Blood King Or Lover |Part-18

অন্যদিকে,

স্টিভ ড্রাইভ করছে, আর দিয়া পাশের সিটে বসে বাহিরে তাকিয়ে আছে।

-তো মিস চাশমিস?? (স্টিভ)
-কান খুলা আছে, যা বলার বলো (দিয়া)
-তা তো দেখতেই পারছি, তা আমাকে কোন দিক দিয়ে খারাপ লাগে?(স্টিভ)

স্টিভের কথায় দিয়া তার দিকে তাকায়।
-কিছুর ঘাটতি আছে আমার মাঝে?(স্টিভ)
-হুম(দিয়া)
-কি ঘাটতি?(স্টিভ)
-এটাই যে তুমি হিউম্যান নও(দিয়া)
-এই কথা জানার পরও কতো মেয়ে আমার জন্য পাগল, তা জানো?(স্টিভ)

স্টিভ দিয়ার বাড়ির সামনে এনে গাড়ি থামায়। দিয়া দেরি না করে নেমে যায়।

-অল দ্যা বেস্ট ইউথ ইউর “কতো মেয়ে”(দিয়া)
-ওহ মিস চাশমিস, সন্ধ্যায় পার্টিতে আসছ তো?(স্টিভ)
-তুমি থাকলে তো কখনোই না (দিয়া)

দিয়া কথাটা বলে চলে যায়। স্টিভ মুচকি হাসি দিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে যায়।

In the evening,

মায়া তার ড্রেস পড়ে রেডি হয়। গ্রীন কালারের মাঝে লাল + সোনালি কালার পাড়ের শাড়ি। হাতে লাল আর সবুজ রঙের রেশমি চুড়ি। কানে লাল আর সোনালী রঙের ঝুমকো, চোখে মোটা করে কাজল, আর ঠোঁটে ডার্ক রেড লিপস্টিক। লম্বা চুলগুলো পাফ করে বিনুনি করা, যার কয়েকটা ছোট চুলগুলো কপালে এসে খেলা করছে।
মায়া রেডি হয়ে ডাইনিং-এ যায়।

-বাহ!! এইতো আমাদের প্রিন্সেস, পুরো বাঙালি মেয়ে লাগছে দেখতে। (মা)
-আচ্ছা, আব্বু, আজকে কি কেয়ামত হবে? (মায়া)
-কি সব বলছ? কেয়ামত হবে কেন?(মি.হাসান)
-না, মা আজকে আমার প্রশংসা করছে যে?(মায়া)
-একটা দিব চড়, সবসময় দুষ্টুমি,চলো এখন। (মা)

তিনজনই গাড়িতে উঠে বসে, মি.হাসান ড্রাইভ করছে। মায়া ব্যাকসিটে।

-বাই দ্যা ওয়ে, আব্বু পার্টিটা কোথায়?(মায়া)
-এডরিন ম্যানশনে (মি.হাসান)
-কি??(অবাক হয়ে)
-এডরিন ম্যানশনে, রিয়নের বাড়িতে (মি.হাসান)
-যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধ্যা হয়, -মায়া বিড়বিড় করে বলে।
-কিছু বললে? মামণি?(মি.হাসান)
-না, না, কিছু না।

In Adrin Mansion,

-নো, আমি স্যুটই পরব, অইসব পাঞ্জাবি আমি পড়ব না। (রিয়ন)
-না, ভাইয়া। তুমি অই গ্রীণ কালারের পাঞ্জাবি পড়বে, আর আমিও তাই পড়ব। (শাহরিয়ার)
-শাহরিয়ার (রিয়ন রেগে বলে)
-আচ্ছা, ঠিক আছে। পর পরই থাকে, আপন হয় না (শাহরিয়ার মন খারাপের এক্টিং করে বলে)
-আচ্ছা, এটা তো বিয়ে বাড়ি না, যে পাঞ্জাবি পড়ব?(রিয়ন)
-সেটাই তো, আমরা ইউনিক থাকব, তাই তো বলছিলাম। (শাহরিয়ার)
-ওকে, তোর খুশির জন্য আমি (পাঞ্জাবি হাতে নিয়ে) এই পাঞ্জাবিই পড়ছি। (রিয়ন)
-থ্যাংক ইউ ভাইয়া, (শাহরিয়ার মুখে হাসি ফুটিয়ে বলে)

রিয়ন গ্রীণ কালারের পাঞ্জাবি পড়ে, সিল্কি চুলগুলো স্পাইক করা।ম্যাচিং করে ঘড়ি পরে, আর নাগ্রা টাইপ সুজ। রিয়নকে দেখতে পুরোই বাঙালি বাঙালি লাগছে, ফর্সা গায়ে গ্রীণ কালারটা আরো বেশি মানিয়েছে।

রিয়ন আর শাহরিয়ার রেডি হয়ে নিজেদের রুম থেকে বের হবে, তখনই রেয়হান, স্টিভ, স্মিথ এসে উপস্থিত।

-কিরে, রিয়ন, রেডি,,,,,(স্টিভ)
-হম, আমি রেডি। আরেহ বাহ, তোরাও পাঞ্জাবি?(রিয়ন)

হুম, বাকি তিনজনও পাঞ্জাবিই পড়েছে, স্টিভ ব্লাক কালারের, রেয়হান রেড কালারের, আর স্মিথ ব্লু কালারের।

-হুম, তাই তো দেখছি, ভালোই হলো আমরা ইউনিক থাকব। (স্মিথ)
-তবে একটা কথা বলতে হয়,,, (রেয়হান)
-কি?(রিয়ন)
-বিজনেস পার্টিতে পাঞ্জাবি পড়েছি আমরা? কিং(এরেন) না আবার শাস্তি দেয় (রেয়হান)
-কিছুই বলবে না, আব্বু। আমি আগেই বলে রেখেছিলাম। (শাহরিয়ার)
-ওহ, এর মানে এসব আপনার পূর্ব পরিকল্পনা, ছোট সাহেব?(রিয়ন)
-ইয়েস, বড় মিয়া (শাহরিয়ার)

শাহরিয়ারের বড় মিয়া কথা শুনে সবাই হেসে দেয়।

-চল, এবার (রিয়ন)

অন্যদিকে,
পুরো এডরিন ম্যানশনের প্রত্যেকটা জায়গায় লাইট দেওয়া, তাই সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে আসলেও আশেপাশে দেখা যাচ্ছেগাড়ি থেকে নেমে তার ডান দিকে তাকাতেই বাকি ৪ জনকে দেখতে পায়।
আফনান হোয়াইট কালারের স্যুট পরেছে। দিয়া ব্লাক কালারের মাঝে সিলভার পাড়ের শাড়ি, আশা ব্লু কালারের মাঝে গোল্ডেন কালার পাড়ের শাড়ি, আর দিয়া রেড কালারের মাঝে গোল্ডেন কালার পাড়ের শাড়ি পরেছে।
এরা প্ল্যান করেছিল, যে ইউনিক হবে, শাড়ি পরবে, তাদের দেশের কোন কিছুকে ছোট হতে দিবে না। তাই পোশাকেও তারা দেশীয় শাড়িই বেছে নেয়। তবে মায়ার পার্সেলে শাড়িই দেওয়া হয়েছিল। কেন তা পরে জানা যাবে।

-আব্বু, আমি গেলাম, তোমরা থাকো। (মায়া)
-আরেহ, শোন, সবাই মিলে বাগানে আসিস, তারপর নিজেদের মতো থাকিস। ওকে?(মি.হাসান)
-ওকে, আব্বু (মায়া)

মায়া বাকি ৪ জনের কাছে চলে যায়।
মায়াকে দেখে আফনান পুরো থ হয়ে যায়।

-আরেহ বাস!! হোয়ার ইজ মায়া? এই মেয়ে তুমি কে? আমাদের মায়ার চেহারা কেন নিয়েছ?(আফনান)
-অই ক্যাংগারু, আমি মায়াই, তুই দেখি বিদেশি স্যারই সেজেছিস। (মায়া)
-তোর মতো তো সং সাজি নি আর (আফনান)
-কিসের সং? মায়া ওর কথা বাদ দে, তোকে আজ খুবই,,,,পেত্নির মতো লাগছে (দিয়া)
-আরেহ কিযে বলিস না? ওকে তো আজকে ডাইনির মত লাগছে (আশা)
-না, ওকে ভ্যাম্পায়ারের বাঙালি বউ লাগছে। (সিতারা)

কথাগুলো বলে চারজনই হেসে দেয়। মায়া শান্ত দৃদৃষ্টিতে দেখছে তাদের।

-হাসা হয়েছে? এবার তাহলে যাই ভেতরে? (মায়া)
-হুম,চল (সিতারা)
-তোরা যা, আমি আসছি। (আফনান)
-তুই আবার কোথায় গায়েব হবি?(মায়া)
-আছি এখানেই, পরে জয়েন করব, বাই।

“‘” তোকে রিয়নের সাথে দেখে আমি সহ্য করতে পারি না, মায়া। আমি চাই না তুই আমার ফিলিংস সম্পর্কে জানিস, কখনো তোর দুশ্চিন্তার কারণ হতে চাই না, চাই না তোর ভালোবাসায় দেয়াল হয়ে দাড়াতে”‘”

মনে মনে কথাগুলো বলেই আফনান অন্ধকারে মিলিয়ে যায়।

-বুঝি না, এই আফনুর কি হয়েছে?(মায়া)
-ফরেইন থেকে দেখ প্রেমে পড়েছে(সিতারা)

মায়া আর কথা না বাড়িয়ে এডরিন ম্যানসনের ভেতর প্রেবেশ করার জন্য পা বাড়ায়।

রিয়ন, রেয়হান, স্মিথ আর স্টিভ এক কর্নারে দাড়িয়ে থেকে মেইন গেটের দিকে নজর রাখছিল।
-ইয়ার, মায়ার বাবা মা সবাই চলে এসেছে, ওরা কি সত্যি তাহলে আসবে না?(রিয়ন)
-আমিও তাই ভাবছি (রেয়হান)

আরো কিছু বলতে যাবে, কিন্তু তাদের কথা তাদের মুখেই থেকে যায়।
মায়া, দিতা, সিতারা আর আশা হাসতে হাসতে ভেতরে প্রবেশ করে।
এদের দেখে বাকি বাদুড় থুক্কু ভ্যাম্পায়ারদের দুনিয়া জেন থমকে যায়। একেকজন হা করে তাকিয়ে আছে।
রিয়ন মায়ার দিকে তাকিয়ে থেকেই স্টিভের মাথায় জোরে একটা চড় মারে।

-অই, তুই আমায় মারলি কেন?(স্টিভ)

স্টিভ কথাটা বলতে না বলতেই রেয়হান আর স্মিথ আরো দুইটা মারে৷ (বেচারা)

-তোরা আমায় মারছিস কেন?(দিয়ার দিকে তাকিয়েই বলে)
-মানে আমরা কোন স্বপ্ন দেখছি না, এরা কেরে? (রিয়ন)
-নির্গাত সদ্য নেমে আসা পরী (রেয়হান)
-ইয়ার, এগুলো তো খাটি বাঙালি নারী (স্মিথ)

মায়া, দিয়া, আশা আর সিতারা হঠাৎ সামনে তাকিয়ে এদের অবস্থা খেয়াল করে।

-কি ব্যাপাররে? এদের কে বলেছে পাঞ্জাবি পড়তে? তোদের মধ্যে কেও?(মায়া)
-নো, তোর দিব্যি (বাকি তিনজন একসাথে)
-অই, খবরদার, আমার এতো তাড়াতাড়ি মরার শখ নেই।চল তো ব্যটা বাদুড়ের দলগুলোর কাছে। (মায়া)

তিনজন লেডি বাদুড় থুক্কু ছেলে চারজনের দিকে এগিয়ে যায়।
মায়া রিয়নের সামনে গিয়ে তার চারপাশে ঘুরে ঘুরে তাকে দেখতে থাকে।
বাকিদেরও সেম অবস্থা।
দেখা শেষ হলে চারজন একসাথে হয়।

-এই, সিতু?(মায়া)
-হুম, মায়ু?(সিতারা)
-এই রাত জাগা বাদুড়ের দলের মতো দেখাচ্ছে না এদের?(মায়া)
-ঠিক, তবে, বাদুড়গুলো তো পাঞ্জাবি পরে না। এরা নিশ্চয়ই অন্য কেউ। ভালোই হলো, ডাবল ডাবল প্রেম করব। (আশা)
-একদম রাইট, আমার তো ভাবতেই কতো আনন্দ হচ্ছে, সেম চেহারার দুজন প্রেমিক। (মায়া)

মেয়েদের কথা শুনে মুহুর্তেই ছেলেগুলোর চেহারার রং পাল্টে যায়।
কেউ কিছু না বলে একেকদিকে চলে যায়।

আর মেয়েরা হাসতে হাসতে শেষ।

-দেখেছিস ওদের চেহারার রং?(দিয়া)
-হুম(আশা)
-তবে মানতে হবে, বস। মনের মিল আছে, নয়তো সেম কালারের বাঙালী পোশাকে আসার কথা না। (আশা)
-হে হেহে (চোখ উল্টিয়ে), মিল আছে, যা এবার,নয়তো কপালে খারাপি আছে।(মায়া)

মায়ার কথায় তিনজনই তিনদিকে যায়,যেদিকে স্টিভ, স্মিথ আর রেয়হান গিয়েছে।
মায়া নিজের জিহবায় কামড় দেয়,,

-আমি নিজেই তো খেয়াল করিনি রিয়ন কোনদিকে গেছে, এখন পাই কোথায়? ওহ ব্যটা বাদুড় (বিড়বিড় করে বলে)

মায়া হাটতে হাটতে বাড়ির পেছন সাইটে চলে যায়।

পার্টিতে দাঁড়িয়ে মায়ার বাবা আর রিয়নের বাবা সব দেখছিল।

-দেখেছেন মি.হাসান, দুজনের মাঝে ক্যামিস্ট্রি চলছে। (এরেন)
-হুম,তাই তো দেখলাম, এবার না হয় এদের আমরা একটা সারপ্রাইজ দেই। কি বলেন?(মি.হাসান)
-আমিও তাই ভাবছি, সাথে বাকি ৩ জনকেও জোড়া কবুতর বানিয়ে দেব।

মি.হাসান আর এরেন হেসে উঠে।

এইদিকে মায়া রিয়নকে খুজতে খুজতে বাড়ির পেছনের অন্ধকার দিকটায় চলে যায়।

-উফ, কোথায় খুজি এখন একে? রিয়ন?(মায়া)

মায়া দুকদম এগিয়ে থেমে যায়। আর পেছন ঘুরে তাকায়।

-এমন কেন মনে হচ্ছে? কেউ ছিল পেছনে? রিয়ন, ইজ ইট ইউ?(মায়া)

কোন রেসপন্স না পেয়ে মায়া সামনে তাকায়, আর চিতকার দেয়। মায়ার সামনে একদল ড্রাকুলা।
যেই উল্টো দিকে ঘুরে দৌড় দিতে যাবে তখনই শাড়িতে পা লেগে পরে যায়।

আফনান পাশের জংগলেই ছিল। চিতকারের আওয়াজ শুনে দৌড়ে সেদিকে যায়।
রিয়ন রেগে বাড়ির ভেতরে চলে আসে। ভ্যাম্পায়ার হওয়ায় সেও মায়ার চিতকার শুনতে পায়। তাই দেরি না করে বাড়ির পেছনের দিকে আসে।

আফনান রিয়নের আগেই চলে আসে। নিজের ব্লেজার খুলে সাইটে ফেলে দেয়।

একটা ড্রাকুলা মায়ার উপর হামলা করার জন্য এগিয়ে আসলে,,

-মায়া, রান

আফনান কথাটা বলেই একটা লাফ দেয়, আর সাথে সাথে তার শরীর ওয়্যারওল্ফে পরিণত হয়ে যায়। আফনান ১ম ড্রাকুলাটিকে কামড়ে মাথা আলাদা করে দেয়।

মায়া কোনরকমে উঠে দৌড় দিতে যাবে, ঠিক তখনই আরেকটা ড্রাকুলা মায়ার সামিনে এসে দাড়ায়।
মায়ার গলা ধরে কামড় দেওয়ার জন্য অগ্রসর হতেই কেউ ড্রাকুলার মাথা ধরে মাটিতে ঢুকিয়ে ফেলে।
মায়া তার সামনে রিয়নকে দেখতে পায়। যার চেহারা অতিরিক্ত ভয়ংকর,রাগে চোখ এতোটাই লাল যে রক্ত ঝরবে।
মায়ার পেছনে ড্রাকুলা আসলে রিয়ন মায়াকে সরিয়ে তার সাথে লড়াই করে। কিছু সেকেন্ড যাওয়ার পর স্মিথ, রেয়হান আর স্টিভও এসে যোগ হয়।
একটার পর একটা ড্রাকুলা বের হচ্ছেই, যেন পূর্ব পরিকল্পনা সব।
ভ্যাম্পায়ার আর ড্রাকুলা গুলোর মাঝে,,,,

চলবে,,,,,,,

🔥3 view

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *