Blood King Or Lover |Part-17

আফনান মুখ গোমড়া করে রিয়ন আর মায়ার কার্জকলাপ দেখছিল।

এদিকে মায়া ভালো মতো রিয়নকে দেখে। আজকে যেমন একটু বেশিই হ্যান্ডসাম লাগছে তাকে। ব্লাক শার্ট, ব্লাক ওয়াচ, চুলগুলো সিল্কি।
রিয়ন চেয়ারে হেলান দিয়ে, পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে, আর এক দৃষ্টিতে মায়াকে দেখে যাচ্ছে।
হঠাৎ মায়ার চোখ যায় আফনানের দিকে, আফনান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মায়ার দিকে।
মায়া আফনানের দিকে তাকাতেই সে জিজ্ঞাসুবোধক মাথা নাড়ায়, যার অর্থ কি চলছে?
মায়া না বোধক মাথা নাড়িয়ে, সিতারা আর আশাকে প্রশ্ন করে।

-কিরে, তোদের লাভ স্টোরি কিভাবে শুরু হলো বলবি?(মায়া)
– তার আগে বল কি অর্ডার দিব?(আফনান)
-আমার জন্য,,, (মায়া)
-তোর জন্য কি তা আমি জানি, বলতে হবে না। বয়েস, তোমরা কিছু?(আফনান)
-নো, (রিয়ন)
-ঊপস সরি (আফনান)

আফনান খাবার অর্ডার করতে চলে যায়।
-এবার বল(মায়া)
-তার আগে তোমাদের লাভ স্টোরির কথা বলো ভাবি জি (রেয়হান)
-আম, আমাদের লাভ স্টোরি মানে?(মায়া টাস্কি খায়)
-ওহ, ভাবি জি, আমরা সব জানি, আপনি আর রিয়ন, সামথিং সামথিং (স্মিথ)
-তোরা কিন্তু বেশি করছিস(রিয়ন শান্ত হয়েই বলে)

রিয়নের কথায় ছেলে দুইজনই চুপ হয়ে যায়। এইদিকে স্টিভ দিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে, আর দিয়ার সাথে চোখাচোখি হলেই চোখ মারছে, যার জন্য দিয়ার অসস্তি হচ্ছে।

-মানে কি মায়া? তুই আর রিয়ন?(আশা)
-বাহ রে, এই ছিল তোর মনে? আমাদের জানালিও না?(সিতারা)
-এবার তুই ট্রিট দে (দিয়া)

মায়া কিছু না বলে এংগ্রি লুক দেয় রিয়নের দিকে। রিয়ন টেডি স্মাইল দিয়ে মায়াকে চোখ মারে, সাথে ফ্লাইং কিস ফ্রি।

রিয়নের এই কান্ড দেখে মায়া তো আরো রেগে ফায়ার। আর বাকিরা, “‘” ওহোওঅঅ”‘ বলে চিল্লিয়ে উঠে।

-তোমাদের সবগুলোকে আমি দেখে নেব। (মায়া)

মায়া কথাটা বলে যেই উঠতে যাবে, ঠিক তখনই রিয়ন বাতাসের গতিতে এসে মায়ার পাশে বসে হাত ধরে ফেলে।
রিয়নের এতো দ্রুত চলাচল দেখে সিতারা, আর দিয়া ভয় পেয়ে যায়।

-এ,, এটা কি হলো? রিয়ন এতো তাড়াতাড়ি,,, (সিতারাকে মাঝ পথে থামিয়ে দিয়ে)
-শুধু রিয়ন নয়, আমরাও একই ভাবে চলাচল করতে পারি(রেয়হান)
-আমরা মানে? তোমরা চারজনই?(দিয়া)
-ইয়েস, জানপাখি (স্টিভ)
-স্টপ ইট, (মায়া জোরে চিল্লিয়ে উঠে)

মায়ার চিল্লানোতে সবাই চুপ হয়ে যায়।
আফনানও তখন ফিরে আসে।

-কি হয়েছে? ষাড়ের মতো চিল্লাছিস কেন?(আফনান)

আফনান রিয়নকে মায়ার পাশে দেখেই মুখটা কালো করে ফেলে।

-আহ, আমাকে যেতে হবে, একটা কাজ পরে গেছে। রিয়ন ওদের বাসায় ড্রপ করে দিও (আফনান)

আফনান কথাটা বলে আর এক সেকেন্ডও দাড়ায় না, চলে যায়।

-আরেহ, ক্যাংগারু, শোন তো,,,, যাহ বাব্বাহ, এর কি হলো? (মায়া)
-বললোই তো, কাজ আছে। সিতারা, আর রেয়হান, স্মিথ আর আশা শুরু করো তোমাদের লাভ স্টোরি, আমার প্রিন্সেস অপেক্ষা করছে শুনতে। (রিয়ন কথা ঘুরিয়ে)
-ওকে, বলছি, (আশা)

আশা আর স্মিথ তাদের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনা বলে। মায়া শুনে অবাক,

-বাব্বাহ, জিজু, এ তো ইউনিক প্রপোজাল ছিল। গ্রেট, আই লাইক ইট।

মায়া কথাটা বলে রিয়নের দিকে তাকায়, আর ভেংচি কাটে। রিয়ন বিনিময়ে মুচকি হাসি দেয়।

-ওকে, (আইস্ক্রিম খেতে খেতে), নেক্সট, সিতু বেবি, বলো। (মায়া)
-আমি বলতে পারব না, রেয়হানকেই জিজ্ঞাসা কর। (সিতারা)
-বাহ রে, ফার্স্ট লাভের কথা আপনি বলতে পারেন এখন ঘটনা বলতে পারেন না? আমিই বলছি। (রেয়হান)

Flash-Back,
In the cafe,

সিতারা চোখ খুলে তাকিয়ে দেখে কেউ নেই, শুধু রেয়হান তার সামনে মাথা নীচু করে বসে আছে।

-আরেহ, বাকি সবাই কোথায় গেল?(সিতারা)
-বরযাত্রীতে (রেয়হান)
-আব, সরি, রে,,রেয়হান,,,মুখ ফস,,ফসকে কথাটা বেরিয়ে গেছে। তুমি প্লিজ মাইন্ড করো না (সিতারা)
-মাইন্ড করার মতো কথা বলে বলছ মাইন্ড করব না?(সিতারার দিকে পানির গ্লাস এগিয়ে দেয়)

সিতারা ডকডক করে সবটুকু পানি খেয়ে নেয়। এই প্রথম রেয়হানকে তার ভয় লাগছে।

-আমি, যাই হ্যা? বাই

সিতারা উঠে যেতে চাইলেই রেয়হান হাত ধরে এক টানে আবার সিতারাকে বসিয়ে দেয়।

-আরেহ, জানেমান, কোথায় যাও? আগে বসো, কথা আছে, পরে যাও (রেয়হান)
– কি,,, কি,,,কি কথা? আমি তো সরি বলেছি নাকি?(সিতারা)
-আমার কিছু প্রশ্ন আছে, ঠিক ঠিক এনসার দিলেই যেতে দিব, কিন্তু হ্যা মিথ্যা বললে কিন্তু আমি বুঝতে পারব যে মিথ্যা বলেছ। আর মিথ্যা বললে এখান থেকে যেতে দেব না (রেয়হান)
-ওকে, (সিতারা)
-ইভানকে অই কথা কেন বললে?(রেয়হান)
-বাবা চেয়েছিল ইভান আর আমার বিয়ে ঠিক করতে (সিতারা চোখ বন্ধ করে বলে)
-কি?(রেয়হান)
-হুম(সিতারা)
-আর কারো নাম নিতে পারলে না?(রেয়হান)
-আর কারো কথা মাথায় আসে নি তাই(সিতারা)
-কবে থেকে মনে মনে এসব চলছে?(রেয়হান)
-মনে মনে চলছে মানে? কি চলছে?(সিতারা)
-আমার জন্য ফিলিংসগুলোকে লালন পালন করা?(রেয়হান)
-আব, অ,,অনেক,,অনেক দিন আগে থেকেই। (সিতারা)
-ব্যবহারে তো বুঝা যায় নি (রেয়হান)
-,,,,,,,,,,,,,
-ভালোবাসো?(রেয়হান)
-হুম(সিতারা)
-কাকে?

রেয়হান নিজের জায়গা থেকে উঠে এগিয়ে যেতে থাকে সিতারার দিকে।

-তোমাকে,,,

সিতারা সবগুলো প্রশ্নের উত্তর চোখ বন্ধ করেই দেয়।

-আমার লাইফে তো অন্য কেউ আছে (রেয়হান)
-ওহ, আচ্ছা, সমস্যা নেই। আমি কিছু বলব না আর কখনো। আসি আমি?(সিতারা চোখ বন্ধ করেই বলে)
-জানতে চাইলে না যে কে সে?(রেয়হান)
-না, জানার প্রয়োজন মনে করি না(সিতারা)

রেয়হান কিছু না বলে টেডি স্মাইল দেয়, আর সিতারার কপালে ভালোবাসার পরশ একে দেয়।
কপালে কারো ঠান্ডা স্পর্শ অনুভব করে চোখ খুলে, আর রেয়হানকে পাশে আবিষ্কার করে।
সিতারা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকায়, রেয়হান সিতারার চোখের ভাষা বুঝতে পারে, আর সিতারার হাত শক্ত করে ধরে।

-ছাড়ছি না কখনো, (রেয়হান)

In present,

-এই হচ্ছে কাহিনি, (রেয়হান)
– কিন্তু আমি আর তোমার সাথে কথা বলব না,তুমি আমার থেকে কিছু গোপন করেছ (সিতারা)
-কি গোপন করেছি? আর একদিনেই কি সব বলা যায়?(বোকা হয়ে বলে)
-এই যে, এতো ফাস্ট চলাচল করার মানে কি?(সিতারা)
-আমরা ভ্যাম্পায়ার (রিয়ন)
-রেলি? ইটস এ নাইস জোক(দিয়া)
-ইটস নট এ জোক, দিয়ু (আশা)
-ইউ আর ফর রিয়েল, (স্মিথ)
-হুম, & মায়াও এই ব্যাপারে জানে, রাইট মায়া?(রিয়ন)

রিয়নের কথায় সবাই মায়ার দিকে তাকায়। মায়া দুইগালে হাত দিয়ে একেকবার একেকজনের দিকে তাকাচ্ছে, আর কোল্ড ড্রিংক পান করছে, আর কথা শুনছে।
সবাইকে তাকিয়ে থাকতে দেখে মায়া বলে,,

-হোয়াট আর ইউ লুকিং ফর? গাইস? আমি এখানে নিরব শ্রোতা আর দর্শক। আমি কিছু বলব না, শুধু শো দেখব। (মায়া)

মায়ার কথায় সবাই টাস্কি খায়।

-তোরটা এবার বল,(সিতারা)
-আমাদের কাহিনিকে একটা টাইটেল দেওয়া যায়। (রিয়ন)
-কি টাইটেল?(স্টিভ)
-পানিতে ঝাপ দিয়ে ভালোবাসার প্রকাশ(রিয়ন)

রিয়নের কথায় সবাই হো হো করে হেসে দেয়।
-হোয়াট? পানিতে ঝাপ দিয়ে ভালোবাসার প্রকাশ? রেলি? আমি বুঝেছি যা বুঝার (সিতারা)
-আমরাও বুঝেছি (স্মিথ)

মায়া কিছুই না বলে এক ভ্রু উচু করে তাকায় সিতারার দিকে।

আর সিতারা সাথে সাথে হাসি থামিয়ে ফেলে, সাথে আশা আর দিয়াও।

-অনেক হয়েছে হাসাহাসি, আমি বাসায় যাব।

মায়া রেগে কথাটা বলে আর টেবিলে থাপ্পড় দিয়ে উঠে দাড়ায়।

-এতো তাড়াতাড়ি? (রিয়ন)
-হুম,(মায়া)
-ওকে,চলুন। (রিয়ন)

রিয়ন আর মায়া, স্মিথ আর আশা, রেয়হান আর সিতারা উঠে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়।
ছোট বাচ্চাদের কান্না শুনে পেছনে ঘুরে তাকায় আর দেখে দিয়া কান্না করছে।

-অই, তুই কান্না করছিস কেন রে?(মায়া)
-আমাকে কে দিয়ে আসবে? তোমরা জোড়া আমি তো,,,, এএএএএহহহেএএএএ(আবার কান্না শুরু করে দিয়া)
-স্টিভ, আমার জানা মতে তোর গাড়ির + মনের সিট খালি আছে, দিয়াকে বসিয়ে নে (রিয়ন)
-ওকে, প্রিন্স। (রিয়নের দিকে তাকিয়ে) চলো মাই প্রিন্সেস (দিয়ার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে)
-নেভার, আমি একাই যেতে পারব। (দিয়া)

দিয়া উঠে চলে যায়, আর স্টিভ অসহায়ের মতো তাকায় মায়ার দিকে।

-একে পটাতে কাঠ কয়লা পোড়াতে হবে, (মায়া)

সবাই পার্কিং এ এসে দেখে দিয়া স্টিভের গাড়ির সামনে দাড়িয়ে পাইচারী করছে।
বাকিরা স্টিভকে অল দ্যা বেষ্ট বলে চলে যায়।
স্টিভ দিয়ার দিকে এগিয়ে যায়।

-কি ম্যাম? যান নি? আর আমার গাড়ির সামনে কেন দাঁড়িয়ে আছেন?(স্টিভ)
-ওহ, আসলে, আমাকে বাসায় ড্রপ করে দিবে? প্লিজ?(দিয়া)
-গেট অন দ্যা কার, (স্টিভ)

দিয়া স্টিভের কথায় গাড়িতে উঠে বসে।

In front of Hasan Mansion,

রিয়ন মায়াকে নামিয়ে দেয়,,

-সো, রাতে দেখা হচ্ছে, ম্যাম??(রিয়ন)
-নো, আমি যাব না। (মায়া)
-কেন?(রিয়ন অবাক হয়ে)
-আমার ইচ্ছে নেই, তাই যাব না। (মায়া)
-আমি থাকব তো, (রিয়ন)
-তো কি হয়েছে? তুমি থাকবে বলেই কি আমাকে থাকতে হবে?(মায়া)
-এজ ইউর ইউস, আমি অপেক্ষা করব(রিয়ন)

মায়াকে আর কিছু না বলার সুযোগ দিয়েই রিয়ন চলে যায়। মায়া দাঁড়িয়ে থেকে হাসতে থাকে,

-দিলাম বেচারার মন খারাপ করে,,আমি তো সত্যিই যাচ্ছি না। (মায়া)

মায়া বাড়িতে প্রবেশ করে।

চলবে,,,,,,,

[এই একদিন-রাতের কাহিনি বড় হচ্ছে বিধায় কেউ কিছু বলবেন না, প্লিজ। এই পার্টিকে ঘিরে কয়েকটা ধামাকা অপেক্ষা করছে। তাই বড় হচ্ছে। রাত ১২ টায় আরেকটা পর্ব দিতে পারি, আমি শিউর না, দিব কি না, তবে দেওয়ার সম্ভাবনা ৯০%। কমেন্ট করলে গল্পের ব্যাপারে জানাবেন, এখন যা বলেছি তার ব্যাপারে না। হ্যাপি রিডিং। ] 🔥3 view

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *