Blood King Or Lover |Part-19+20

ভ্যাম্পায়ার আর ড্রাকুলার মাঝে শুরু হয় যুদ্ধ, যার সাথে একটি মাত্র ওয়্যারওল্ফ আছে।
বাড়ির ভিতরেএ দিক থেকে এরেন সবটা বুঝতে পারে, তাই সকল গেস্টকে সেই সামলাচ্ছে, যেন কেউ বাড়ির পেছন দিকে না যায়।
বাড়ির পেছনের দিকে যুদ্ধ চলছে৷
ড্রাকুলা গুলো শুধু মায়ার দিকেই অগ্রসর হতে চাচ্ছে, কিন্তু পারছে না।
আফনানকে তিনটা ড্রাকুলা চেপে ধরে, একজন এগিয়ে এসে আফনানের ঘাড় চেপে ধরে, ঠিক সেই মুহুর্তে আরেকটা ভ্যাম্পায়ার এসে ড্রাকুলার মাথা আলাদা করে দেয়।
আফনান তাকিয়ে দেখে সে মেয়ে ভ্যাম্পায়ার ।
বেশ কিছুক্ষণ লড়াইয়ের পর কিছু ড্রাকুলা পালিয়ে যায়।
সবাই এবার মায়ার দিকে এগিয়ে যায়।
মায়ার ঘাড়ের পাশে অনেকটাই কেটে গিয়েছে।
রিয়ন মায়ার ঘাড়ে আলতো করে ছুয়ে দিতেই কাটা দাগ মিশে যায়।
আফনান এবার মেয়ে ভ্যাম্পায়ারের দিকে তাকায়,
ফর্সা গায়ের রং, ব্রাউন চুল, বিজনেস স্যুট পরনে।
মেয়েটি এগিয়ে যায় মায়ার কাছে,
-আর ইউ ওকে? মায়া(মেয়ে)
-ইয়াহ, আ’ম ফাইন, বাট,, (মায়া)
-শি ইজ কামিলা, মাই ফ্রেন্ড (রিয়ন)
-ওহ,(মায়া)
-মায়া, তুমি এখানে কি করছিলে?(রিয়ন রেগে কথাটা বলে)
-আসলে, আমি তোম,,তোমাকে খুজতে,,(কথা জড়িয়ে যাচ্ছে)
-ওকে, বুঝেছি। এখন ভয়ের জন্য ফিট হয়ে যেও না৷ আর আফনান,(আফনানের দিকে তাকিয়ে) থ্যাংক্স এ লট, (রিয়ন)
-রিয়ন, তুমি হয়তো ভুলে যাচ্ছ, তোমার গার্লফ্রেন্ড হওয়ার আগে, মায়া আমার বেস্ট ফ্রেন্ড, আর এখানে মায়ার জায়গায় যে কেউ থাকলে আমি সেম কাজই করতাম।
কথাটা বলেই আফনান স্থান ত্যাগ করে। কামিলা ব্যাপারটা বুঝতে পারে, তাই সেও আফনানের পেছন পেছন যায়।
রেয়হান, স্টিভ, আর স্মিথও চলে যায়। বাকি থাকে রিয়ন আর মায়া।
রিয়ন মায়ার দিকে এংগ্রি লুক দিয়ে তাকিয়ে থাকে, যেন তাকে চোখ দিয়ে গিলে খাবে।
-কি,,কি,, হয়েছে?(মায়া ভয়ে ভয়ে বলে)
-ট্রাভল মেকার, চলো
রিয়ন ধমক দিয়ে মায়াকে নিয়ে ভেতরে যায়।
অন্যদিকে,
আফনান আবারও জংগলের মাঝে হাটতে থাকে, কামিলা তার পেছন পেছন যায়।
-হেই, আফনান, লিসেন (কামিলা বাতাসের গতিতে আফনানের সামনে যায়)
-কিছু বলবে?(আফনান নিচের দিকে তাকিয়ে বলে)
কামিলা তার হাতের আংগুল দিয়ে আফনানের গাল থেকে পানির ফোটা মুছে নেয়।
-ইউ লাভ মায়া?(কামিলা)
-নো, আই জাস্ট লাইক হার। (আফনান)
-তাহলে এই পানি?(কামিলা)
-অপমানের, আমি মায়ার ফ্রেন্ড, ওর বিপদে আমি ঢাল হয়ে দাড়াবো, সেখানে রিয়ন আমায় থ্যাংকস দিচ্ছে?(আফনান)
-এটা অপমান নয়, আফনান। এটা কৃতজ্ঞতা।(কামিলা)
-কিসের কৃতজ্ঞতা? মানলাম রিয়ন মায়ার #Blood_King, তাই কি আমি মায়ার কিছুই নই?(আফনান)
-নো, আফনান, তুমি ভুল ভাবছ। (কামিলা)
-আমার সাথে একটু হাটবে? আমি জানি ভ্যাম্পায়ার আর ওয়্যারওল্ফ, দুজন দুজনের শত্রু, বাট ট্রাস্ট মি,,,(আফনানকে থামিয়ে দিয়ে)
-ইউ সেভড রিয়ন, ফ্রম আদার ওল্ফ, আই নো দ্যাট ইউ আর দ্যা কিং অফ ওয়্যারওল্ফ। (কামিলা)
-হুম,,,,
আফনান আর কামিলা নিরবে হাটতে থাকে।
আফনান কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর বুঝতে পারে যে, সে কামিলার সাথে মন খুলে অনেক কিছুই বলে ফেলেছে। অবাক হয়ে এক নজর কামিলার দিকে তাকায়। কামিলা নিচের দিকে তাকিয়ে হাটছে। তার চুলগুলো গালের দুপাশে এসে ঝুলছে, যার জন্য তার চেহারা দেখা যাচ্ছে না। আফনান আনমনেই চুলগুলো কানের পেছনে গুজে দেয়। কামিলা অবাক হয়ে তাকায়।
-এখন পারফেক্ট লাগছে (আফনান)
বিনিময়ে কামিলা মুচকি হাসি দেয়। আফনানও হাসে, যেন মুহুর্তেই সব রাগ শেষ।

In the party,

রিয়ন মায়াকে নিয়ে এসে একটা চেয়ারে বসিয়ে দেয়।
-এখান থেকে এক চুল যদি সরো,তো আমি নিজে ড্রাকুলা কিংডমে তোমাকে দিয়ে আসব। গট ইট?(রিয়ন দাঁতে দাঁত চেপে বলে)
মায়া হ্যা বোধক মাথা নাড়ায়, আর রিয়ন চলে যায়।
রিয়ন চলে যেতেই দিয়া আর স্টিভ এসে দাড়ায় মায়ার সামনে। দিয়া একটা চেয়ার টেনে মায়ার পাশে বসে।
-তুই কি ঝামেলা ছাড়া কিছু বাধাতে পারিস না?(দিয়া)
-,,,,,,,,
-কোথায় লেগেছে দেখি, (দিয়া)
-কোথাও না, (মায়া)
-আন্টি আর আংকেল চলে গেছে, আন্টির শরীরটা নাকি ভালো লাগছিল না। (দিয়া)
-কি হয়েছে, আম্মুর?(মায়া)
-কিছু না, এতো লোকের মাঝে একটু খারাপ লাগছিল (দিয়া(
রিয়ন একটা জুসের গ্লাস হাতে নিয়ে এগিয়ে আসে মায়ার দিকে। রিয়ন আসতেই দিয়ে চলে যায়।
রিয়ন মায়ার দিকে জুসের গ্লাস এগিয়ে দেয়,
-আমি ছোট বাচ্চা না যে জুস পান করব(মায়া)
রিয়ন কিছু না বলে গ্লাসটা টেবিলের উপর রাখে, আর একটা চেয়ার টেনে বসে।
-মাত্র তিন, না পাঁচ চুমুকে পুরো গ্লাস খালি চাই আমি, নয়তো ভ্যাম্পায়ার প্রিন্স কি জিনিস বুঝাব আজকে, (রিয়ন খুব ধীরে ধীরে বলে)
মায়া বুঝতে পারে রিয়নের কথা না শুনলে কপালে খারাপি আছে। তাই কোন কথা না বলেই খেয়ে ফেলে।
-দ্যাটস মাই গার্ল (রিয়ন)
-হুম, আমি এখানে থাকব না (মায়া)
-কেন, মায়া?
এরেন এসে কথাটা জিজ্ঞেস করে।
-আংকেল, আমার খারাপ লাগছে, তাই (মায়া)
-ওকে, রিয়ন তোমাকে ড্রপ করে দিয়ে আসবে।টেক কেয়ার, মাই ডিয়ার। (এরেন)
এরেন চলে যায়। রিয়ন মায়াকে যাওয়ার জন্য ইশারা করে। মায়া বাধ্য মেয়ের মতো উঠে পার্কিং এর দিকে যায়।
রিয়ন কিছু একটা ভেবে মুচকি হেসে উঠে মায়ার পেছন পেছন যায়।
মায়া পার্কিং এ গিয়ে রিয়নের গাড়ির সামনে দাড়ায়। পেছনে ঘুরেতেই কেউ তাকে বুকের সাথে মিশিয়ে নেয়। মায়া স্পষ্ট বুঝতে পারে ব্যক্তিটি আর কেউ নয়, বরং রিয়ন।
মায়াও তার হাত দিয়ে রিয়নিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে, আর কান্না করে দেয়। বেশি ভয় পেলে মানুষ হয় অজ্ঞান হয় নয়তো কান্না করে, মায়ার ক্ষেত্রেও সেম হয়েছে।
রিয়ন মায়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে।
-এই মেয়ে, কান্না করছ কেন?(রিয়ন)
-আম,,,আমি,,খু,,ব,,ভয় পেয়েছিলাম (কান্না করতে করতে)
-হুশ,,,কিছুই হয়নি তোমার, আর হবেও না (রিয়ন)
মায়া তাও কান্না করতে থাকে। রিয়ন বুঝতে পারে মায়াকে এভাবে থামানো যাবে না, তাই মায়াকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।
বেশ কিছুক্ষণ কান্নার পর মায়া স্বাভাবিক হয়৷ আর রিয়নের বুক থেকে মাথা উঠায়।
কান্না করার কারণে মায়ার কাজল লেপ্টে যায়,রিয়ন তা মুছে ঠিক করে দেয়, আর মায়ার কপালে একটা ভালোবাসার পরশ একে দেয়।
মায়াকে গাড়িতে বসিয়ে দিয়ে নিজেও গিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসে।
রিয়ন গাড়ি স্টার্ট দিয়ে কিছুদুর যেতেই, মায়া রিয়নের একটু কাছে যায়, আর রিয়নের এক হাত জড়িয়ে ধরে রিয়নের কাধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে নেয়৷
রিয়ন মুচকি হেসে, ড্রাইভ করতে করতে মায়ার কপালে কিস করে।
কিছুক্ষণ পর, রিয়ন মায়ার বাসার সামনে এসে গাড়ি থামায়। মায়ার দিকে তাকিয়ে দেখে সে ঘুমিয়ে গেছে। মায়ার ঘুমন্ত মুখটা দেখে ডাকতে গিয়েও ডাকে না। কপালে আসা ছোট চুলগুলো হাতের আংগুল দিয়ে সরিয়ে দেয়।
মায়ার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে যেন রিয়ন এক ঘোরের মধ্যে চলে যায়। অপলক তাকিয়ে আছে।
হঠাৎ মায়ার ঘুম ভেঙে যায়, আর চোখ তুলে তাকাতেই রিয়নের চোখে আটকে যায়।
-রিয়ন,,?(মায়া)
-হুশ, (এক আংগুল মায়ার ঠোঁটে দিয়ে) লেট মি সি মাই কুইন (রিয়ন)
-রিয়ন, আই নিড টু গো, (মায়া রিয়নকে ধাক্কা দিয়ে বলে)
মায়ার কথায় রিয়নের ঘোর কাটে। মুখে এক রাশ বিরক্ত নিয়ে অন্যদিকে ঘুরে যায়।
-সবসময় রোমান্টিক মুহুর্তে তোমার কিছু না কিছু বলতে হয়?(রিয়ন)
-বাট, রিয়ন, (মায়া)
-যাও, বাসায় যাও। (রিয়ন)
মায়া আর কিছু না বলেই সিট বেল্ট খুলে গাড়ির ডোর ওপেন করে এক পা বের করে।
রিয়ন তখনো উল্টো দিকেই ঘুরে আছে। মায়া গাড়ি থেকে নেমে আবার গাড়ির ব্যাকসিটে উঠে দরজা লাগিয়ে দেয়।
মায়ার এমন কাজে রিয়ন পেছনে তাকায়।
-আপনি কি ব্যাকসিটে আসবেন? কথা আছে (মায়া)
রিয়ন ব্যাকসিটে গিয়ে মায়ার পাশে বসে।
-বলো কি বলবে?(রিয়ন)
মায়া কিছু না বলে রিয়নের দুগালে হাত রেখে তার কপালে আর দুই গালে কিস করে, আর রিয়নের বুকে মাথা রাখে।
মায়ার এই কাজে রিয়ন মুচকি হাসে আর মায়াকেও জড়িয়ে নেয় নিজের সাথে।
-পাগলি একটা,, (রিয়ন)
-তোমারি তো (মায়া)
-একটা কথা রাখবে?(রিয়ন)
-হুম, এনিথিং (মায়া)
-আজকের রাতটা এখানেই থাকো না?(রিয়ন)
-এখানেই মানে?(মায়া)
-এইযে, বুকের বা পাশে এখন মাথা রেখে আছ,ঠিক এখানেই। (রিয়ন)
-কিন্তু,,,(মায়া)
-ওকে,যাও। (রিয়ন)
-ওহ, হ্যালো, মি.এংগ্রি ব্যাট, আমি না আপনারই, কিন্তু আজকে যেতে হবে, আম্মুর নাকি শরীর খারাপ। তাই রাগ করে নিজের + আমার মুডের ১৩ টা বাজাবেন না। (মায়া)
-১৩ টা? সবাই তো ১২ টা বলে(রিয়ন)
– তাহলে সবার আর আমার মাঝে পার্থক্যটা কি রইলো?(মায়া)
-তোমার কথায় না হেসে পারি না, (রিয়ন হেসে বলে), বাই মাই কুইন, নিজের খেয়াল রাখবেন, ব্যালকনির দরজা ভেতর থেকে অফ থাকে যেন, রাতে বের হবেন না, ওকে?(রিয়ন)
-জো হুকুম, মহারাজ (মায়া)
মায়া আর রিয়ন দুজনই হেসে দেয়৷ মায়া গাড়ি থেকে নেমে যায়, আর বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে।
রিয়নও গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়িয়ে থাকে, মায়া তার রুমে এসে ব্যালকনিতে যায়।
রিয়ন ইশারায় বুঝায় ব্যালকনির দরজা লাগাতে।
মায়া মুচকি হেসে লাগিয়ে দেয়, আর রিয়ন গাড়ি নিয়ে চলে যায়।

The next morning,

এলার্মের টিউনে মায়ার ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে ভার্সিটির জন্য রেডি হয় আর ব্রেকফাস্টের জন্য নিচে যায়।
-গুড মর্নিং, আম্মু, গুড মর্নিং,আব্বু। (মায়া চেয়ার টেনে বসতে বসতে বলে)
-গুড গুড মর্নিং,কার সাথে ফিরেছ রাতে? (মি.হাসান)
-আব্বু, রিয়ন ড্রপ করে দিয়ে গেছে। (মায়া)
-হুম,আমি মি.এডরিনকে বলে এসেছিলাম(মি.হাসান)
-আম্মু, তোমার কি অবস্থা? শরীর ঠিক আছে এখন?(মায়া)
-হুম, ঠিক আছি, তেমন কিছু হয় নি(মা)
-চিন্তা করিস না, এতো মানুষের মাঝে থেকে অভ্যাস নেই তো, তাই একটু খারাপ লেগেছিল। তুই আজকে ক্লাসে যাবি?(মি.হাসান)
-হুম,আব্বু। আসছি এখন, আল্লাহ হাফেজ (মায়া)
-মায়া, শোন (মি.হাসান)
-জ্বী আব্বু?(মায়া)
-মি.এডরিন আজকে ডিনারের জন্য ইনভাইট করেছেন। (মি.হাসান)
-আবার?কি জন্য?(মায়া)
-তা ডিনারেই জানতে পারবে। (মি.হাসান)
-ওকে,আমি যাচ্ছি। (মায়া)
মায়া আর কিছু না বলেই বেরিয়ে যায় বাসা থেকে। বাসার বাহিরে এসে নিজের গাড়ির দিরজা খুলতেই,,,
“‘” মনে হলো পেছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে? “‘”
মায়া কথাটা ভেবেই পেছনে ঘুরে, কিন্তু কেউ নেই সেখানে।
মায়া কিছুটা অবাক হয়, আর গাড়িতে উঠে বসে।
গাড়ি স্টার্ট দিয়ে কিছুদুর যেতেই লুকিং গ্লাসে দেখতে পায়, গাছের আড়ালে কেউ দাঁড়িয়ে আছে আর আর তার গাড়ির দিকেই তাকিয়ে আছে। মায়া গাড়ি ব্রেক করে পেছনে তাকায়। কিন্তু কাউকে দেখতে পায় না। তাই আবার লুকিং গ্লাসে তাকে, কিন্তু কেউ নেই।
-হয়তো আমার মনের ভুল।
বলেই মায়া আবার গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চলে যায়।

In versity,

মায়া গাড়ি পার্কিং করে নামে গাড়ি থেকে। ভার্সিটির ভেতরে ঢুকবে তার আগেই ডান পাশে তাকিয়ে দেখে একটা ছেলে একটা মেয়েকে প্রপোজ করছে ফুল দিয়ে।
মায়া মুচকি হেসে চলে যায়। মাঠের এক পাশে গাছ তলায় বসে ছিল তার গ্রুপ, আর রিয়ন একটা গাছে হেলান দিয়ে তাকিয়ে ছিল গেটের দিকে।
মায়াকে দেখতেই তার মুখে এক হাসি ফোটে। কিন্তু মুহুর্তেই তা রাগে পরিণত হয়ে যায়।
মায়া গেট দিয়ে প্রবেশ করে রিয়নের দিকে হাসিমুখে এগোচ্ছিল। হঠাৎ একদল ছেলে মায়ার পেছন পেছন হাটতে থাকে। মায়া বুঝতে পারে, কিন্তু কিছু বলে না।
ছেলেগুলোর মধ্যে একজন মায়ার পাশে এসে হাটে, হঠাৎ মায়ার কোমরে খুব বিশ্রিভাবে হাত দেয়।
-হেই, হটি (ছেলে)
গাছের নীচ থেকে রিয়ন, স্টিভ, রেয়হান, দিয়া, সিতারা বসে প্রত্যক্ষ করে। ছেলেটা মায়াকে স্পর্শ করতেই সবাই বড় বড় চোখ করে রিয়নের দিকে তাকায়।
-বাহ! ব্রেব বয়, সাহস তো ভালোই।
রিয়ন মাথা দুলিয়ে রাগিমাখা চেহারায় হেসে এগিয়ে যায়।
মায়ার খুব বিরক্ত লাগছে ছেলেটার স্পর্শে। বার বার হাত সরানোর চেষ্টা করছে।
-ওহ, হটি বেবির কি নাগিন ডেন্স দিতে ইচ্ছা করছে? চলো তাহলে ফা,,,,
বাকিটুকু বলার আগেই রিয়ন মায়ার কোমর থেকে ছেলেটির হাত ধরে ফেলে, কতোটা শক্ত করে ধরেছে তা ছেলেটার মুখ দেখলেই বুঝা যাচ্ছে।রিয়ন হাত আরেকটু শক্ত করে ধরে ছেলেটার মুখে ঘুষি মারে, আর ছেলেটি না হলেও ২০ হাত দুরে গিয়ে পরে। ছেলেটির ব্যথায় আর্তনাদ করে উঠে বসে। ছেলেটির মুখ থেকে রক্ত পরছে, হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরতেই কয়েকটা দাঁত এসে পড়ে হাতে৷
-স্টে এওয়ে ফ্রম মাই গার্ল(রিয়ন রেগে বলে)
ছেলেটির এই অবস্থা আর রিয়নের চেহারা দেখে সবাই ভয় পেয়ে যায়। বাকি ছেলেগুলো মার খাওয়া ছেলেটাকে কোনরকমে তুলে নিয়ে চলে যায়।
রিয়ন মায়ার দিকে তাকায়, মায়ার চোখ পানিতে ছলছল করছে। মুহুর্তেই রিয়নের সব রাগ চলে যায়।
রিয়ন মায়ার হাত ধরে নিয়ে বেরিয়ে পার্কিং – যায়। মায়াকে গাড়িতে বসিয়ে দিয়ে নিজে ড্রাইভিং সিটে বসে।
মায়া মাথা নীচু করে বসে আছে, চোখ থেকে পানি ঝড়ছে।
৭-৮ মিনিট পর রিয়ন গাড়ি ব্রেক করে।
-মায়া,,,(রিয়ন)
-,,,,,(কান্নাই করছে)
-মায়া,,, লুক এট মি
রিয়ন হাত দিয়ে মায়ার মুখ নিজের দিকে ঘুরায়।
মায়া তাও রিয়নের দিকে তাকায় না।
রিয়ন তার হাত দিয়ে চোখের পানি মুছে দেয়।
-আমার মায়াকে কান্নায় মানায় না, সো ডোন্ট ক্রায়। (রিয়ন)
-,,,,,,
-মায়া, কান্না বন্ধ করো, নয়তো এমন কিছু করব, যার জন্য তোমার খারাপ লাগবে। (রিয়ন)
রিয়নের কথায় মায়া চুপ হয়ে যায়, কিন্তু চোখ থেকে পানি পড়ছেই।
রিয়ন এমনিতেই রেগে ছিল, মায়ার চোখের পানি যেন তার বুকে তীরের মতো বিধছে।
রিয়ন গাড়ি থেকে নেমে যায়, আর গাড়িতে লাথি মারে।
মায়া অপসিট দিক থেকে রিয়নের দিকে এগিয়ে আসে।
-রি,,রিয়ন?(মায়া)
মায়ার কথায় রিয়ন মায়ার দিকে তাকায়।
কান্নার কারণে মায়াকে বেশিই সুন্দর লাগছে, গাল,চোখ আর নাক লাল হয়ে আছে।
-হুম, বলো, (রিয়ন)
-আসলে,আমি বলতে চাচ্ছি যে, তুমি অই ছেকে গুলোকে আবার মেরে ফেলবে না তো?(মায়া)
রিয়ন মায়াকে এক টানে নিজের কাছে নিয়ে নেয়, মায়ার কোমর জড়িয়ে ধরে বলে,
-আমার ভালোবাসায় যারা খারাপ নজর দেয় তাদেরকেই আমি ছাড়ি না, আর সে তো তোমাকে টাচ করেছে, তাকে কি করব?(রিয়ন)
-প্লিজ, ডোন্ট ডু দ্যাট, (মায়া)
-হোয়াই?(রিয়ন)
-তারা তাদের যোগ্য শাস্তি পেয়েছে, প্লিজ,ডোন্ট কিল দ্যেম (মায়া)
-ওকে, মাই ডিয়ার। গাড়িতে উঠো (রিয়ন)
মায়া গাড়িতে উঠে বসে, আর রিয়িন ড্রাইভিং সিটে।
আচ্ছা, মায়া, দেখতো, ব্যাকসিটে কি আছে?(রিয়ন)
রিয়নের কথায় মায়া অনেকটা অবাক হয়ে তাকায়। রিয়ন তাকে ব্যাক সিটে ইশারা করে।
মায়া একটা গিফট বক্স দেখতে পায়, কিন্তই ছোট সাইজের।
-এখন খুলবে না, বাসায় গিয়ে খুলবে, ওকে?(রিয়ন)
-কিন্তু এখন আমি বাসায় যাব? ক্লাস করব না?(মায়া)
-নো,,, (রিয়ন)
মায়া আর কিছু না বলেই চুপচাপ বসে থাকে। আর রিয়নেরও যেমন কথা তেমন কাজ। মায়াকে তার বাসার সামনে নামিয়ে দেয়।
-তোমার কার এসে পড়বে,ডোন্ট ওরি। আর হ্যা, এখন গিয়ে ঘুমাবে, যেন ডিনারের টাইমে গুলুমুলু দেখায় (রিয়ন)
মায়াকে কিছু না বলার সুযোগ দিয়েই চলে যায়।
-আরেহ, কিসের,,,(রিয়ন গায়েব) জন্য ডিনার?(মায়া আস্তে বলে)
হতাশ হয়ে বাসায় প্রবেশ করে।
মায়ার মা মায়াকে দেখে কিছুই বলে না,
-এসেছিস? ফ্রেশ হয়ে রেস্ট কর যা। (মি.হাসান)
-“‘”আজব তো, অন্য দিন হলে এক গাদা প্রশ্ন নিয়ে বসত, আর আজকে কিছুই বলল না? কি প্ল্যান করছে এরা?”‘ – মায়া মনে মনে ভাবে।
-কিরে, দাঁড়িয়ে আছিস কেন?(মা)
-হ্যা, যাচ্ছি (মায়া)
মায়া আর কিছু না বলেই নিজের রুমে চলে যায়। বিছানায় বসে গিফট বক্স খুলে, আর তাতে ব্লু ডাইমন্ডের একটা লাভ শেপের লকেট দেখতে পায়, সাথে হোয়াইট ছোট ফুল। (নাম ভুলে গেছি 😪)
সাথে সাথে মায়ার ফোনে একটা মেসেজ আসে।
“‘” সিন্ডারেলার রূপে দেখতে চাই”‘
জ্বী হা, ম্যাসেজকারী রিয়নই।
মায়া ফ্রেশ হয়ে এসে বিছানায় গা এলিয়ে দেয়।
কান্না করেছিল বলে ঘুমটাও ভলে আসে তাড়াতাড়ি।

বিকালে মায়ার মার ডাকে ঘুম ভেঙে যায়।

-মা, আরেকটু ঘুমাই না?(মায়া)
-মায়া, ভুলে গেছিস, মি.এডরিন ডিনারের জন্য ইনভাইট করেছে?(মা)
মায়া একরাশ বিরক্ত নিয়ে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়।
মায়ার মা তার বিছানায় একটা ব্লু কালারের গাউন রাখে,,, মায়া একটু অবাক হয়।
-মা, এটা কার জন্য?(মায়া)
-কার আবার? তোর জন্য।তোর বাবা অর্ডার করেছে। (মা)
-এএহহ, বাবা আমার জন্য ড্রেস??? এই তোমাদের মাথায় কি চলছে মা?(মায়া)
-সেটা পরে জানবি, এখন রেডি হয়ে নে। (মা)
মায়ার মা কথাটা বলেই চলে যায়।
মায়া আর কথা না বাড়িয়ে রেডি হয়ে নেয়। চুলগুলো হালকা কার্ল করে একপাশে এনে ছেড়ে দেয়, আর অপর পাশে ক্লিপ দিয়ে আটকিয়ে দেয়। রেড লিপস্টিক, আর গলায় রিয়নের দেওয়া লকেট। হাতে হ্যান্ড ব্র্্যাচ।
মায়া রেডি হয়ে নীচে এলে দেখে তার বাবা মা ও ম্যাচিং কাপল ড্রেস পরেছে।
-এইতো এসেছে মায়া, চলো এবার।
মায়া আর কথা না বাড়িয়ে বাবা মায়ের পেছন পেছন যায়।

In Adrin Mansion,

কিছুক্ষণ পর মায়া আর তার পরিবার এসে হাজির হয়।
মায়ার বাবা মা আগে যায়, আর মায়া পেছনে।
মায়া ভেতরে যেতেই মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে।
রিয়ন ডার্ক ব্লু কালারের স্যুট পরেছে, চুলগুলো সিল্কি, কোন স্টাইল করা না,সাধারণ ভাবে আঁচড়ানো। মুখে টেডি স্মাইল।
মায়াকে দেখে রিয়ন চোখ মারে।
-হাই আপু,(শাহরিয়ার)
শাহরিয়ারের কথায় মায়া অন্যদিকে তাকায়।
-হেই শাহরিয়ার, কেমন আছ?(মায়া)
-ভালো, তোমাকে সিন্ডারেলার মতো লাগছে।(শাহরিয়ার)
-আচ্ছা? (মায়া)
-হুম, চলো,,
শাহরিয়ার মায়ার হাত টেনে ধরে নিয়ে যায় ভেতরে।
-মায়া আপু, চলো তোমাকে আমি পুরো বাড়ি ঘুরিয়ে দেখাই। (শাহরিয়ার)
-শাহরিয়ার, মাত্র তো এলো, একটু বসুক, তারপর যাও?(এরেন)
-আচ্ছা, (শাহরিয়ার মন খারাপ করে বলে)
-সমস্যা নেই, আমি শাহরিয়ারের সাথে ঘুরে আসছি যদি অনুমতি দেন (মায়া)
-অবশ্যই (এরেন)
মায়া একবার রিয়নের দিকে তাকিয়ে চলে যায়।
শাহরিয়ার মায়াকে নিয়ে ছাদে যায়।
-তো ভাবি, অইদিন আমাকে বললে না কেন? ভাইয়াকে ভালোবাসো? এখন তো বিয়েও করছ?
-বিয়ে? কার?(মায়া অবাক হয়ে বলে)
-কার আবার, তোমার আর রিয়ন ভাইয়ার। জানো না, আজকে তো সেই ব্যাপারেই তারা কথা বলবে।
মায়া হা করে তাকিয়ে থাকে।

অন্যদিকে,

মি. & মিসেস হাসান এরেনের সাথে কথা বলছে। রিয়নও সেখানেই আছে, কিন্তু তার মন মায়ার কাছে।
“উফ, এসেই হাওয়া হতে হয়? কোথায় মন ভরে দেখব, তা না”‘ -রিয়ন মনে মনে এমন হাজারটা বকা দিচ্ছে মায়াকে।
হাজার সংকোচবোধ একপাশে রেখে বলেই উঠে,
-এক্সকিউজ মি, আমি একটু আসছি। (রিয়ন)
-রিয়ন, বসো এখানে তোমাকে নিয়েই এখন কথা হবে(এরেন)
রিয়নও বাধ্য ছেলের মতো বসে পরে।
হটাৎ শাহরিয়ার চিল্লাতে চিল্লাতে দৌড়িয়ে আসে,
-রিয়ন ভাইয়া,,,ভাইয়া,,,ভাইয়া,,,(শাহরিয়ার)
শাহরিয়ারকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে সে ভয় আর দৌড়ের কারণে হাপাচ্ছে।
শাহরিয়ারের এই অবস্থা থেকে রিয়ন তাড়াতাড়ি উঠে শাহরিয়ারের কাছে যায়।
-কি হয়েছে, শাহরিয়ার হাপাচ্ছিস কেন?(রিয়ন)
-ভাইয়া,, মায়া,,মায়া আপু,,,,,,,

চলবে,,,,,,,,,,,,,,,

🔥2 view

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *