে পেরে সামনের দিকে ঝুকে পরে।

-কি বললে তুমি?(স্মিথ)
-কি বলেছি? আর এভাবে কেউ ব্রেক করে?(আশা)

স্মিথ আর কিছু না বলে গাড়ির স্টেরিং এর উপর জোরে থাপ্পড় মারে। আর আশা ভয় পেয়ে যায়। স্মিথ আর কিছু না বলে আবার ড্রাইভ করতে থাকে। স্মিথের চেহারায় স্পষ্ট রাগের ছাপ।

স্মিথ আশার বাসার সামনে এসে গাড়ি থামায়। আশা বের হওয়ার আগেই স্মিথ বেরিয়ে আসে।
আশাকে টেনে গাড়ি থেকে বের করে। আর ঠিক সেভাবেই হাতে ধরে নিয়ে আশার বাসার ভেতরে যায়।

-আরেহ আরেহ, এভাবে কেন আমাকে নিয়ে যাচ্ছেন। হাত ছাড়ুন (আশা হাত ছাড়ানোর বৃথা চেষ্টা করতে থাকে)

স্মিথ আশা তার বাসার ড্রয়িং রুমে এনে ছেড়ে দেয়।
সেখানে আশার বাবা আর মা বসেছিল। ঘটনা দেখে তারা বসা থেকে উঠে দাড়ায়।

-কে তুমি? আমার মেয়েকে এভাবে কেন টেনে আনছ? আশা, হো ইজ হি?(আশার বাবা)

আশার বাবার ধমকে আশা কেপে উঠে। স্মিথ বুঝতে পারে আশা ভয় পেয়েছে।

-আংকেল, ডোন্ট ব্লেম হার, লেট মি এক্সপ্লেন(স্মিথ)
-তুমি চুপ থাকো, এভাবে কেউ কারো বাসায় প্রবেশ করে? দেখে তো ভদ্র ঘরের ছেলে মনে হয়, এভাবে,,,(আশার বাবা কথাগুলো রেগে ধমক দিয়ে বলতে থাকে,কিন্তু স্মিথ তাকে থামিয়ে দেয়)
-আর আপনাকে দেখেও ভদ্র লোক মনে হয়, কিন্তু এভাবে কোন ভদ্রলোক কথা বলে না। চুপচাপ বসুন, আগে আমি বলব তারপর আপনি বলবেন, আর এর আগে একটা কথা বললে, ভুলে যাব আপনি আশার বাবা।

স্মিথ রেগে কথাগুলো বলার সময় তার চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে যায়, মুখের শিরা-উপশিরা গুলো ভেসে উঠে, আর চোখও লালবর্ণ হয়ে উঠে।আশা পিছনে ছিল, তাই দেখতে পারে নি। স্মিথের এই রূপ দেখে আশার বাবা মা ভয় পেয়ে যায়। তাই আর কিছু না বলে তারা চুপচাপ বসে পরে।
আশা অবাক হয়ে যায় এতে৷
স্মিথও গিয়ে সোফায় বসে পরে।

-আশা, কাম হেয়ার, (স্মিথ)

আশা মাথা নীচু করে স্মিথের দিকে এগিয়ে যায়, আর মনে মনে বলতে থাকে,

“” ইয়া আল্লাহ, সেভ মি ফ্রম দ্যাম। এমনিতেই তো বিয়ে ঠিক এই মিথ্যা বলে রাগিয়ে দিয়েছি,আবার বাবার কথায় রেগে গেছে৷ বাবাও তো রেগে গেছে। আল্লাহ আমাকে না আজকে কাচা চাবিয়ে খায় এরা”‘

স্মিতও ভ্যাম্পায়ার হওয়ায় আশার মনের কথাগুলো বুঝতে পারে। আর এতে তার রাগ আরো বেড়ে যায়। স্মিথ রাগী দৃষ্টিতে আশার দিকে একবার তাকায়, আর আশা তা দেখে একটা শুকনো ঢোক গিলে, আশার মনে হচ্ছে স্মিথ পারে না শুধু আশাকে গিলে খেতে।

-বাই দ্যা ওয়ে, আ’ম সরি ফর মাই বিহেভিয়ার। এবার মেইন কথায় আসি। আশার বিয়ে টিয়ে নিয়ে চিন্তা করছেন?(স্মিথ)
-ন,,না তো বাবা, কেন?(আশার বাবা)
-গুড, আমি এখানে বিয়ে প্রপোজাল নিয়ে এসেছি। আমি আশাকে ভালোবাসি আর তাকেই বিয়ে করব। (দাঁতে দাঁত চেপে বলে) আই হোপ কোন প্রবলেম হবে না আপনাদের। (স্মিথ)

স্মিথের এই কথায় আশা অবাক হয়ে যায়। স্মিথ তাকে ভালোবাসে এটা সে যেন বিশ্বাস করতে পারছে না৷ যেন সে স্বপ্ন দেখছে।

-না, না, আমাদের কোন সমস্যা নেই, আমরা রাজি, তবে, তোমার ব্যাপারে তো কিছুই জানি না, বাবা (আশার বাবা ভয়ে ভয়ে বলে)
-হুম, গুড টপিক। আমি তো আজকালকের ভিতর বিয়ে করছি না, তাই আমার সম্পর্কে সব জেনে যাবেন। যেমন এখন কিছু জানলেন(স্মিথ ভিলেন স্মাইল দিয়ে বলে)
-হ্যা হ্যা, তুমি যা বলবে তাই হবে (আশার মা)
-কিন্তু, আমি এখন বি,,

আশা বলতে বলতে স্মিথের দিকে তাকায়। স্মিথ আশার দিকে তাকিয়ে আছে, তাই বাকিটুকু আর বলে না।

-কি হলো বলো, মাই ঊড বি ওয়াইফ (স্মিথ)
-না, আসলে লেখাপড়া শেষ করে,,,(আশা)
-সেটা আমার মাথায় আছে।

স্মিথ আশার কপালে হঠাৎ করেই কিস করে, যার জন্য আশার চোখ বড় বড় হয়ে যায়। আশার বাবা মাও অবাক হয়ে যায়।

-আমি এখন আসছি, বাই। আর হ্যা, ডিয়ার ফাদার & মাদার ইন লো, আমি যাওয়ার পর আশাকে কোন প্রশ্ন করবেন না, আর না বকাবকি, আমি সবই খবর পাব। যদি তা হয়েছে, তো,,, (স্মিথ)
-না, না, ও আমাদের একটি মাত্র মেয়ে, ওকে কেন বকাবকি করব। (আশার বাবা জোর করে হাসার চেষ্টা করে)
-গুড, টেক কেয়ার, আশা।

বলেই স্মিথ চলে যায়। আশা স্মিথের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে।পরক্ষণেই বাবা মায়ের দিকে তাকালে আশার বাবা তার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকায়।

-আমিও কিছু বুঝতেছি না।(আশা)

আশা কথাটা বলেই নিজের রুমে চলে যায়।

In Hasan Mansion,

বিকালের সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পরছে। আকাশে নীল,লাল,হলুদ, কালো আর কমলা রঙের মেলা। পাখিরা সব উড়ে যাচ্ছে নিজ নিজ বাসস্থানে। মায়া তার রুমের ব্যালকনিতে দাড়িয়ে একমনে আকাশ দেখছে।
হঠাৎ কেউ একজন মায়ার বাম কাধে হাত দেয়, মায়া বাম দিকে তাকাতেই ব্যক্তিটি মায়ার ডান দিকে মুখ করে। মায়া ডান দিকে ঘুরতেই ভুলবশত কারো গালো কিস করে ফেলে। ভালোমতো তাকিয়ে দেখে সে রিয়ন।

-বাহ! এই বিকেল বেলা এতো ভালো মিষ্টি পাব, জানা ছিল না। একটু বেশিই মিষ্টি, ডায়বেটিস না হয় আবার।
রিয়ন মুচকি হেসে বলে। আর মায়া তো লজ্জায় লাল হয়ে গেছে।
-ইউ, এভাবে চুরের মতো এসেছ কেন? হ্যা?আর কিসটা আমি ইচ্ছে করে দেই নি (মায়া)
-আচ্ছা? ইচ্ছে করে দাও নি? তাহলে ইচ্ছা করে আরেকটা দাও।

বলেই রিয়ন তার অপসিট গাল পেতে দেয়।

-ইন ইউর বেড ড্রিমস,

মায়া রিয়নের গাল সরিয়ে দিয়ে ভেতরে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়।

-কোথাও শুনেছিলাম, এক গালে কিস করলে নাকি ব্যক্তিটি মারা যায়। কেউ যদি চায় আমি মরে যা,,,,,

বাকিটুকু বলার আগেই মায়া দৌড়ে এসে রিয়নের আরেকগালে কিস করে।
রিয়ন মায়ার কোমর জড়িয়ে ধরে নিজের কাছে টেনে নেয় আর কানেকানে বলে,

-কিস নেওয়ার নিনজা টেকনিক তাহলে কাজে লেগেছে।

রিয়নের এই কথায় মায়া রেগে যায়। আর রিয়নকে কিল ঘুষি থাপ্পড় মারে,আর রিয়ন হাসতে থাকে। একটা সময় নিজে থেকেই থেমে যায়।

-কি হলো? এতো সহজেই থেমে গেলে, জানপাখি? ওহ৷ তোমার এই নরম হাতের (মায়ার হাত ধরে সামনে নিয়ে) মার কিন্তু মিষ্টি লাগে।

বলেই রিয়ন মায়ার হাতে কিস করে।
হঠাৎ রিয়ন মায়াকে ছেড়ে দেয়, আর মায়ার বাড়ির বাগানের দিকে তাকায়। অন্ধকার হয়ে গেছে।
রিয়ন তাকাতেই কিছু একটা সরে ঝুপড়িতে গিয়ে লুকায়।
মায়া রিয়নের দৃষ্টি অনুসরণ করে বাগানের দিকে তাকায়।

-মায়া, আ’ম সরি, রাতে অপেক্ষা করো না, আমার একটা কাজ আছে, আর এখন যেতে হবে রুমে গিয়ে ব্যালকনির দরজা লাগিয়ে দাও। যাও,

রিয়ন বাগানের দিকে তাকিয়েই মায়াকে রুমে ঢুকিয়ে দেয়।

-আর হ্যা, রাতে এই দরজা খুলার দরকার নেই। ওকে।

বলেই রিয়ন বাহির থেকেও দরজা লাগিয়ে দিয়ে চলে যায়।
আর মায়া এদিকে চিন্তায় পড়ে যায়।
-কি হলো? এখনই তো ভালো ছিল, হঠাৎ কি এমন দেখল যে মুহুর্তে চেহারায় এমন রাগী ভাব চলে এলো? ওহ আল্লাহ, আমার রিয়নকে সেফ রেখ। (মায়া)

In the forest,

রিয়ন আশেপাশে না তাকিয়ে সোজা জংগলে চলে আসে।
জংগলে এসে থামতেই কিছু একটা রিয়নকে পেছনের দিক থেকে আঘাত করে।
রিয়ন টাল সামলাতে না পেরে উপুর হয়ে পরে যায়।
উল্টো হয়ে ঘুরতেই একটা নেকড়ে এসে রিয়নের উপর হামলা করে। রিয়ন কোনরকমে নেকড়েকে সরিয়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে যায়।
কিন্তু রিয়ন তার আশেপাশে আরো কয়েকটা নেকড়ে দেখতে পায়া, যারা রিয়নকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। নেকড়েগুলো সংখ্যায় অনেক।

চলবে,,,,,,

[এক্সকিউজ মি, যারা কালকের পোস্ট পড়ে খুশি হয়েছিলেন এটা ভেবে যে, আমি আর গল্প দিব না, তাদের জন্য এক বদনা সমবেদনা। আমি কখনোই নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাই না, নিজেকে করা নিজের ওয়াদা যেভাবেই হোক পূরণ করি। তাই আমি বললেও কেউ ভাববেন না যে লেখালেখি আমি বন্ধ করব। এতোদুর যখন এসেছি, যাত্রা যখন শুরু করেছি, এতো সহজেই হার মানব না, + থেমেও যাবো না।

কারো আমার পোস্ট নিয়ে মাথা ব্যথা থাকলে, খারাপ লাগলে নাপা খান, তাও না হলে মাথায় পানি ঢালেন। আর তাও যদি না পারেন, প্বার্শবর্তী কোন সরকারি হাসপাতালে গিয়ে প্যারাসিটামল নিয়ে খেয়ে নেন, তাও না হলে আমাকে বলবেন, নাপা পাঠিয়ে দিব। আমার মানসিকতা কেমন নাকি যার যা ইচ্ছা ভাবেন, আই ডোন্ট কেয়ার। আমি এমনই, যতটা ভালো আর ভদ্র মনে হয় তার থেকে ঠিক কয়েকগুন খারাপ & রাগী। আর যেখানে আসে নিজেকে নিয়ে এতো গর্ব করার কথা অহংকার করার কথা, সেখানে কালকেও বলছি আজকেও বলি।

আমার হাত ব্যবহার, আমার ব্রেইন খাটিয়ে আমি গল্প লিখি,যেটা আমার মেধা।তাই নিজের মেধা খাটিয়ে যেকোন কাজই আমার কাছে বেস্ট, সেটাই আমার কাছে সেরা।না আপনার কাছে কোন হেল্প নেই, আর না আপনার থেকে ইন্সপায়ারড হই। আমার এক আপু, যদিও তার সাথে এই গল্প লেখা নিয়ে পরিচয়, তিনি একবার বলেছিলেন, নিজের ঢোল নিজেরই পেটাতে হয়, অন্যরা ভালো সুর বাজাবে না, বরং খারাপটাই পেটাবে। আর যারা ভাবেন, আমার এটিটিউড বেশি, আমার সাথে ভালো মতো কথা বললে আমি ভাবব প্রপোজ করবেন বা অন্য কিছু, তারা প্লিজ বাকিদের কাছ থেকে শুনে নিবেন।এই গল্প লেখার মাধ্যমে অনেক ভালো ফ্রেন্ড পাইছি, যাদের মধ্যে ছেলে মেয়ে উভয়ই আছে। আর হ্যা, যারা আমার সাথে এড আছেন তারাও বলবেন আমি কেমন। তারপর আমাকে অন্যদের সাথে বিচার করবেন।
আর যারা আমাকে সাপোর্ট করেন, ভালোবাসেন, তাদের ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করব না। তাদের জন্য রইল আমার অসংখ্য ভালোবাসা।
কথাগুলো না বুঝে কেউ আবার ইনবক্সে চিল্লাইয়েন না।] 🔥3 view

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *