Blood King Or Lover |Part-16

নেকড়েগুলো সংখ্যায় অনেক।
নেকড়ে গুলো ধীরে ধীরে রিয়নের দিকে এগিয়ে আসে। রিয়ন খুব ভালো মতো বুঝতে থাকে এটা পূর্বপরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এতগুলো নেকড়ের সাথে রিয়ন একা পেরে উঠবে না, আর এখান থেকে বের হওয়ারও কোন উপায় নেই।

নেকড়েগুলো রিয়নের উপর আক্রমণ করবে, ঠিক তার আগমুহূর্তে একটা নেকড়ে লাফিয়ে এসে রিয়নের পাশে দাড়ায়।

-স্টপ, (নেকড়ে)

নেকড়েকে দেখে বাকি নেকড়েগুলো দুরে সরে যায় আর মাথা নীচু করে সম্মান জানায়।

-কিং, আপনি এখানে?(১ম নেকড়ে)
-আমাকে কি তোমাদের পারমিশন নিয়ে ঘুরতে হবে? এক্ষুণি রাজ্যে ফিরে যাও (নেকড়ে)
-কিন্তু কিং, এযে ভ্যাম্পায়ার প্রিন্স, একে—-
-এতো বড় সাহস, আমার কথা অমান্য করছ?(নেকড়ে)
-সরি কিং,

নেকড়েগুলো আরেকবার সম্মান দেখিয়ে চলে যায়।
রিয়ন এতোক্ষণ অবাক হয়ে দেখছিল নেকড়েদের কাজকর্ম। সব নেকড়ে চলে যেতেই রিয়ন কিং নেকড়ের দিকে তাকায়।

-অবাক হওয়ার কিছু নেই, প্রিন্স রিয়ন। আমার রাজ্যের কোন নেকড়ে তোমার উপর হামলা করবে না, আর করলেও সে যোগ্য শাস্তি পাবে।

কথাগুলো বলেই নেকড়েটি জংগলের অন্ধকারে হারিয়ে যায়। রিয়ন বোকার মতো ঠাই দাঁড়িয়ে থাকে।
কিছুক্ষণ পর এরেন এসে উপস্থিত হয়।

-রিয়ন, আর ইউ ওকে?(এরেন)
-ড্যাড, তুমি এখানে? (রিয়ন)
-নেকড়েরা তোমার উপর হামলা করেছে, বুঝেই আমি চলে আসি।তুমি ঠিক আছ তো? আমি কালই নেকড়েদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করব (এরেন)
– নো, ড্যাড। এর কোন দরকার নেই। নেকড়েদের কিং এসেই বাকি নেকড়েদের নিয়ে চলে গেছে। (রিয়ন)
-কি বলছ? নেকড়েদের কিং একজন ভ্যাম্পায়ার প্রিন্সকে আঘাত না করেই চলে গেছে?!(এরেন)
-ইয়েস ড্যাড, সে আমার পরিচিত। (রিয়ন এক রহস্যময় হাসি দিয়ে বলে)

In Hasan Mansion,

মায়া চিন্তা করতে করতে বিছানায় আধ শোয়া অবস্থায়ই ঘুমিয়ে পরে৷ মায়ার রুমের দরজা খুলে আফনান প্রবেশ করে। আর দেখে মায়া আধ শোয়া অবস্থায়ই ঘুমিয়ে আছে।
আফনান মুচকি একটা হাসি দিয়ে মায়াকে ঠিকমতো শুইয়ে দেয়, আর কাথা টেনে দেয়।
কিছুক্ষণ বসে থেকে মায়ার ঘুমন্ত মুখটা দেখে। আফনান মুচকি হেসে মায়ার গালে হাত রেখে চলে যায়।

The next morning,

কেউ মায়ার উপর পানি ঢেলে দেয়, আর তাতে মায়া ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে।

-এই কোন হনুমানরে আমার উপর পানি ঢেলেছিস?(মায়া)

মায়া তাকিয়ে দেখে তাকে ঘিরে কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছে।

– 1,2,3,4 (মায়া আংগুল দিয়ে মানুষগুলোকে গুনল) এই তোরা এই কাজ কেন করলি? হ্যা? নিশ্চয়ই এটা আম্মুর আইডিয়া, রাইট? এই মহিলাটার না আমার ঘুম একদম সহ্য হয় না। বাই দ্যা স্কাই,,,,(মায়াকে মাঝ পথে থামিয়ে)
-ওহ মিস বকবকানি, এবার থাম। আমাদের কেউই আইডিয়া দেয় নি। তোকে বিগত ১৫ মিনিট ধরে ডাকার পরও তুই উঠিস নি, তাই পানি দিয়েছি।(আশা)
-সকাল সকাল কেন এই রকম হামলা?(ভ্রু কুচকে) আজকে তো কারোই ক্লাসে যাওয়ার কথা নয়। (মায়া)
-পেচাল বাদ দিয়ে, রেডি হয়ে নে, যদি ট্রিট চাস (আফনান)
-তোর সাথে তো কোন কথাই নাই, (মায়া)
-সরি, মায়া, আ’ম রেলি সরি, কাজের জন্যই তো,,, (আফনান)
-তুই আর তোর কাজ, দুটোই মহাশূন্যে যা। (মায়া)
-ওকে, যাচ্ছি, চেয়েছিলাম ডাবল ট্রিট দেব, সাথে অন্য কয়েকজনও থাকবে, এখন যদি না চাস, তো বাই।

বলেই আফনান চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়।
সিতারা, দিয়া আর আশা মায়াকে ইশারায় বুঝায় যেন রাজি হয়ে যায়।

-ওকে, বাই, ডাইনিং এ গিয়ে ২ ঘন্টা অপেক্ষা কর, আমি আসছি। (মায়া)

আফনান কিছু না বলে চলে যায়। সিতারা আর আশা মায়াকে জড়িয়ে ধরে।

-থ্যাংক ইউ, ইয়ার, (সিতারা & আশা)
-আজব তো, সামান্য ট্রিটের জন্য থ্যাংক ইউ?(মায়া)
-ট্রিটের জন্য না মায়ু, এরা প্রেম করছে (দিয়া)
-মানে?কবে কার সাথে?(মায়া টাস্কি খেয়ে)
-রেয়হান আর স্মিথের সাথে (দিয়া)
-কিভাবে কি?(মায়া অবাক হয়ে বলে)
-সব পরে বলব, আগে রেডি হয়ে চল। (সিতারা)
-ওকে, তাহলে আজকে চারটা ট্রিট পাওনা। (মায়া)
-নো (সিতারা & আশা)
-ওকে, আমি ঘুমাই।

বলেই মায়া কাথা মুরি দিয়ে শুতে যায়। কিন্তু বাকি তিনজন বাধা দেয়।

-ওকে ওকে, আমরা রাজি।
-গুড, “‘”” ভালোই তো সবাই একসাথে প্রেম করছি, ছোট থেকে সব কিছু এক হয় কিভাবে?””

মায়া কথা গুলো ভাবে আর মুচকি হাসে।

২০ মিনিট পর মায়া রেডি হয়ে নীচে নামে।

নীল রঙের থ্রিপিস, হাতে নীল চুড়ি, কানে ছোট ঝুমকো, কপালে ছোট নীল টিপ, চোখে হালকা কাজল, ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক। লম্বা চুলগুলো ঝুটি করে একপাশে আনা।

সোফায় বসে আফনান, সিতারা, দিয়া আর আশা দুষ্টুমি করছিল।
মায়াকে নামতে দেখে আফনান মুগ্ধ চোখে তার দিকে তাকিয়ে থাকে।

-চল, আমি রেডি। (মায়া)
-তোর না ২ ঘন্টা লাগবে? এখন দেখি ২০ মিনিট লাগল?(সিতারা)

মায়া আর সিতারার কথায় আফনানের ঘোর কাটে।

-কি সেজেছিস, মায়া? পুরু পেত্নি লাগছে (আফনান)
-থ্যাংক ইউ সো মাচ, মি.ক্যাংগারু।এবার চল (মায়া)
-ওকে, লেটস গো (দিয়া)

একটা গাড়ি করেই ৫ জন বেরিয়ে পরে। এই ৫ জনকেই গত পর্বে 5 স্টার বলেছিলাম।
আফনান জোর করে মায়াকে ব্যাক সিটে পাঠায় আর দিয়াকে নিজের পাশে বসায়।
মায়া ৪ জনের সাথেই কথা বলছে আর হাসছে।
আফনান লুকিং গ্লাসে একটু পর পর মায়াকে দেখছে।
কিছুক্ষণ পর একটা নদীর পাশে এসে গাড়ি থামায়।
গাড়ি থামালে ৫ জনই গাড়ি থেকে নেমে যায়।
কিছুটা দুরে একটা জলকুটির দেখতে পায় মায়া, যা নদীর মাঝ বরাবর।

-ওয়াও, আফনু, এতো সুন্দর একটা জায়গায় নিয়ে আসবি আমাদের? বুঝতে পারি নি (মায়া খুশি হয়ে বলে)
-থ্যাংক ইউ, চল, যাওয়া যাক।(আফনান)

কথাগুলো বলেই আফনান আগে আগে চলে যায়। মায়া, সিতারা, আশা আর দিয়াও আফনানের পেছন পেছন যায়।

জলকুটিরে ঢুকতেই মায়ার অবাক হয়ে যায়।
এ কাদেরকে দেখছে সে? মায়া চোখ ছোট ছোট করে আশা আর সিতারার দিকে তাকায়।
আশা আর সিতারা জিহ্বায় কামড় দিয়ে আফনানের কাছে চলে যায়।

-তোদের তো আমি পরে দেখে নিব, পচা সিংগারা। (মায়া)

অন্যদিকে,
জলকুটিরের ভেতরে বাকি ৪ রাত জাগা বাদুড়, আই মিন, রিয়ন, স্টিভ, স্মিথ আর রেয়হান দাড়িয়ে ছিল।
মায়াকে দেখে রিয়ন অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।

“‘” এটা কে? মায়া? নাকি স্বর্গ থেকে নেমে আসা কোন পরী? উউম্ম, সবই তো ঠিক আছে, কিছু একটা মিসিং মনে হচ্ছে, কি সেটা?”‘”

রিয়ন দাঁড়িয়ে থেকে এসব ভাবতে থাকে। মায়া রিয়নের সামনে এসে তুড়ি বাজায়।

-ওহ হ্যালো, ব্যটা রাত জাগা বাদুড়, এভাবে কি দেখছেন? (মায়া)

মায়ার কথায় রিয়নের ধ্যান ভেঙে যায়।

-তোমাকে না, পেছনের অই মেয়েটাকে (রিয়ন)

মায়া রিয়নের কথায় পেছন ঘুরে তাকায়।
আর ফিক করে হেসে দেয়।

-এই মেয়ে? সত্যি রাত জাগা বাদুড়রা যে দিনে চোখে দেখে না তার প্রমাণ দিলে, অল দ্যা বেস্ট উইথ হার। (মায়া)

রিয়ন মায়ার কথায় পেছনে তাকায়। এক বৃদ্ধা মহিলা হাটছে। মহিলাটিকে দেখে রিয়ন নিজেই বোকা হয়ে যায়।
মায়া চলে যেতে চাইলেই, রিয়ন মায়াকে থামায়।

-মায়া, ওয়েট, (রিয়ন)

মায়া থেমে গিয়ে জিজ্ঞাসাবোধক মাথা নাড়ায়।
রিয়ন মায়ার কাধে রাখা বাধা চুলগুলো মুক্ত করে দেয়, আর চুলগুলো ঠিক করে দেয়।

-নাও পারফেক্ট, (রিয়ন)

মায়া কিছুই না বলে মুচকি হেসে চলে যায়। মায়া দিয়ার সাথে বসে। আর রিয়ন মায়ার সই সই অপসিট সাইটে বসে।

মায়া আর রিয়নের এসব কার্জকলাপ আফনান গোমড়া মুখে মনোযোগ দিয়ে দেখছে।

চলবে,,,,,,

[কালকে না হয় লাভ বার্ড গুলোর রোমান্স সম্পর্কে জানবেন। আর হ্যা, এই গল্পটা ৩০ পার্ট পর্যন্ত হতে পারে, বা তারও বেশি। দুঃখিত, এতো বড় করার জন্য, কিন্তু গল্পটা বড়ই হবে,নয়তো নামের সাথে থিম মিলবে না৷ জানি না ধৈর্য ধরে পড়তে পারবেন কি না। 😪] 🔥3 view

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *