Blood King Or Lover |Part-21+22

-ভাইয়া, মায়া,,মায়া আপু(শাহরিয়ার হাপাতে হাপাতে বলে)
-কি হয়েছে মায়ার? কোথায় মায়া?(রিয়নও ভয় পেয়ে যায়)
-একটা প্রাণী,,,
-আহহ,,,ইশহ,,,

শাহরিয়ার বাকিটুকু বলার আগেই শব্দ গুলো শুনে সবাই পেছন দিকে তাকালো।
মায়া দরজা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করছে, হাতে কনুইয়ের দিকে কেটে গেছে, চুলগুলো এলোমেলো হয়ে গেছে।

-মায়া,,(রিয়ন দৌড়ে যায়) কি হয়েছে? ব্যথা পেলে কিভাবে?রাহুল (সার্ভেন্ট) এইড বক্স নিয়ে আসো, ফাস্ট। (রিয়ন)

রিয়ন মায়াকে নিয়ে সোফায় বসিয়ে দেয়। শাহরিয়ার হা করে মায়ার দিকে তাকিয়ে আছে।

-মায়া, তুমি তো উপরে গিয়েছিলে শাহরিয়ারের সাথে, তাহলে মেইন দরজা দিয়ে প্রবেশ করলে কেন?(এরেন)
-আরেহ, বলতেছি, ব্যালকনি থেকে পরে গিয়েছি, দেখছেন না হাত কেটে গেছে (মায়া
অভদ্রতার সাথে কথাগুলো বলে)

মায়ার এমন ব্যবহারে সবাই অবাক হয়ে যায়।

-মায়া, এমনভাবে কথা বলছ কেন, বাবার সাথে?(রিয়ন)
-কেমন করে বলছি? আমি আমার মতো বলছি। (মায়া রিয়নের দিকে না তাকিয়েই বলে)
-হয়তো ব্যথা পাওয়ার কারণে এমন করছে, তুমি ড্রেসিং করিয়ে দেও, রিয়ন(এরেন)
-ওকে, বাবা,

রিয়ন মায়ার হাতের ক্ষত জায়গাটা পরিষ্কার করে দেয়, আর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মায়ার দিকে তাকায়।
মায়া রিয়নের দিকে না তাকিয়ে ডাইনিং এর দিকে তাকায়, আর এগিয়ে যায়।

-ওই দিকে কোথায় যাচ্ছ?(রিয়ন)
-আমার পিপাসা লেগেছে, ,,

বলেই মায়া ডাইনিং এ রাখা ব্লাডের গ্লাস তুলে নেয়।

-মায়া, ওটা তো, (রিয়ন)
-রিয়ন,কিছু হবে না(এরেন)

এরেনের কথায় রিয়ন থেমে যায়। মায়া গ্লাস হাতে নিয়ে ঢকঢক করে সবটুকু ব্লাড পান করে ফেলে।

-নাউ বেটার, মাম্মা(মায়ের দিকে তাকিয়ে) আমি বাসায় যাব, ঘুম পাচ্ছে। (মায়া)

মায়ার এমন ব্যবহারে সবাই চরম অবাক হয়ে যায়।

-মায়া আমরা তো ইম্পরট্যান্ট কথা বলছিলাম(মি.হাসান)
-কথা পরে বলা যাবে, থাকো তোমরা আমি গেলাম।

বলেই মায়া একাই চলে যায়। যাওয়ার আগে শাহরিয়ারের দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকায়।

-কি হয়েছে, বুঝতে পারছি না। এমন তো কখনো করে না মায়া। কিছু মনে করবেন না, তবে সব ঠিকঠাক, ওরা দুজনই রাজী আমি জানি। আসছি আমরা(মি.হাসান)

মি.হাসান বিদায় নিয়ে চলে যায়। এদিকে রিয়ন তাদের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর শাহরিয়ারের দিকে তাকায়। শাহরিয়ার ভয়ে কাপছে। রিয়ন কিছু একটা ভেবে শাহরিয়ারকে ডাকে,,,

-শাহরিয়ার, চল ঘুমাতে যাই, তুই ভয় পেয়েছিস, আজকে আমি তোর সাথে থাকব। (রিয়ন)

শাহরিয়ার কিছু না বলে ধীর পায়ে এগিয়ে যায় নিজের রুমের দিকে।

In Hasan mansion,

-মায়া, দাড়া, (মি.হাসান)
-কি বলবে, তাড়াতাড়ি বলো (মায়া)
-তোকে কি আমরা ভদ্রতা শিখাই নি? মি.এরেনের সাথে কেমন ব্যবহার করলি তুই?(মি.হাসান)
-ওহ, প্লিজ, আমি এখন যথেষ্ট বড়, কার সাথে কিভাবে ব্যবহার করতে হবে আমি জানি, এসব ফালতু কথা শোনার সময় নেই,আমি গেলাম।

মায়া কাউকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই নিজের রুমে চলে যায়।

The next morning,

রিয়ন ভার্সিটির জন্য রেডি হয়ে ডাইনিং এ আসে, শাহরিয়ার বসে টিভি দেখছিল। হঠাৎ একটা নিউসে তার চোখ আটকে যায়। কিন্তু শাহরিয়ার চ্যানেল পাল্টে ফেলে।

-শাহরিয়ার,আগে চ্যানেলে দে তো। (রিয়ন)

রিয়নের কথায় শাহরিয়ার আগের চ্যানেলে দেয়।

“‘” ব্রেকিং নিউজ, সকালে নদীর ধারে দুটো মৃত লাশ পাওয়া গেছে, যাদের শরীর ফ্যাকাশে নীলবর্ণ ধারণ করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী এবং ডাক্তারের ভাষ্য মতে জানা গিয়েছে যে, এদের শরীরে বিন্দুমাত্র রক্ত নেই। একই সাথে ঘাড়ের কাছে দুটো ছোট গর্ত দেখা গিয়েছে “‘”

এমন নিউস দেখে রিয়ন অবাক হয়ে যায়।

“‘” এটা কি? এগুলো তো ভ্যাম্পায়ার বা ড্রাকুলার কাজ, এর মানে কি? না, আমাকে বের করতে হবে”‘” রিয়ন মনে মনে কথাগুলো বলে।

-শাহরিয়ার, চল (রিয়ন)

রিয়ন শাহরিয়ারকে স্কুলে ড্রপ করে দিয়ে চলে যায়।

In Varsity,

-নিউসটা দেখেছিস?(রেয়হান)
-হুম,দেখেছি। কিন্তু কে করেছে এসব?(স্টিভ)
-আমার মনে হয় নতুন কোন ড্রাকুলা, তবে এর জন্য আমাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে মানুষ জেনে যাবে (রিয়ন)

-ওহ, লুক এট হার, শি ইজ লুকিং ড্যাম হট।

পাশ থেকে একটা ছেলের কথা শুনে রিয়ন, স্টিভ আর রেয়হান আশেপাশে তাকিয়ে দেখে সবাই তাদের পেছনে তাকিয়ে আছে৷
রিয়নও পেছনে ঘুরে তাকায়, আর স্টেচু হয়ে যায়। রাগে তার হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নেয়।

মায়া গেট দিয়ে প্রবেশ করছে, আর সবাই তাকেই কথাগুলো বলছে। এবার আসি তার কারণ কি? কারণ মায়া জিন্সের সাথে ফিটিং শার্ট পরেছে, চুলগুলো ছেড়ে দিয়েছে। অনেকটা ওয়েস্টার্ন টাইপ। যার জন্য তাকে সবাই অইসব বলছে।
এদিকে মায়াকে দেখে দিয়া, আশা আর সিতারাও অবাক। কারম মায়া কখনো এসব ড্রেস পরে না। সবসময় থ্রিপিস, রাউন্ড লং ড্রেস পরে, আর উড়না তো কখনো এদিক সেদিকও হতে দেয় না। স্টিভ আর রেয়হান তাদের চোখ নামিয়ে নেয় নিচের দিকে।

-জিজু, এটা মায়া না, আমি শিউর। (সিতারা)
-আমিও(দিয়া)

মায়া হেসে এসে দাড়ায় তাদের সামনে,

-হাই এভরি ওয়ান (মায়া)
-এসব কি পরেছ মায়া?(রিয়ন রেগে বলে)
-কেন? সুন্দর লাগছে না? সি, শার্টটা কতো সুন্দর। (মায়া)

রিয়ন কিছু না বলেই মায়ার হাত ধরে মায়াকে টানতে টানতে নিয়ে যায় পার্কিং এর দিকে।
জোর করে মায়াকে গাড়িতে উঠিয়ে ড্রাইভ করে চলে যায়, আর একটা নীরব জায়গায় এনে গাড়ি থামায়।

-এখানে কেন আনলে, ডার্লিং?(মায়া)

মায়ার মুখে ডার্লিং কথাটা শুনে রিয়ন আরো রেগে যায়।

-বুঝেছি, রোমান্স করতে রাইট?(মায়া রিয়নের গালে হাত দিয়ে স্লাইড করতে করতে বলে)

রিয়ন এবার আর নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারে না, তাই গাড়ি থেকে নেমে যায়।
মায়াও গাড়ি থেকে নেমে রিয়নের পাশে গিয়ে দাড়ায়, যেই রিয়নকে টাচ করতে যাবে ওমনি রিয়ন মায়ার গালে সজোরে এক চড় বসিয়ে দেয়।

-হোয়াটস রং ইউথ ইউ?মায়া? কি হয়েছেটা কি? কাল রাতেও তুমি বাবার সাথে অভদ্রের মতো আচরণ করেছ, ভেবেছি ব্যথা পাওয়ার কারণে এমন। কিন্তু এসব কি? হ্যা? কি হয়েছে কি তোমার? এসব কি ড্রেস পরেছ? কেমন ব্যবহার এসব?(রিয়ন রেগে চিল্লিয়ে বলে)
-হেই লিসেন, (রিয়নের কলার চেপে ধরে) আমি কি করব নাকি না করব, তার জন্য তোমার পারমিশন নিতে হবে না, আমার যা ইচ্ছা তাই করব৷ ডোন্ট ইউ ডেয়ার টু ইন্টারফেয়া। বয়ফ্রেন্ডের মতোই থাকো, আমার গড হতে এসো না।গট ইট?(মায়া দাঁতে দাঁত চেপে বলে)

রিয়ন এবার আরো অবাক হয়ে যায় মায়ার এই কাজে।
মায়া রিয়নকে ধাক্কা দিয়ে ছেড়ে গাড়ি নিয়ে চলে যায়। রিয়ন তখনো দাঁড়িয়ে আছে, সে যেন বিশ্বাস করতে পারছে না যে মায়া তার সাথে এমন ব্যবহার করেছে।

In Hasan Mansion,

-মায়ু, অই মায়ু (আফনান)
-আফনান তুমি? এসো (মা)
-আন্টি মায়ু কোথায়?(আফনান)
-জানি না(মা)
-জানি না মানে?(আফনান)
-মায়া কেমন অদ্ভুত ব্যবহার করছে। (মা)
-কেমন?(আফনান)
-বসো বলছি

আফনান আর মায়ার মা সোফায় বসে, মায়ার মা আফনানকে সব খুলে বলে। আফনান চিন্তায় পরে যায়।

-আচ্ছা, আন্টি, চিন্তা করবেন না, মায়,,,,(আফনান বাকিটুকু বলার আগেই)
-মা, আফনান এখানে কি করছে?(মায়া রেগে বলে)

মায়ার কথায় সবাই মেইন দরজার দিকে তাকায়। আর আফনান মায়ার ড্রেসাপ দেখে ভালো মতো মায়ার দিকে তাকায়।

-আফনান যেন আমার বাড়িতে আর কখনো না আসে। (মায়া)
-এটা তোর বাড়ি?(আফনান)
-আব,,ব,,হ্যা,, (ঘাবড়ে গিয়ে) অবশ্যই, আমার বাবার বাড়ি। (মায়া)

আফনান কিছু না বলে মায়ার চোখের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। খুব শান্ত ভাবে,,,

-আন্টি, আমি আসছি আজকে (আফনান)

আফনান চলে যায়। আর মায়ার মা মায়ার দিকে একরাশ বিরক্ত নিয়ে তাকায়।

-তুই আমার মায়া না, তুই আমার মেয়ে না (মা)

মায়ার মা কথাটা বলেই চলে যায়। মায়া তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে নিজের রুমে চলে যায়।

At Night,

জংগলে একটা গাছে হেলান দিয়ে চোখ বসে আছে রিয়ন। পেছন থেকে একটা হাত স্পর্শ করে রিয়নের কাধে।

-আফনান, ,,,, (চোখ বন্ধ করেই বলে)

আফনান রিয়নের পাশে বসে।

-তোমার সাথে কি হয়েছে, মানে মায়া কি করেছে, বলো তো, শুনি (আফনান)

আফনানের কথায় রিয়ন চোখ মেলে আফনানের চোখের দিকে তাকায়। আফনান সবটা মুভির মতো দেখতে পাচ্ছে। কিন্তু আফনান অবাক হচ্ছে না।

-রিয়ন, চিনতে ভুল করেছ। (আফনান)
-চিনতে ভুল করেছি মানে?(রিয়ন)

আফনান কিছু বলতে যাবে তার আগেই মায়া সেখানে উপস্থিত হয়।

-রিয়ন, তুমি এখানে? আর আমি কতো জায়গায় তোমাকে খুজেছি। চলো, বাসায় চলো। (মায়া রিয়নের হাত ধরে টান দিয়ে বলে)
-তুমি এতো রাতে এখানে?? কি করছ? আফনান তুমি এনেছ? (রিয়ন)
-না, আমি আনি নি, ওও আবার কারো উপর ডিপেন্ডেড নাকি?(আফনান মায়ার দিকে তাকিয়ে বলে)
-তুমি ওর সাথে কেন, রিয়ন। চলো এখান থেকে (মায়া)

মায়া রিয়নকে টেনে তুলে। রিয়ন বুঝতে পারে মায়ার শরীরে অদ্ভুত এক শক্তি এসেছে,নয়তো রিয়নকে টেনে তুলা তার পক্ষে সম্ভব না।

-রিয়ন? (আফনান)

আফনানের ডাকে রিয়ন পেছনে ঘুরে তাকায়।

-তুমি মায়ার ব্লাড কিং, তুমিই বের করে নাও আমি কি বলতে চেয়েছি।

কথাটা বলেই আফনান ওয়্যারওল্ফের রুপ নিয়ে জংগলে হারিয়ে যায়।
রিয়ন ভাবতে থাকে আফনানের কথা, আর মায়ার দিকে তাকায়। মায়া রাগী চোখে আফনানের যাওয়ার দিকে তাকায়।

-মায়া, চলো। (রিয়ন)

রিয়ন আগে আগে হাটতে থাকে, আর মায়া পেছন পেছন। হঠাৎ রিয়ন থেমে গিয়ে মায়ার হাত ধরে ফেলে৷ হাত ধরতেই মায়া হাত ছাড়িয়ে নেয়।
রিয়ন মায়ার দিকে তাকায়,

“‘” আমি মায়ার মাইন্ড পড়তে পারছি না কেন?'” রিয়ন মনে মনে বলে।

-চলো, একজায়গায় নিয়ে যাই (রিয়ন)
-কিহ? আমক কোথাও যাচ্ছি না, এসব ঘুরাঘুরি ভালো লাগে না (মায়া বিরক্তিকর মুখে বলে)
-তুমি রাতের বেলা কোথাও যেতে পছন্দ করো না? কিন্তই আমার মায়া তো রাতের বেলা আমার বাহিরে ঘুরোঘুরি করতে পছন্দ করে (রিয়ন)
-রিয়ন, সবসময় মুড একরকম থাকে না (মায়া)

রিয়ন আর কিছু না বলেই হাটতে থাকে। একটা ছোট পুকুরের পাশ দিয়ে রিয়নের চোখ যায় পানির দিকে।
কারণ পানিতে মায়ার অবয়ব দেখা যাচ্ছে না।
রিয়ন একটা হাসি দেয়।

-মায়া চলো তোমাকে বাসায় দিয়ে আসি। (রিয়ন)

মায়াকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই রিয়ন মায়ার ঘাড়ে হালকা চাপ দেয়, ফলে মায়া সেন্সলেস হয়ে যায়।
আর তখনি আফনান চলে আসে।

-গুড জব, ভ্যাম্পায়ার প্রিন্স। (আফনান)
-ইউ টু, বাট আমি কেন বুঝতে পারি নি যে এ আমার মায়া না? (রিয়ন)
-কারণ এই ড্রাকুলার শরীরে মায়ার ব্লাড প্রবেশ করানো হয়েছে। (আফনান)
-,,,,,,,,(রিয়ন আরো কিছু শোনার জন্য আফনানের দিকে তাকিয়ে আছে)

রিয়ন আর আফনানের মাঝে কামিলা এসে যোগ হয়।

-আমি সবটা শুনেই বুঝেছিলাম এ মায়া নয়। তাও একটু কনফিউশান ছিল, কিন্তু তা কামিলা ক্লিয়ার করে দেয়৷ (আফনান)
-কামিলা ক্লিয়ার করে মানে?(রিয়ন)
-শোন বলছি তাহলে। গতকাল রাতে আমি নদীর ধার দিয়ে হাটছিলাম,, তখন,,,

Flashback,

-না, প্লিজ আমাকে ছেড়ে দাও, আমাকে মেরো না প্লিজ?

একজন লোক তার সামনের অবয়বের দিকে হাত জোর করে বলছে আর কান্না করছে। কথাটা শুনে কামিলা থেমে যায়, আর তাকায়।
একটা মৃত লাশ পরে আছে নীচে। একটা ড্রাকুলা জীবিত লোকটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে লোভী দৃষ্টিতে।
কামিলা কিছু করার আগেই ড্রাকুলাটি লোকটিকে বাইট করে আর রক্ত শোষে নিতে থাকে।
লোকটিকে বাচাতে চাইলেও আরো খারাপ হবে, কারণ লোকটি ড্রাকুলার বাইটের কারণে ড্রাকুলা হয়ে যাবে।
তাই কামিলা হতাশ হয়ে স্থান ত্যাগ করতে যাবে, ঠিক তখনই আরেক ঘটনা তাকে দাড় করিয়ে দেয়।
ড্রাকুলাটির রক্ত পান করা হলে সে ধীরে ধীরে নিজের রূপ পরিবর্তন করতে থাকে। আর একটা সময় সে মায়ার রূপ ধারণ করে। যা দেখে কামিলা অনেক অবাক হয়ে যায়।

In present,

-আর এতেই বুঝতে পারি, এই দুনিয়ায় মায়া নামে যে, সে মায়া নয় ড্রাকুলা। আর মায়া ড্রাকুলা কিংডমে বন্দী। (কামিলা)
-ইভান,,,(রিয়ন রেগে গিয়ে বলে), তাহলে মায়াকে উদ্ধার করতে হবে, নয়তো,, (রিয়নকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে বলে)
-চিন্তা করো না, আমি আর কামিলা সব দিক দিয়ে প্রস্তুত। তুমি কিং এর অনুমতি নিয়ে আসো, তাই হবে। (আফনান)
-আর, রেয়হান, স্মিথ আর স্টিভকেও আসতে বলিস, বাকিটা আমরা দেখছি (কামিলা)
-থ্যাংক্স ইয়ার(রিয়ন)
-থ্যাংক্স বলিস না, আমার আফনু আবার মাইন্ড করে (কামিলা)
-তোর আফনু?(রিয়ন)
-আব,,কিছু না,,, যা তুই(কামিলা)
-বাহ, ভ্যাম্পায়ার আর ওয়্যারওল্ফ, গ্রেট লাভ স্টোরি উয়ার।

রিয়ন হেসে চলে যায়।

-খুব দরকার ছিল রিয়নকে বলাটা?(আফনান)
-আব,,এই,,এই ড্রাকুলাটাকে কি করব?(কামিলা কথা ঘুরিয়ে)
-বাকি নেকড়েদের দিব। (আফনান)

In Adrin mansion,

রিয়ন বাড়িতে এসে এরেনকে সব বলে।

-কি? এতো কিছু আমি কিং হয়েও বুঝতে পারিনি?(এরেন)
-বাবা, মায়ার ব্লাড ইউস করে করা হয়েছে সব। ইউ নিড টু সেভ হার ফ্রম ইভান। নয়তো,,, (রিয়নকে মাঝ কথায় থামিয়ে দিয়ে)
-আমি জানি, মায়ার ব্লাড দিয়ে উল্টাপাল্টা কিছু করবে। তার থেকেও বড় কথা, মায়ার ক্ষতি হলে তোমার ক্ষতি হবে। (এরেন)
-কিন্তু আমার তো কিছুই হলো না, যতোবার মায়া আঘাত পেয়েছে।(রিয়ন)
-এটা সেই ক্ষতি নয়, রিয়ন। (এরেন)
-তাহলে বলো আমায়, বাবা। প্লিজ (রিয়ন)
-শোন তাহলে,,,

In the past,

মায়া যখন এক্সিডেন্ট করেছিল, তখন মায়াকে এরেন আর ইথান ভ্যাম্পায়ার রাজ্যে নিয়ে আসে।
-কিং, ওকে হাসপাতালে নিতে হবে। (ইথেন)
-নো, ইথেন৷ওর যে অবস্থা, কেউ কিছুই করতে পারবে না। (এরেন)
-তাহলে? কি করব এখন আমরা?(ইথেন)

এরেন কিছু বলতে যাবে তখন মায়ার রক্তের দিকে তার চোখ যায়।

-একে হাফ ভ্যাম্পায়ার হাফ হিউম্যানে পরিণত করা হবে। ভ্যাম্পায়ার রাজ্যে নিয়ে যাও, আমি আসছি।

ইথেন দেরি না করে মায়াকে তুলে নিয়ে বাতাসের বেগে চলে যায়। এরেন উঠে গিয়ে সিতারাদের দিকে এগিয়ে যায়।
সিতারা, আশা আর দিয়ে ফ্রিজ হয়ে আছে।

-অই মেয়েটার বাবার নাম্বার দাও, (সিতারাকে উদ্দেশ্য করে বলে)

সিতারা কাপা হাতে নিজের ফোন এগিয়ে দেয়। এরেন ফোন হাতে নিয়ে মায়ার বাবার নাম্বারে ডায়েল করে। (ফ্যামিলি ফ্রেন্ড, বেস্ট ফ্রেন্ড এদের কাছে ফ্যামিলি নাম্বার থাকে। এইটা নিয়ে কেউ চিল্লাইয়েন না)

কিছু কথা বলার ২০ মিনিট পর দুটো গাড়ি এসে থামে। এরেন কিছু একটা পড়ে সিতারা, দিয়া আর আশার মাথায় হাত রাখে আর তারা অজ্ঞান হয়ে যায়।
এটা করার কারণ হলো, মায়াকে যে হাফ ভ্যাম্পায়ার করা হয়েছে, তা জেন কেউ না জানে।
মি.হাসান গাড়ি থেকে নেমে ড্রাইভারকে দিয়ে আশা সিতারা আর দিয়াকে পাঠিয়ে দেয় বাসায়। গাড়িতে মায়ার মা ও ছিল।

-মি.হাসান, আপনার মেয়েকে বাচাতে হলে এটাই করতে হবে আমাদের। এছাড়া উপায় নেই। (এরেন)
-তাই করুন, কিং, আমি আমার মেয়েকে হারাতে চাই না। (মি.হাসান)
-চলুন আমার সাথে।

এরেন মি.হাসানকে নিয়ে ভ্যাম্পায়ার রাজ্যে যায়।
মি.হাসানকে একটা রুমে রেখে সে রিয়নের রুমে যায়। রিয়ন তার রুমে বসে কিছু একটা করছিল। এরেনকে নিজের রুমে আবিষ্কার করে কিছুটা অবাক হয় রিয়ন।

-ড্যাড, তুমি এইসময়?(রিয়ন)

এরেন কিছু না বলেই রিয়নকেও তার পাওয়ার দিয়ে পুরোপুরি সেন্সলেস করে দেয়, যাকে সেন্সলেস না, গভীর ঘুম বলা হয়।
এরেন কয়েকজন প্রহরীকে দিয়ে রিয়ন আর মায়াকে তাদের ব্লাড রুম (সিক্রেট রুম) – নিয়ে যায়।

-এই ছেলে আবার কে?(মি.হাসান)
-ও আমার ছেলে, রিয়ন। (এরেন)
-কি করতে চাচ্ছেন আপনি?(মি.হাসান)
-হাফ হার্ট ট্রান্সফার। (এরেন)
-হোয়াট?(মি.হাসান কিছুটে রেগে যায়)
-নিজের মেয়েকে জীবিত পেতে চাইলে চুপচাপ দাড়িয়ে থাকুন। (এরেন)

মি.হাসান নিজের রাগ কন্ট্রোল করে চুপচাপ দাড়িয়ে থাকে।
এরেন কিছু একটা পড়তে পড়তে রিয়নের বুক বরাবর কিছুটা অংশ কেটে হৃদপিণ্ড বের করে, আর এক দাসীকে(মেয়ে ভ্যাম্পায়ার) দিয়ে মায়ার হৃদপিণ্ড বের করে নেয়।
দুজনের হৃদপিণ্ডকে একসাথে রাখে আর মাঝবরাবর কাটে আর একটা বক্সে রাখে।

-বক্সের উপর হাত রাখুন (এরেন)

এরেনের কথায় মি.হাসান আর এরেন দুজনই বক্সের উপর হাত রাখে। সেদিন রাতেও ছিল পূর্ণিমা। এরেন এক দাসীকে ইশারা করলে জানালা খুলে দেয়, আর চাঁদের আলো সরাসরি এসে বক্সের উপর পড়ে আর বক্স থেকেও লাল রঙের আলো বের হতে থাকে।
বেশ কিছুক্ষণ পর সব আলো নিভে আসে।
এরেন বক্স থেকে দুটো হৃদপিণ্ড বের করে একটা মায়ার আরেকটা রিয়নের বুকে সেট করে দেয়।
মুহুর্তেই দুজনেরই(রিয়ন & মায়া) ক্ষত চিহ্নটা মিশে যায়।

এরেনের কাজ শেষ হলে রিয়নকে তার রুমে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রহরীদের হুকুম করে।

-শি ইজ সেফ নাউ,বাড়ি নিয়ে যান, দুইদিন পর সেন্স ফিরবে। (এরেন)
-থ্যাংক,,,, (মি.হাসানকে কথার মাঝে থামিয়ে দিয়ে)
-নো নিড টু থ্যাংকস, সময় হলে মেয়ে চেয়ে নিব। (এরেন)

মি.হাসান মুচকি হেসে মায়াকে নিয়ে বাসায় যায়।

In present,

-আর এই জন্যই তোকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। (এরেন)
-কিন্তু ক্ষতি হওয়ার কথা বুঝলাম না (রিয়ন)
-মায়ার হৃদপিণ্ডে ক্রিষ্টাল নাইফ মায়াকে আঘাত করলে,মায়ার সাথে তুইও,,, (এরেন)
-ডোন্ট ওরি, ড্যাড। না হবে মায়ার কিছু, আর না আমার। তুমি শুধু অনুমতি দেও। (রিয়ন)

এরেন মুচকি হেসে ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।
রিয়ন তার বাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে যায়।

In the jungle, in front of Dracula Kingdom,

কামিলা, আফনান আর কিছু ভ্যাম্পায়ার রিয়নের জন্য অপেক্ষা করছিল।

-আসছে না কেন, এখনো?(আফনান)
-এসে পড়েছে, জাস্ট 1 সেকে,,,,,,, (কামিলা)
-এসেছি আমি (রিয়ন)
– প্ল্যান কি?(কামিলা)
-সোজা আক্রমণ, (আফনান)
-আক্রমণ?এটা ঠিক হবে? ওরা তো প্রস্তুতি নিয়েই রেখেছে (কামিলা)
-সেজন্যই তো ডিরেক্ট একশন। প্ল্যান করে কাজ করতে গেলেই মরব। (রিয়ন)
-প্রিন্স, আগে আমরা যাই, আপনারা পিছনে আসুন?(এক ভ্যাম্পায়ার)
-হুম, আইডিয়াটা গুড, কি বলো কিং আফনা,,,,,(রিয়ন)
-নো, এখন তুমি কিং, মায়ার #Blood_King এন্ড অলসো #Lover। নিজের মাঝের হিংস্রতা বের করো।(আফনান)
-হি ইজ রাইট রিয়ন। (কামিলা)

চলবে,,,,,,,,,,,,,,

🔥7 view

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *